বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি মানুষের ভোটের অধিকার ও বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। আমরা চাই ন্যায়, আমরা চাই পরিবর্তন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বিএনপি প্রত্যেকটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। অতীতে সব কাজ করা সম্ভব হয়নি এবং সব সময় সুবিচার করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে ৩১ দফা প্রণয়ন করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির মূল চাবিকাঠি। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আগামী প্রজন্মের রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বাবলম্বিতা এবং সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাবো। দৈনিক সংগ্রামের ৫১ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক সংগ্রামের সিনিয়র রিপোর্টার মোহাম্মদ জাফর ইকবাল।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি ভূমিকা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৬ বছর আমরা দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমরা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে এখনো রাজপথে আছি। বর্তমানে আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জাতিকে একত্রিত করছেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকেও ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে আমরা ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়েছি। এখন দেশে ফিরে একটা গণতান্ত্রিক পথের জন্য লড়াই করছেন তিনি। জনগণ একটি ইনসাফভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র দেখতে চায়। আমরা সেই কাজটিই করছি। তিনি বলেন, একজন নাগরিকের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগের অন্যতম প্রধান উপাদান হচ্ছে নির্বাচন। প্রতিটি নাগরিক যাতে নিজের কথা নিজে বলতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করার স্বার্থে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিকে অগ্রাধিকার দেয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে বলব, এমন কিছু করবেন না, যাতে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়। ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে এমন অবস্থা তৈরি করবেন না, যে অবস্থায় আবার সেই ফ্যাসিস্ট হাসিনা কোনো সুযোগ পায় দেশে ফিরে আসার।

আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপির পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভয়াবহ দানবীয় ফ্যাসিস্ট শাসনের পরে একটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি। আগামী দিনে জনগণের রায়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বিএনপি প্রত্যেকটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। অতীতে সব কাজ করা সম্ভব হয়নি এবং সব সময় সুবিচার করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে ৩১ দফা প্রণয়ন করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির মূল চাবিকাঠি। ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামত এই ৩১ দফার আলোকে গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসাবে আগামী প্রজন্মের রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বাবলম্বিতা এবং সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাবো। তিনি আরও বলেন, সবার অধিকার নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণে তার দল বদ্ধপরিকর। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যাবে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।

বাংলাদেশ কি ফ্যাসিবাদ উত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর দেশের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পেতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। জনগণ দেশের জন্য রক্ত ঝরিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। এখন তারা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে মতামত প্রদানের মাধ্যমে তাদের অধিকার ফিরে পেতে চায়। কিন্তু এটা সত্য যে দেশে বর্তমানে একটি অস্থির পরিস্থিতি চলছে। অনেক নির্ধারিত বিষয় এখন অনির্ধারিত ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য জরুরি রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা দরকার। অন্তর্বর্তী সরকার সবার সমর্থনে গঠিত হলেও রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনের যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা কতদূর এগিয়েছে, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। আমরা জনপ্রতিনিধি চাই।

তিনি আরও বলেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। বিএনপি নেতাদের হত্যার ঘটনায় সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা বলতে চাই, এ ধরণের কোনো ষড়যন্ত্র হলে বিএনপি আবার রাজপথে নেমে আসবে। হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের বর্তমান নানা সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে পারছে। যেসব কথা বললে জুলুম-জবরদস্তির শিকার হতে হতো, এমনকি গুম হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত, তা অনায়াসে বলা যাচ্ছে। একটি শক্তি ফ্যাসিবাদের স্মারক আইকনগুলো মুছে ফেলতে চাইছে। তিনি বলেন, শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী অপশক্তি রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ নিতে ওত পেতে রয়েছে। কাজেই এ ব্যাপারে সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। কারণ দেশের রাজনীতি একটা বিভ্রান্ত অবস্থার মধ্যে চলে যাচ্ছে। মানুষের আকাক্সক্ষা, চাওয়াটা কিন্তু আমরা সঠিকভাবে ধরতে পারছি না। এমন কিছু কাজ হচ্ছে, যার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে। আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।

দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিক্ষা ও নৈতিক অবক্ষয়ের মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেছে তার ক্ষত সারাতে আগামী কতো যুগ আমাদের অপেক্ষা করতে হবে জানা নেই। শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষ তার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশ লাভ করে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর প্রথমেই দেশের শিক্ষাখাতে নজর দেন। বিএনপির ঘোষণাপত্রের ২১ নং ধারায় বাংলাদেশে একটি ‘গণমুখী ও জীবননির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম’ চালুর প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। শিক্ষাখাতে শহীদ জিয়ার এই অবিস্মরণীয় কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রাখেন তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া। যোগ্য, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বিশেষভাবে অর্থ বরাদ্দ করা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফলে সমাজে অস্থিরতা ও নৈরাজ্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিএনপি গণমাধ্যম, একাডেমিক-কারিক্যুলাম, সঠিক ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা এবং ইতিবাচক সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় প্রতিরোধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, দেশের দারিদ্র্য-পীড়িত, দুঃস্থ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামোগত সুযোগ বঞ্চিত এলাকাগুলো তৃণমূলে জরিপের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হবে। এসব এলাকার হত-দরিদ্র মানুষগুলোকে স্বল্পমেয়াদী বৈষয়িক সাহায্য দিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয়া হবে। বিএনপি দরিদ্রবান্ধব ও সমতাভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বাসী। প্রবৃদ্ধির হারকে বৃদ্ধি করে এবং এর সুফলের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে বিএনপি ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যের সমস্যাকে মোকাবেলা করবে। আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চাই। বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, ঝুঁকিমুক্ত অভিবাসন নিশ্চিতকরণ ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুচিন্তিত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিশেষ করে সীমান্ত সমস্যা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আমি চাই। ভারত যদি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব চান, তবে আগে তিস্তার পানি দেন। সীমান্ত হত্যা বন্ধ করুন। আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি আছে, তার জন্যে সেখানে স্বচ্ছ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কিন্তু বিগত সময়ে আমরা দেখেছি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করেছে দিল্লি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভোটারবিহীন প্রতিটি নির্বাচনকে সমর্থন করেছে তারা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে অন্য দেশের ন্যায় ভারতের সাথেও বিএনপি সম্পর্কটা দৃঢ় করতে চান। তারা যদি চায়, শুধু বড় দাদা না হয়ে বন্ধু হবে, তাহলেই সমাধান সম্ভব। দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কারও সঙ্গে কোনো সম্পর্ক চায় না বিএনপি। আমি মনে করি, যেহেতু ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তারা আমাদের সহায়তা করেছেন, তাই আরও বেশি করে আপনাদের বাংলাদেশকে সহায়তা করা দরকার।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে বর্ষিয়ান রাজনীতিক মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনাকে সব সময় স্বাগত জানায়। সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং গঠনমূলক ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচকের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সে দায়িত্ব পালনে বিএনপি সর্বদা স্বচেষ্ট থাকবে। কিন্তু গত ফ্যাসিস্ট শাসনে দেখেছি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলতে কিছুই ছিল না। গণমাধমগুলো আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদকরা রক্তাক্ত ও লাঞ্চিত হয়েছেন। বিতর্কিত তথ্য প্রযুক্তি আইনের দ্বারা অনেককে গ্রেফতার ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিতর্কিত ধারা বাতিল করা হবে। বিএনপি সৎ সাংবাদিকতার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করবে এবং চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনি হত্যাসহ সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার নিশ্চিত করবে। বিএনপি একটি স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করতে চায়, প্রয়োজনে গণমাধ্যম সংস্কারে কমিশন গঠন করবে। বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিতে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা ও তা বিকাশের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে বাকি সব পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। হাসিনাও অনেক মিডিয়া বন্ধ করেছিল। তিনি বলেন, এখনো গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ধ্বংস করতে কিছু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও উস্কানিদাতা অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে ফিরতে চাইলে অপরের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে মূল্য দিতে হবে।

আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপির পরিকল্পনার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের তরুণ চেতনার জাগরণ। যেখানে ন্যায়বিচার, সমান সুযোগ এবং সুশাসনের দাবিই নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এ আন্দোলন প্রমাণ করেছে, তরুণরা কেবল প্রতিবাদী নয়, তারা দেশের গঠনমূলক পরিবর্তনের স্থপতি। তারা জানে, একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন শিক্ষা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি দক্ষতা এবং নৈতিক নেতৃত্বের সংমিশ্রণ। তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন এক নেতার প্রতিচ্ছবি, যিনি অতীতের আদর্শকে আধুনিকতার সঙ্গে যুক্ত করে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করেন। তার নেতৃত্বের দর্শন কেবল রাজনীতির সীমায় আবদ্ধ নয় বরং এটি এক আধুনিক, নৈতিক ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রগঠনের দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার কেন্দ্রে থাকতে হবে তরুণদের-তবে সেই তরুণ হতে হবে শিক্ষিত, নৈতিক, প্রযুক্তিদক্ষ ও দেশপ্রেমিক। যেখানে মানবিকতা ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটবে।

তিনি বলেন, প্রশাসনে নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করাও বিএনপির অন্যতম অঙ্গীকার। আমরা চাই একটি সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার নয়, বরং জনসেবা হবে মূলনীতি। বিএনপি মনে করে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠিত হলে দুর্নীতি কমবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং নাগরিকের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের দায়িত্ব পেলে বিএনপি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে । নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

৫১ বছরে দৈনিক সংগ্রামের অবদান ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, দৈনিক সংগ্রাম তাদের যে উদ্দেশ্য তথা ‘সত্যের সংগ্রামে নিবেদিত’ শ্লোগান নিয়ে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে। অতীতেও যেভাবে গণতন্ত্র, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, বাক স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার নিয়ে সত্যের পক্ষে কাজ করেছে, সামনেও সেটি অব্যাহত রাখবে বলে মনে করি। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সবসময় গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারে বিশ্বাস করে। আমরাই দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলাম। আমার প্রত্যাশা, আপনাদের পত্রিকা বাধাহীনভাবে সত্যের স্বপক্ষে লড়াই করে যাবে। দেশ ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য মঙ্গল হবে, সেটিই তুলে ধরবে। আমি এবং আমার দলের পক্ষ থেকে আপনাদের উত্তোরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি।