গত ১৭ জানুয়ারি দৈনিক সংগ্রাম প্রকাশনার ৪৯তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এই দিনটি ছিল দৈনিকটির প্রতিষ্ঠার ৫৪তম বার্ষিকীও। ১৯৭০ সালের এই দিনে সংগ্রামের জন্ম হয় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পর আওয়ামী লীগ পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়, র্যাঙ্কিন স্ট্রীটে অবস্থিত ২৩ কাঠা জমির উপর নির্মিত তার ভবন এবং প্রেসও বাজেয়াপ্ত করে। সরকার পরিবর্তনের পর ১৯৭৭ সালে সংগ্রাম তার বর্তমান ঠিকানায় পুনঃমুদ্রিত হতে শুরু করে। সংগ্রামের এই দীর্ঘ যাত্রাপথে তাকে সংগ্রাম করেই অগ্রসর হতে হয়েছে। তার ইতিহাস অনেকে জানেন অনেকে জানেন না।
১৯৬৬ সাল। তখন ঢাকা শহর জামায়াতের আমীর ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার খুররম জাহ্ মুরাদ। শহর অফিস ছিল সিদ্দিক বাজারের কাওসার হাউস নামক একটি ভবনে। ঐ ভবনের পার্শ্বে প্রাদেশিক জামায়াতের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের অফিস এবং বাসভবনও ছিল। প্রাদেশিক জামায়াতের অফিস ছিল কোর্ট হাউস স্ট্রীটের বিপরীত দিকে ১৩নং কারকুনবাড়ী লেনে। নিখিল পাকিস্তান জামায়াতের আমীর মাওলানা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া তোফায়েল মোহাম্মদ দু’জন মিলে প্রথমবারের মতো পূর্ব পাকিস্তান সফরে আসেন। এর আগে তারা একত্রে আসেননি। আলাদা আলাদাভাবে এসেছিলেন। তাদের আগমন উপলক্ষে কাওসার হাউসে জামায়াতের কর্মী সমর্থকদের একটি সমাবেশের ব্যবস্থা করা হয়। এই সমাবেশে আমীরে জামায়াতের নিকট ইসলামী আন্দোলনের মুখপত্র হিসেবে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের পুরো সময়টাই ছিল বামপন্থী চীন-রাশিয়ার সমর্থক ও অর্থপুষ্ট কমিউনিস্ট সমাজতন্ত্রী এবং উগ্র আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ধর্মনিরপেক্ষ সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিকদের দখলে। ইসলামপন্থীদের মধ্যে দুটি ভাগ ছিল। একটি ভাগ ইসলামকে সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রব্যবস্থাকে কল্যাণধর্মী ও ইসলামীকরণের উদ্দেশ্যে কাজ করতেন। তাদের দৃষ্টিতে ইসলামে রাজনীতি ফরজ। আরেকটি গ্রুপ বিশ্বাস করতেন ইসলামে রাজনীতি হারাম। এদের মধ্যে অনেক আলেম-ওলামা, পীর-মুর্শেদ ও বুজর্গ ব্যক্তিও ছিলেন। কালেমাপন্থীদের অনৈক্য ও বিভক্তি এবং কমিউনিস্ট সমাজতন্ত্রীদের ইসলাম ও ইসলামপন্থী হক্কানী দলগুলোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং ষড়যন্ত্র, তাদের ওপর হামলা-সন্ত্রাস প্রভৃতি তখনকার দলগুলোকে বিষিয়ে তুলেছিল। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরা ও দাওয়া তৎপরতা চালানোর জন্য সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকের অভাব ছিল প্রচণ্ড। তখনকার দিনে দুটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘জাহানে নাও’ এবং ইংরেজি সাপ্তাহিক ‘Young Pakistan’ এ ক্ষেত্রে কিছুটা ভূমিকা পালন করলেও প্রায় ২৩টি দৈনিকের অপপ্রচার এবং রেডিও ও টেলিভিশনে প্রচারিত নাটক-নাটিকা, আলোচনা-কথিকা প্রভৃতি ইসলাম বিদ্বেষীদেরই অবস্থানকে মজবুত করেছে। জনাব আবদুল খালেকের সম্পাদনায় পঞ্চাশের দশকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ ক্ষণিকের জন্য আশার সঞ্চার করলেও টিকে থাকতে পারেনি। এই অবস্থার আলোকে কাউসার হাউসের ঐ সম্মেলনে মরহুম মাওলানা মওদূদী ঢাকায় একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের ব্যবস্থা করার জন্য খুররম জাহ্ মুরাদকে দায়িত্ব দেন। এই পত্রিকার একটি Umbrella Organisation গঠনেরও তিনি পরামর্শ দেন। তিনি আরেকটি সংস্থা প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করার দায়িত্বও তাকে দেন। সেটি হচ্ছে ইসলামী জীবনব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণা পরিচালনা, আরবি, ফার্সি, উর্দুসহ বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত বই-পুস্তকের অনুবাদ ও প্রকাশের জন্য একটি ইসলামী গবেষণা একাডেমি, ১৯৬৮ সালে ৪২-৪৩ পুরানা পল্টনে একটি দোতলা বাড়িতে এই একাডেমিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
সংগ্রামের কথায় ফিরে আসি। সংগ্রামের Umbrella Organisation বা প্রকাশনা সংস্থা হিসেবে ইস্ট পাকিস্তান পাবলিকেশন্স নামে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠিত ও নিবন্ধিত হয় ১৯৬৯ সালে। এর শেয়ারহোল্ডার ছিলেন ৪২ জন। এর প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন বাসাবো এলাকার বাসিন্দা জনাব হারুনুর রশীদ। দৈনিক সংগ্রামের প্রথম চেয়ারম্যান জনাব খুররম জাহ্ মুরাদ। সংগ্রামের সম্পাদক হিসেবে যাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল তাদের মধ্যে প্রধানতম ছিলেন কবি ফররুখ আহমদ। তারপর জনাব নূরুজ্জামান। ফররুখ সাহেব রেডিও পাকিস্তানে চাকরি করতেন। সংগঠনের সিদ্ধান্ত ছিল অন্যান্য মিডিয়ায় (প্রিন্ট বা ইলেক্ট্রনিক) যারা আছেন তাদেরকে সেখানেই রাখতে হবে। এই নীতি অনুযায়ী তিনি বাদ পড়লেন। জনাব নূরুজ্জামান পাকিস্তান অবজারভারের সিনিয়র সহসম্পাদক ছিলেন। তিনিও বাদ পড়লেন। কাজেই তৃতীয় সোর্স থেকে সম্পাদক নির্বাচনে গিয়ে তৎকালীন কায়েদ আজম কলেজের (বর্তমান শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ) বাংলা বিভাগের প্রধানতম অধ্যাপক মাওলানা আখতার ফারুক নিয়োগ পেলেন। আমার যতদূর মনে পড়ে বার্তা সম্পাদক হিসেবে মীর নূরুল ইসলাম, সহকারী সম্পাদক হিসেবে মাওলানা জুলফিকার আহমদ কিসমতি ও জনাব আবুল আসাদ নিযুক্ত হন। ফিচার এডিটর হিসেবে জনাব আবদুল মান্নান তালিব, শাহীন শিবিরের পরিচালক হিসেবে জনাব শামছুল হক (শাহীন ভাই), সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে অধ্যাপক মতিউর রহমান যোগদান করেন। খুররম জাহ্ মুরাদ সংগ্রাম এবং ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি দুটি প্রতিষ্ঠানেরই চেয়ারম্যান ছিলেন। বিশিষ্ট চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট জনাব এসএম হুমায়ুন সংগ্রামের জেনারেল ম্যানেজার নিযুক্ত হন। সংগ্রামের সেটআপ ও প্রশাসনিক হাইরারকি নির্ণয়ের ব্যাপারে অন্য যারা অর্থ সংস্থানসহ অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন তাদের মধ্যে সৈয়দ ফয়য়াজুদ্দিন উদ্দিন এবং বগুড়ার নাজির আহমদ সাহেবের নাম উল্লেখ না করলে নয়। জনাব নাজির আহমদ ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের এমবিএ ডিগ্রিধারী হাতেগোনা স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তির মধ্যে একজন। সদাহাস্যোজ্জ¦ল আরেকজন নীরব কর্মী ছিলেন জনাব বদরে আলম পঞ্চাশের দশকের কৃষি বিষয়ক স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ভারতের শিবপুর কৃষি কলেজের ছাত্র। অধ্যাপক গোলাম আযম, মাওলানা আবদুর রহীম, আবদুল খালেক, আব্বাস আলী খান, মাওলানা এ কে এম ইউসুফ, আব্দুল খালেক মজুমদার, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মাওলানা আবদুল জাব্বার, ব্যারিস্টার কোরবান আলী, ব্যারিস্টার আখতারুদ্দীন, এডভোকেট শেখ আবদুল লতিফ, অধ্যাপক মাওলানা হেলাল উদ্দিন, ইয়ং পাকিস্তান ও ঢাকা প্রেস সিন্ডিকেট সম্পাদক আজিজ আহমদ বিলিয়ামিনিসহ ইসলামী আন্দোলনের অগণিত নেতাকর্মীর সম্মিলিত দোয়া, পরিশ্রম ও ত্যাগের ফসল দৈনিক সংগ্রাম। আমরা তাদের ভুলিনি। দু-একজন ছাড়া এরা প্রায় সকলেই এখন পরলোকে। আমরা দোয়া করি আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করুন। ১৯৭৭ সালে পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে যাদের অবদান অনস্বীকার্য তাদেরও আমরা স্মরণ করি। লেখক, কলামিস্ট ও সাংবাদিকদের ত্যাগকে আমরা অভিনন্দন জানাই।
ইসলামী আন্দোলন বলুন অথবা ইসলামী রাষ্ট্র কিংবা মুসলিম সালতানাত, তাদের ঐতিহাসিক সূচনালগ্ন থেকেই খবরপত্র বা সংবাদপত্র তাদের অন্যতম সহযোগী হিসাবে কাজ করেছে। রাসুল (সা.)-এর জামানা, খোলাফায়ে রাশেদীন ও তৎপরবর্তী খলিফাদের আমল, উসমানীয় সাম্রাজ্য ও মোগল সাম্রাজ্যের সম্রাটরাও গেজেট আকারে খবরপত্র প্রকাশ করতেন। এই সময়ে সংবাদ সংগ্রাহক বা রিপোর্টার হিসেবে যারা কাজ করতেন তাদেরকে সাহিব আল খবর, গুপ্তচর বা এজেন্ট হিসেবে অবহিত করা হতো। রাষ্ট্র বা সাম্রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের অবস্থা, দ্রব্যমূল্য ও তাদের জীবনযাত্রার মান, বৈরী শক্তির কার্যকলাপ, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের চরিত্র ও আচার-আচরণ, বিচারবিভাগের অবস্থা প্রভৃতি সম্পর্কে খবর সংগ্রহ করে সরকারকে সরবরাহ করা এদের কাজ ছিল। যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের দেয়া তথ্য বিশেষ করে শত্রুদের অবস্থান ও গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে কৌশল নির্ধারণ করা হতো। মুগল সম্রাট হুমায়ুন তার পাঠাগারে খবরপত্র বা গেজেট পাঠের জন্য সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় তা ভেঙ্গে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
পবিত্র কুরআনে সংবাদপত্রের নিরপেক্ষতার মূলনীতি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে মুশরিকরা যখন তোমাদের কাছে কোনও খবর আনে তখন তার সত্যতা যাচাই না করে তোমরা তা গ্রহণ করো না। এই নীতি সার্বজনীন। দৈনিক সংগ্রামের জন্মলগ্ন থেকেই পত্রিকাটি ও তার উদ্যোক্তা শুভানুধ্যায়ীরা বৈরী শক্তির জুলুমের শিকার। ১৯৭০ সালের ১৮ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে তৎকালীন জামায়াতের একটি সভা আহ্বান করা হয়েছিল। এই সভায় মাওলানা মওদূদী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার কথা ছিল। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী এই সভাটি প- করে দেয়। ছাত্রলীগ ক্যাডার সৈয়দ কামালুদ্দিন ওরফে ফিররুর (পরে রক্ষীবাহিনীর মেজর) নেতৃত্বে এই হামলায় তিন ব্যক্তি নিহত এবং শতাধিক লোকা আহত হন। সত্য ও নিরপেক্ষতার প্রতীক হিসেবে দৈনিক সংগ্রামের প্রকাশনা শুরু করাটাই ছিল তাদের দৃষ্টিতে অপরাধ। পরদিন ঢাকার সবগুলো পত্রিকায় ব্যানার হেডিং-এ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয় যে, পল্টনে মিটিং ডেকে জামায়াতের গুণ্ডারা নিরপরাধ শ্রোতাদের উপর হমলা করেছে। শুধুমাত্র দৈনিক সংগ্রামের রিপোর্টই ছিল ব্যতিক্রম। তাতে সন্ত্রাসী বাহিনী কিভাবে স্টেডিয়ামের ছাদে উঠে শ্রোতাদের উপর ইটা বর্ষণ করেছে, পরে নীচে নেমে এসে শ্রোতাদের লাঠিপেটা ও প্যান্ডেলে অগ্নিসংযোগ করেছে তার বিস্তারিত বিবরণ ছিল। সংগ্রাম সেই দিন থেকে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে।
সংগ্রামের সমস্যা অনেক। আর্থিক সমস্যা, জনবল সমস্যা, প্রচার বা কাটতি সমস্যা। বর্তমানে সংবাদপত্র একটি শিল্প, এই শিল্পের জন্য মূলধন প্রয়োজন। পুঁজিপতিরা পর্যাপ্ত মূলধন বিনিয়োগ করে বৃহৎ সংবাদপত্রের মালিক হচ্ছেন। তাদের প্রচার সংখ্যাও তারা বাড়াতে পারেন, সংগ্রাম তা পারে না। এই পত্রিকাটি সরকারি বিজ্ঞাপন পায় না, সরকারের বিরূপ মনোভাবের কারণে বেসরকারি বিজ্ঞাপনও খুব কম। বিপিএলএর তিনটি ভবন শাসক দলের স্থানীয় সন্ত্রাসীরা দখল করে নিয়েছিল। এখনো পরিপূর্ণ দখলমুক্ত হয়নি। প্রচার সংখ্যা বাড়লে বেসরকারি বিজ্ঞাপন বাড়তে পারে। উদ্যোক্তা সংস্থা ও এর ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন কিন্তু এখানে অগ্রগতি সন্তোষজনক বলে মনে হয় না। পত্রিকা চালানোর ব্যাপারে মুসলমানদের ইতিহাস খুব সুখকর নয়। ১৯৩৬ সালে দৈনিক আজাদ বাংলা ও আসামের মুসলমানদের মুখপত্র হিসাবে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি কোলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৪৯ সালে ‘সাধু সাবধান’ শিরোনামে একটি সম্পাদকীয় লেখার অজুহাতে পত্রিকাটি সরকারি রোষানলে পড়ে এবং সরকারি বিজ্ঞাপন থেকে বঞ্চিত হয়। তার রিপোর্টারদের ব্যবস্থাপক সভায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। অনেক সংগ্রাম করে পত্রিকাটি আশির দশক পর্যন্ত টিকে ছিল, নব্বই এর দশকের শুরুতে তা বন্ধ হয়ে যায় এবং তার ভবন বিক্রি করে দেয়া হয়। পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি ইত্তেহাদ নামে একটি দৈনিক প্রকাশিত হয় এবং তৎকালীন জামায়াত সেক্রেটারি আবদুল খালেক এর সম্পাদক ছিলেন। পত্রিকাটি টিকেনি। মাওলানা আব্দুল মান্নান এরপর জমিয়তে মোদারেরসীনের মুখপত্র হিসেবে ইনকিলাব প্রকাশ করেন। তিনি মাদরাসাগুলোর কাছ থেকে এককালীন তিন বছরের চাঁদা নিয়ে কাজ শুরু করেন। পত্রিকাটি এখনো বেঁচে থাকলেও তার প্রচার সংখ্যা ধস সেমেছে। দাম কমিয়ে নয়াদিগন্ত প্রচার সংখ্যা বৃদ্ধির চেষ্টা করেছে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে সফল হলেও এখন পত্রিকাটি বিরাট অর্থসংকটে আছে। ছাত্রছাত্রী ও মূলধারার ইসলামী আন্দোলনের সাথে বর্তমানে প্রায় পৌণে চার কোটি কর্মী সমর্থক সম্পৃক্ত রয়েছেন। বাধ্যতামূলকভাবে তাদেরকে দিয়ে সংগ্রাম পড়ানো সম্ভবপর নয়। তবে এরা ইচ্ছা করলে সংগ্রামকে তার সংকট নিরসনে সহযোগিতা করতে পারেন। এদের মধ্যে যদি ১ কোটি কর্মী-সমর্থক জনপ্রতি ১০ টাকা করে চাঁদা দেন তাহলে ১০ কোটি টাকার একটি তহবিল সৃষ্টি হয়, ২০ টাকা করে দিলে ২০ কোটি টাকা যা সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করে বিভিন্ন সংকট নিরসনে ব্যবহার করা যেতে পারে। দক্ষ জনবলের বিষয়টিও আশু সমাধানের দাবি রাখে।