আজ থেকে পবিত্র মাহে রমযান শুরু হয়েছে। নাজাত ও তাকওয়া অর্জনের বারতা নিয়ে আবারো আমাদের মাঝে হাজির হয়েছে এ মহিমান্বিত ও মোবারক মাস। মূলত, রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির মাস পবিত্র মাহে রমযান। নিঃসন্দেহে রমযান হলো সর্বোত্তম মাস। এ মাসে আল্লাহ তায়ালা শ্রেষ্ঠ কিতাব মহাগ্রন্থ আল কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। আর এ জন্যই এ মাসের মর্যাদা সমধিক। রমযান মাস সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘রমযান মাসই হলো সে মাস, যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে। যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ অনুসারীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশক; আর ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোজা রাখবে....। (সূরা আল বাকারাহ, আয়াত-১৮৫)।
হাদিসে কুদসীতে বলা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘বান্দার সব আমল তার নিজের জন্য; কিন্তু শুধু রোজা আমার জন্য। তাই আমি নিজ হাতেই এর প্রতিদান দেব।’ (সহীহ আল বোখারি, হাদিস নং-১৯০৪)। অন্যত্র বলা হয়েছে, রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমযান মাসে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখে এবং নেকি অর্জনের নিয়তে রোজা রাখে, আল্লাহ তার সব গোনাহ মাফ করে দেন।’ (সহীহ আল বোখারি, হাদিস-২০১৪)।
পবিত্র মাহে রমযানকে কুরআনের মাসও বলা হয়। কারণ, এ মাসেই মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল হয়েছে। যা বিশ^ মানবতার জন্য পথ প্রদর্শক। এ মাসে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পেছনে উম্মতের জন্য ইঙ্গিত হলো, তারা যেন বেশি বেশি কুরআন অধ্যয়ন ও গবেষণা করে। জিবরাইল (আ.)-ও এ মাসে রাসূল (সা.)-এর সঙ্গে কুরআন চর্চা করতেন। যে বছর রাসুল (সা.)-এর ওফাত হয়েছিল, সে বছর রমযানে তিনি জিবরাইল (আ.)-কে দু’বার পূর্ণ কুরআনুল কারিমের তেলাওয়াত শুনিয়েছেন। তাই এ মাসের কল্যাণ থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য প্রত্যেক মুসলমানকে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
এ মাস বেশি বেশি কল্যাণ লাভ ও দান-সাদাকাহর মাস। রমযান মাসে রাসূল (সা.)-এর দানশীলতা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে যেত। তিনি যখন দান করতেন, তখন অনেক বেশি বেশি দান করতেন। যখন কাউকে সাহায্য করতেন, এমনভাবে করতেন, যেন সে আর দরিদ্রতাকে ভয় না পায়। তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত এমাসে বেশি বেশি দান-খয়রাত করে আল্লাহ তায়ালার সন্তষ্টি অর্জন করা।
মূলত, এ মহিমান্বিত মাস দোয়া কবুল ও নাযাতের মাস। তাই এই মোবারক মাসে সিয়াম ও কিয়াম পালনের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার কাছে বেশি বেশি চাইতে হবে। মানুষ যাতে তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি লাভ করতে পারে এজন্যই সিয়ামকে আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় করে দেয়া হয়েছে। কালামে পাকে মহাঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর। যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সূলা আল বাকারা, আয়ত-১৮৩)।
বর্ষপরিক্রমায় আমাদের মাঝে আবারও ফিরে এসেছে পবিত্র মাহে রমযান। তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত এমাসের কল্যাণকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো। আর এই মধ্যেই রয়েছে বিশ^ মানবতার ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি। আহলান সাহলান মাহে রমযান!