নীতির দুর্দিন চলছে বর্তমান সভ্যতায়। ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র এবং বৈশি^ক পরিম-লে লক্ষ্য করা যাচ্ছে নীতিহীনতার দৌরাত্ম্য। ব্যক্তির চাইতে রাষ্ট্র অনেক বড়, ফলে রাষ্ট্রের ভ্রষ্টনীতির প্রভাব ব্যাপক। এতে ক্ষতির মাত্রা হয় ভয়াবহ। বর্তমান সময়ে অস্ত্রসম্ভারে সমৃদ্ধ দেশগুলো নীতিভঙ্গের ব্যাপারে বেপরোয়া। নিজ দেশের পবিত্র সংবিধানের বিধিবিধানকেও ক্ষমতাসীনরা মান্য করে না। জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার পরও সংস্থাটির নিয়ম-নীতি ও আহ্বানকে উপেক্ষা করে চলছে শক্তিমান রাষ্ট্রগুলো। অকল্পনীয় ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে চলেছে যুদ্ধাপরাধী রাষ্ট্র ইসরাইল। অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মধ্যেই যেন দেশটির আনন্দ। এবার সোমালিয়াকে নিয়ে শুরু হয়েছে নেতানিয়াহু সরকারের আরেক ষড়যন্ত্র।
বিশে^র প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল ‘সোমালিল্যান্ডকে’ স্বাধীন দেশের স্বীকৃতি দিল ইসরাইল। গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার এ ঘটনা ঘটে। ইসরাইলের এ ঘোষণার পর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সোমালিয়া। দেশটির দাবি, এটি তার সার্বভৌমত্বের ওপর ‘ইচ্ছাকৃত আক্রমণ’, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইসরাইলের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা নেই তার। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরো বলেন, বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা হবে। তবে ইসরাইলের এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তীব্র নিন্দা ও আপত্তি জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। সোমালিল্যান্ডের মতো বিচ্ছিন্ন অঞ্চলকে স্বীকৃতি দেয়াকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকির শামিল বলে মন্তব্য করেছে মিসর। বিষয়টি নিয়ে সোমালিয়া, তুরস্ক ও জিবুতির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদুল আতি। তুরস্ক বলেছে, সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়া একটি বেআইনি পদক্ষেপ, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ইসরাইলের পদক্ষেপকে আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের বিরুদ্ধে ইসরাইলের বিপজ্জনক তৎপরতা বলে মনে করছে দেশগুলো। আফ্রিকান ইউনিয়ন ইসরাইলের স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করে সতর্ক করেছে যে, এটি মহাদেশজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সুদূরপ্রসারী প্রভাবসহ বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এদিকে আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রধান মাহমুদ আলী ইউসুফ জোর দিয়ে বলেন, সোমালিল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য এবং সোমালিয়ার ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’। আরবলীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইছ ইসরাইলের সিদ্ধান্তকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লংঘন এবং রাষ্ট্রগুলোর ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব নীতির স্পষ্ট লংঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ইসরাইলের উদ্যোগকে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির গুরুতর লংঘন এবং সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লংঘন বলে অভিহিত করেছেন।
সোমালিল্যান্ডকে ইসরাইলের স্বীকৃতি প্রদানের তৎপরতায় কোনো কা-জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায় না। বরং একে ষড়যন্ত্রমূলক ও বিপজ্জনক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করতে হয়। ফিলিস্তিনে আগ্রাসী ও অপরাধমূলক তৎপরতার মাধ্যমে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এক অস্থির ও অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছে ইসরাইল। এখন আবার সোমালিল্যান্ডে নাক গলিয়ে নতুন আর এক বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়েছে ইসরাইল। এ তৎপরতা আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। কিন্তু এ ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি বললেন? তিনি বললেন, এখনই ইসরাইলের সিদ্ধান্ত তিনি অনুসরণ করছেন না, তবে বিষয়টি তিনি পর্যালোচনা করে দেখবেন। কি অদ্ভুত বক্তব্য! ইসরাইলের সিদ্ধান্ত কী অনুসরণ করার মত কোনো বিষয়? ইসরাইলের বেআইনি ও আক্রমণাত্মক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোই ছিল সঙ্গত। তাহলে কি ইসরাইলকে আর একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগ দিতে চান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প?