# হাদী ও দীপু দাস হত্যা মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে # আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না

কখনোই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা যাবে না এবং সিম ও ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করে নাগরিককে নজরদারি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এমন ধারা রেখে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশের সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ সেবার মানবৃদ্ধি, এর রেগুলেশন এবং রাষ্ট্রের সার্ভেইলেন্স কাঠামোতে গঠনমূলক পরিবর্তন আনা হয়েছে। গতকাল বুধবার উপদেষ্টা পরিষদে সংশোধিত এই অধ্যাদেশ পাস হয়। পরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাদেশের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। অধ্যাদেশের সংশোধনের মধ্যে যে প্রস্তাবগুলো রাখা হয়েছে সেগুলো হলো-

ইন্টারনেট বা টেলিযোগাযোগ সেবা কখনোই বন্ধ করা যাবে না এরকম বিধান রাখা হয়েছে। ২০১০ সালের বিতর্কিত সংশোধনের কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে বিটিআরসির স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির ক্ষমতা এবং কার্যপরিধির মধ্যে ভারসাম্য আনা হয়েছে। আগে সব লাইসেন্স ইস্যুর অনুমোদন মন্ত্রণালয় থেকে হলেও, এখন থেকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু লাইসেন্স মন্ত্রণালয় ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টাডির ভিত্তিতে অনুমোদনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে। অন্য সব লাইসেন্স ইস্যু করার এখতিয়ার বিটিআরসির কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির সভাপতিত্বে একটি ‘জবাবদিহিতা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লাইসেন্সের আবেদন থেকে শুরু করে সিদ্ধান্ত পর্যন্ত সময় কমানো হয়েছে। এছাড়া আগের আইনে বর্ণিত উচ্চ জরিমানা, রিকারিং জরিমানা কমানো হয়েছে, যা টেলিযোগাযোগ খাত বিনিয়োগবান্ধব করবে। এখন থেকে প্রতি চার মাসে বিটিআরসিকে গণশুনানি করতে হবে, তার ফলোআপ ওয়েবসাইটে রাখতে হবে এবং কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট রোধেও বিধান রয়েছে। এতে আরও জানানো হয়, সিম ও ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করে কোনো নাগরিককে নজরদারি বা অযথা হয়রানি করা আইনত দ-নীয় অপরাধ করা হয়েছে। ‘স্পিচ অফেন’ সম্পর্কিত নিবর্তনমূলক ধারা পরিবর্তন করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ধারাবাহিকতায় কেবল সহিংসতার আহ্বানকেই অপরাধের আওতাভুক্ত রাখা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ সেবার ক্ষেত্রে আপিল এবং সালিশ বিষয়ক ধারা রাখা হয়েছে। ‘সেন্টার ফর ইনফর্মেশন সাপোর্ট প্রতিষ্ঠা’ করা হয়েছে।

আইনানুগ ইন্টারসেপশনের সংজ্ঞা এবং পরিধি স্পষ্টভাবে এবং সুবিস্তারে আইনে নির্ধারিত করা হয়েছে। কেবল বিচারিক ও জরুরি আইনানুগ ইন্টারসেপশনের প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘সেন্টার ফর ইনফর্মেশন সাপোর্ট’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা বাধ্যতামূলকভাবে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশের মানদ- অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খল, জরুরি প্রাণরক্ষার প্রয়োজনে, বিচারিক বা তদন্তের প্রয়োজন এবং আন্তঃসীমান্ত সংক্রান্ত কাজে সুনির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করে আইনানুগ ইন্টারসেপশন করতে পারবে। এই কাজ কেবল আইনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত নির্দিষ্ট কিছু সংস্থা, সেটিও কেবল নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের মধ্যে করতে পারবে। ‘সেন্টার ফর ইনফর্মেশন সাপোর্টের (সিআইএস)’ মাধ্যমে রোল বেজড অ্যাকসেস কন্ট্রোল ও আধা বিচারিক কাউন্সিলের অনুমোদন ব্যতীত ইন্টারসেপশন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।

নতুন গঠিত সিআইএস (সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট) নিজে কোনো ইন্টারসেপশন পরিচালনা করতে পারবে না, এটি কেবল কারিগরি সহায়তা দেবে। ‘সেন্টার ফর ইনফর্মেশন সাপোর্ট প্রতিষ্ঠা’র জন্য বর্ণিত সংশোধনের মাধ্যমে এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার) বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আইনানুগ ইন্টারসেপশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আধাবিচারিক কাউন্সিল ও সংসদীয় তদারকির বিধান আনা হয়েছে। কাউন্সিলের নিকট বেআইনি ইন্টারসেপশন এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা যাবে।

আধাবিচারিক কাউন্সিল আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী (সভাপতি), প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নিয়ে গঠিত হয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি আইনানুগ ইন্টারসেপশন বিষয়ে প্রতি বছর একটি জাতীয় বার্ষিক প্রতিবেদন জনগণের নিকট প্রকাশ করবে, যাতে ইন্টারসেপশনের ক্ষেত্রসমূহসহ বর্ণিত থাকবে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রতি বছর কার্যক্রম বাজেট এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা যাচাই করবে। এছাড়া ইমেজ এবং ভয়েস প্রোটেকশন, সিম ডেটা এবং ডিভাইস ডেটা প্রোটেকশনের বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের অধীন সব ব্যবস্থাপনা জাতিসংঘ, আইটিইউসহ আন্তর্জাতিক উত্তম অনুশীলনের সহিত সামঞ্জস্য থাকবে।

অধ্যাদেশটি ২০ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নীতিগত অনুমোদন পায়। এরপর স্বরাষ্ট্র, অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বুধবারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় তোলা হয়। সেখানে তা চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

গতকাল ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৫ প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক ও যুগ-উপযোগী করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে, দেশের টেলিকমিউনিকেশন ও ইন্টারনেট অবকাঠামো স্থিতিশীল ও নিরাপদ থাকবে। অধ্যাদেশে বিটিআরসির ক্ষমতা, কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা সুসংহত করা হয়েছে। গ্রাহকের তথ্য গোপনীয়তা নিশ্চিত করা এবং প্রতারণা ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

শফিকুল আলম বলেন, নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে বিটিআরসি কার্যকরভাবে কাজ করবে। দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। নতুন অধ্যাদেশ দেশকে আধুনিক, নিরাপদ ও প্রতিযোগিতামূলক টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেবে।

সম্প্রতি শিক্ষাক্ষেত্রে প্রাধান্য ও নিরাপত্তা নিয়ে ক্যাবিনেটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচিত হয়েছে। এ আলোচনায় স্থানীয় উৎপাদন, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, কোয়ালিটি এডুকেশন, রুরাল ডেভেলপমেন্ট এবং স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও ছিল।

প্রেস সচিব বলেন, শিক্ষা খাত, বিশেষ করে শিক্ষার মান উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। অতীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হলেও শিক্ষার মানের দ্রুত অবনতি ঘটেছে, বিশেষ করে আগের কর্তৃত্ববাদী সময়কালে। এই প্রেক্ষাপটে এখন শিক্ষার মান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেন অধ্যাপক ইউনূস। গ্রামীণ উন্নয়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, চলতি বছর কৃষকেরা রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদন করেছেন। তাদের জীবনমান উন্নয়নে বাজেটে আরও বেশি সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকা-ের তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ওসমান হাদির বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করছে। সবগুলো নিরাপত্তা সংস্থা এ নিয়ে কাজ করছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস নামের এক পোশাককর্মীকে পিটিয়ে হত্যা এবং একপর্যায়ে গাছে ঝুলিয়ে লাশে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাসহ আরও কিছু বিষয় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন ,শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার দীপু চন্দ্র দাসের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, পুরো সরকার দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারের সঙ্গে আছে। যা যা করা দরকার, তা করা হবে। আর আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এ মামলার বিচার হবে দ্রুত বিচার আইনে।

তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রেস সচিব জানান, তারেক রহমানের দেশে আগমনকে স্বাগত জানাই। তার নিরাপত্তার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে যেরকম নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে সরকার তার ব্যবস্থা করছে। দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলায় জড়িতদের মধ্যে ৩১ জনকে গ্রেফতারের কথা জানান শফিকুল আলম। এছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন প্রধান উপদেষ্টা।

সাংবাদিক সম্মেলনে দেশের মূল্যস্ফিতি নিয়েও কথা বলেন শফিকুল আলম। তিনি জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।