আসন্ন ত্রিয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সাইবার আক্রমণ এখন নিয়মিত কৌশল। ভোটের আগে ও ভোট চলাকালে ডি-ডস আক্রমণ, ভোটার ডেটা হ্যাকিং, সমন্বিত গুজব, বট নেটওয়ার্কের ব্যবহার এবং ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করার ঘটনা ঘটছে।

এবিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহাকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব গত মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সেমিনারে বলেছিলেন নির্বাচনের আগে বড় ধরণের সাইবার হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে।

এ সাইবার হামলার শিকার হতে পারে ভোটার তথ্যভাণ্ডার, নির্বাচন কমিশনের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, সরকারি ওয়েবসাইট, রাজনৈতিক দলের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য।

ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব আরও বলেছিলেন, নির্বাচনের আগে আর্থিক খাতসহ দেশের বিভিন্ন সেক্টরে বড় ধরনের সাইবার হামলা হ‌ওয়ার আশঙ্কা আছে। এ অবস্থায় তিনি সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সবাইকে নতুন করে ভাববার আহ্বান জানান।

ওই সেমিনারে তিনি আরও বলেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতাদের ওপর সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তথ্য এখন সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র, আর সেই তথ্য যদি সুরক্ষিত না থাকে, তাহলে পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। উন্নত দেশগুলোও সাইবার হামলার ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। ভোটার ডেটাবেইস হ্যাক, ফলাফল ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট অচল করে দেওয়া, কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করা—এমন ঘটনা বিভিন্ন দেশে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর আস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচন-পরবর্তী অস্থিরতা, সহিংসতা ও রাজনৈতিক বিভাজনের পেছনেও সাইবার মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের বড় ভূমিকা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে নির্বাচন কমিশনের ভোটার ডেটাবেস, ফলাফল সংগ্রহ ও প্রকাশের ডিজিটাল সিস্টেম, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যভাণ্ডার এবং গণমাধ্যমের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমন্বিত গুজব, ভুয়া পোস্ট ও কৃত্রিম ভিডিও এখন সবচেয়ে বড় হুমকি।

বিশ্বের সাম্প্রতিক নির্বাচনের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, নির্বাচন ঘিরে সাইবার আক্রমণ এখন নিয়মিত কৌশল। ভোটের আগে ও ভোট চলাকালে ডি-ডস আক্রমণ, ভোটার ডেটা হ্যাকিং, সমন্বিত গুজব, বট নেটওয়ার্কের ব্যবহার এবং ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করার ঘটনা ঘটছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতা থেকে বাংলাদেশ আলাদা নয়।

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উদাহরণও এই ঝুঁকির বাস্তবতা দেখায়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মলদোভা নির্বাচনের সময় দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন, সরকারি ক্লাউড সিস্টেম এবং প্রবাসী ভোটার-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটগুলো একাধিক ডি-ডস ও সাইবার আক্রমণের লক্ষ্য হয়।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডোরিন রেচিয়ান এসব হামলাকে ‘ব্যাপক সাইবার আক্রমণের অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ওই সময় সংবাদপত্র ও নাগরিকের অংশগ্রহণমূলক সাইটগুলোও টার্গেট হয় এবং হাজার হাজার ওয়েবসাইট ব্লক করতে হয়।