স্বাধীন দেশে সবার কথা বলার অধিকার আছে, তবে সঙ্গত কথাই আমাদের কাম্য। সঙ্গত কথা, অধিকারের কথা যে শুধু নাগরিক কিংবা বিরোধীদলের লোকেরাই বলবেন, তা কিন্তু নয়; সরকারের লোকজনও সঙ্গত কথা বলতে পারেন এবং সেটা বলাই তাদের কর্তব্য। প্রসঙ্গত সুপ্রদীপ চাকমার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ এক অপরূপ বৈচিত্র্যের দেশ। জাতিগত ও ধর্মীয় এ বৈচিত্র্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার একটি শান্তিকামী, সত্যনিষ্ঠ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে। গত শুক্রবার রাজধানীর বেইলি রোড অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সপ্রদীপ চাকমা এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা সবাইকে সরস্বতী পূজা উৎসবের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এ দেশ আমাদের সবার। কেউ এককভাবে বা নিজের খেয়ালখুশি মতো দেশের ক্ষতি করতে পারবে না। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশে বিদ্যমান সম্প্রদায়িক সম্প্রতির প্রশংসা করেন। সুপ্রদীপ চাকমা সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে কথা বলেছেন এবং নাগরিকদের দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। শান্তিকামী, সত্যনিষ্ঠ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ আমাদের কাম্য। তবে লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য প্রয়োজন উদ্যোগ ও আয়োজন। দায়িত্বটা সরকারের ওপর বর্তালেও এখানে আরও অংশীজন আছেন। ছাত্র-জনতা ও রাজনীতিবিদদের করণীয় আছে। আর বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ভূরানীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াও আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। সুপ্রদীপ চাকমাতো বাংলাদেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করলেন। কিন্তু কেউ কেউতো ভিন্ন কথাও বলছেন। সমাজের দুষ্ট লোকের বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে তারা বড় করে তুলছেন, রাজনৈতিক বিতন্ডাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেয়ারও চেষ্টা করছেন। এর সাথে প্রতিবেশি দেশের বিজেপি ঘরানার রাজনীতিক ও কিছু মিডিয়াকে আমরা যুক্ত হতে দেখেছি। ৫ আগস্টের পর এ প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তবে বাংলাদেশ ও বিশ্বের গণমাধ্যমে তাদের মুখোশ উন্মোচিত হওয়ার পর নেতিবাচক প্রোপাগান্ডায় কিছুটা ভাটা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এখন বাংলাদেশের আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশী চক্রান্তকারীদের অশুভ তৎপরতা আবার নতুন করে শুরু হয়েছে। অশুভ এমন তৎপরতার শুধু প্রতিবাদ নয়, যোগ্য জবাবও আমাদের দিতে হবে।

সুপ্রদীপ চাকমা বলেছেন, ধর্মীয় বৈচিত্র্যই আমাদের বড় শক্তি। বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজন মিলেমিশে বসবাস করে আসছেন। এটাই আমাদের ঐতিহ্য। কখনো কখনো কিছু দুর্বৃত্ত এ ঐতিহ্যে কালিমা লেপনের চেষ্টা করে থাকে। এদের ইন্ধন জোগায় দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা। সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও এদের প্রতিরোধে পালন করতে হবে দৃঢ় ভূমিকা। ৫ আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী ঘরানার রাজনীতির প্রতি জনসমর্থন বৃদ্ধির ঘটনাকে বিশেষ মহল নেতিবাচক দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করছেন। তাঁরা বলছেন, বাংলাদেশে উগ্রপন্থার উত্থান ঘটেছে। প্রশ্ন হলো, ইসলামে উগ্রপন্থার কোনো অবকাশ আছে কী? মুসলমানরা হলেন মধ্যপন্থার উম্মত। আসল ঘটনা হলো, ফ্যাসিবাদী আমলে জুলুম-নির্যাতনের কারণে জনগণ ইসলামী রাজনীতির প্রতি তাঁদের সমর্থনের কথা ব্যক্ত করতে পারেননি। এখন মুক্ত পরিবেশে সমর্থনের কথা ব্যক্ত করছেন তাঁরা। এটাকেই অন্যপক্ষ এখন বলতে চাইছেন, উগ্রপন্থার উত্থান। ব্লেমগেমকে গুরুত্ব দেয়ার কোন কারণ নেই। বৈচিত্র্যের ঐক্যকে ইসলাম সমর্থন করে। এপথেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।