ভয়ঙ্কর মরণফাঁদ হয়ে দেখা দিয়েছে গ্যাসের লিকেজ। অহরহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। লাইনের জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে ঝলসে যাচ্ছে মানুষের শরীর। দৈনিক সংগ্রামসহ পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, মানহীন সিলিন্ডার গ্যাসের বিস্ফোরণে ঘটে চলছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সর্বশেষ চট্টগ্রামে হালিশহরে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে মারা গেছেন একই পরিবারের ৫ জন। এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস লিকেজ ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুর্ঘটনা অব্যাহত থাকায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারে শিগগিরই বৈঠকে বসছে স্বাস্থ্য, শিল্প ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।

প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম জানান , এসব দুর্ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে দেশের গ্যাস সরবরাহ লাইন ও সংযোগ কতটা ভঙ্গুর ও ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বাসাবাড়িতে গ্যাসলাইন বসানোর কাজ করে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। কিন্তু তারা একবার লাইন বসানো ও সংযোগ দেওয়ার পর খোঁজও নেয় না, সেটি কী অবস্থায় আছে।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রামে হালিশহরে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৩ জনে দাঁড়ায়। মঙ্গলবার রাতে আরো ২ জনের মৃত্যু হয়। তবে বাকিদের অবস্থা আশংকাজনক। গত সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিশহর এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় একটি বাড়িতে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জন দগ্ধ হন।

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মঙ্গলবার গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারী শিশুসহ একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার ভোরে কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌর এলাকার বলদাখাল এলাকার একটি ভবনের নিচতলায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। রাজধানীর হাজারীবাগ রায়েরবাজার এলাকার সোমবার ভোরে একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের শিশুসহ ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. মামুন জানান, হাজারীবাগে রায়েরবাজার জাহানারা ভিলার ৬ তলার নিচতলায় ভাড়া বাসায় গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে আগুন লেগে যায়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা টেক্সটাইল মিলের কাছে চুলকাটার সেলুনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ সেলুন মালিক মিন্টু ৫দিন পর মারা গেছে।

আমরা মনে করি গ্যাস লিকেজে ও বিস্ফোরণে এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা রোধে এখনই ব্যবস্থা নেয়া উচিত। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটু সচেতনতা আর গ্যাস ডিটেকটর নামের যন্ত্রটি ঘরে স্থাপন করে নিলেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব এ রকম মারাত্মক দুর্ঘটনার হাত থেকে। কিন্তু শুধু প্রচারের অভাবে গ্যাস ডিটেকটর যন্ত্রের কার্যকারিতা বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারে শিগগিরই বৈঠকে বসছে স্বাস্থ্য, শিল্প ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। আমরা মনে করি এটি একটি ভাল উদ্যোগ। আমরা মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই। এর মাধ্যমে গ্যাসজনিত দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।