পবিত্র রমযান শুরু হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমান এ মাসে রোজা পালন করে থাকেন এবং ধর্মীয় পরিবেশে কাটান। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, রোজার শুরুতেই চড়া নিত্যপণ্যের বাজার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষ করে ইফতার ও সেহরি পণ্য, যেমন পেঁয়াজ, ডাল, ছোলা, সব ধরনের মাংস ও মুরগি ও মাছের দাম অনেক বেড়ে গেছে। গড়ে এসব পণ্যের দাম ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, রমযান শুরুর প্রাক্কালে রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। ইফতারের অপরিহার্য উপকরণ লেবু শসা ওবেগুনের দাম সেঞ্চুরি ছুয়েছে। ফলে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প কাঁচাবাজার, ফার্মগেট, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও ইব্রাহিম কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে চাহিদা বাড়ার সুযোগে বাজারভেদে এসব পন্যের দাম বেড়েছ। রয়েছে দামের ভিন্নতাও। কারওয়ান বাজারের এক পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। তার মতে, পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ এখন কেজি প্রতি ৫৩ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ৪২ থেকে ৪৬ টাকা। খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কাঁচাবাজারে মুরগির চাহিদাও বেড়েছে, ফলে দামও বেড়েছে।

রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। কারওয়ান বাজারের খাসির মাংসের এক ব্যবসায়ী জানান, খাসির মাংস এখন কেজি প্রতি ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ১ হাজার ২৫০ টাকা। উচ্চ চাহিদার কারণেই দাম বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। গরুর মাংসের দামও কেজি প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

খবরে আরোবলা হয়েছে, লেবু, কাঁচামরিচ, টমেটো, শসা ও ধনেপাতার মতো ইফতারসামগ্রীর দামও বেড়েছে। এক হালি লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়, গত সপ্তাহে যা ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৮০ থেকে ২৪০ টাকায়, আগে যা ছিল ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, গত সপ্তাহে যা ছিল ৩০ থেকে ৪৫ টাকা। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে, এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ৬০/৭০ টাকা। শসা ও ধনেপাতার দামও কেজি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

ইফতারের অন্যতম প্রধান আইটেম খেজুরের দামও অনেক বেড়েছে । সর্বনিম্ন দাম কেজি প্রতি ৩৫০ টাকা। ২০০০ টাকা পযর্যন্ত দাম রয়েছে মান ভেদে খেজুরের । ফলের বাজারে স্বস্তি নেই। পাকা পেঁেপ ১৪০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অথচ কয়েক দিন আগে দাম ছিল ৭০ থেকে আশি টাকা। ছোট ছোট চাঁপা কলা ৯০ টাকা ডজন, সবরী ১২০ এবং সাগর কলা মানভেদে আরো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য ফলের দামও চড়া। এসব পন্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ বিশেষ করে রোজাদাররা বিপাকে পড়েছেন।

নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এ সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের চাওয়া অনেক বেশি। আমরা মনে করি বাজারে দ্রব্যমূল্যের এমন লাগামহীন বৃদ্ধির বিষয়টি নতুন নবাগত সরকারকে গুরুত্বের সাথে দেখবে হবে। যে কোন মূল্যে রমযানে দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বাজারে সিন্ডিকেট থেকে থাকলে তা ভাঙ্গার দায়িত্বও সরকারকে নিতে হবে বলে আমরা মনে করি। রমযানে মানুষতে স্বস্তি দেয়ার উদ্যোগ নেবেন সরকার এটাই সবার আশা।