প্রচন্ড শীতে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যায়, গরম পানি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার তৈরী সবকিছুই গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। আর আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশই গ্যাসনির্ভর। গ্যাস জ্বালানির মূল উৎস।
কিন্তু দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ মাত্র ২৭০ কোটির ঘরে। চাহিদা-সরবরাহের এ অসমতা নগরবাসীর নিত্যজীবনে দুর্ভোগ ডেকে আনছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়ালে কিছুটা স্বস্তি মিললেও, বাসাবাড়িতে রান্নার চুলা জ্বলে না- যা আরও ভোগান্তির জন্ম দেয়। যারা দিন আনে দিন খায়, কিংবা সামর্থ্য আছে তা সত্ত্বেও দুবেলা দুমুঠো খেতে পারছে নাÑ এই গ্যাস সংকটের কারণে। চুলা জ্বালাতে এবং রান্না করতে পারছে না।
এ সংকট শুধু গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুৎ চাহিদার কারণে নয়, এর পেছনে আছে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে অবহেলা, ভুল নীতিনির্ধারণ এবং আমদানিনির্ভর এককেন্দ্রিক জ্বালানি কাঠামো। এমনকি সিএনজি খাতও চাপ সৃষ্টি করছে।
তাই এখনই সময় বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার। শীতের সময় তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় পাইপলাইনে তরল পদার্থ জমে গ্যাস প্রবাহের চাপ কমে যায়।
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, বিকল্প উৎস খুঁজতে হবে এবং উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনতে হবে , সর্বোপরি উৎপাদন বাড়াতে হবে।
তবেই শীতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট থেকে মুক্তি মিলবে, না হয় সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও গ্যাস সংকটে ভুগতে হবে নগরবাসীকে।
-ফিয়াদ নওশাদ ইয়ামিন
শিক্ষার্থী, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ মিডিয়া কমিউনিকেশন এন্ড জার্নালিজম ডিপার্টমেন্ট।