হে হাদি
আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন
হে! ওসমান গণি হাদী,
তুমি চির বিপ্লবী তুমি উন্নত শির
তুমি চির সাহসী মেধাবী কর্ণধার
তোমার গুনগানে শব্দ নেই বর্ণণার।
তুমি আযাদ করেছো কোটি প্রাণ।
তোমার বক্তৃতায় সাঈদ মুগ্ধ নজরুল শাহজালালের ঘ্রাণ।
তুমি তীতুমীর তুমি আবরার
তুমি হাজার প্রাণে ফিরে আসবে বারবার।
তোমার হুংকারে কেঁপেছে সিংহাসন
পালিয়েছে খতিব দালালদের শক্ত আসন।
তুমি আছো থাকবে সবার হৃদয়ে
তুমি আলোর পথে রাহবার চলেছো নির্ভয়ে।
তোমার স্মরে কোটি কোটি জনতা
তুমি যা পেরেছো যা দেখিয়েছো তা পারিনি
অবনত মস্তকে তোমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি,,
রক্তে থাকে লেখা
শেখ ফাহমিদা নাজনীন
বলতো সবাই, কিচ্ছুটি আর ঘটবে না খুব ভালো,
জন্মভূমির কপাল জুড়ে জ্বলবে না আর আলো।
বলতো সবাই, চলতো সবাই, মগের মুলুক ভেবে,
দেশপ্রেমের মুর্দাটি হায় ক্রমেই যেত দেবে।
চলায় ত্রুটি, বলায় ত্রুটি, নিয়ত ত্রুটি ভরা,
সাপের মত পেচিয়েছিল দুঃখ এবং জ্বরা।
একটু যাদের মনের ভেতর ভালোর হাওয়া আসে,
ফ্যাসিবাদের কুশাসনে তারাও বাঁচে ত্রাসে।
ফিরে ফিরে ডিসেম্বরে বিজয় দিবস এলে,
সঙ সাজা সব দেশপ্রেমিকের দারুন দেখা মেলে।
সঙের শাসন, সঙের আসন, কান্না-হাসি মেকি,
অরুণ তরুণ ডুবন্ত হায়! জ্বলবে আবার সে কি!
ছন্নছাড়া দেশকে নিয়ে বন্ধ করি ভাবা,
ঘরের কোণে জিকির করি, কপাল খোঁজে কাবা।
প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত যখন, জন্মভূমি ডোবে,
পিঠ দেয়ালে ঠেকেই গেল, তরুণ জ্বলে ক্ষোভে।
ডিসেম্বরের ষোলো তারিখ চব্বিশে ফের জাগে,
জুলাই মাসের প্রত্যহ দিন বিজয় দিবস লাগে।
ফ্যাসিবাদী পালিয়ে গেল পাকিস্তানীর মত,
দেশপ্রেমের প্রলেপ পেল কুশাসনের ক্ষত।
বিজয় দিবস, বিজয় দিবস রক্তে থাকে লেখা,
বিজয় দিবস কাকে বলে? জুলাই মাসে শেখা।
পানি
সানজিদা সারবিন তুহিন
পানি লাগবে? পানি?
আজ তোমাদের রক্ত ধুয়ে দেবো!
পানি লাগবে? পানি?
তপ্ত বুকে শান্তি দিতে
প্রাণ জুড়িয়ে দেবো!
সব হারা মন শান্তি পাবে
ঝাঁজরা বুকটা শান্ত হবে,
দিক- বিদিকে ছুটছো যারা
আলোর পাখীর খোঁজে!
নাওগো পানি!” মুগ্ধ “ আমি
আজরাইলের ডাক পড়েছে
শুষ্ক জমিন আবাদ করায়
রেখে গেলাম পানি!
রেখে গেলাম পানি!
রেখে গেলাম পানি!
বিচার হইবোই
উম্মে কুলসুম সাবিনা
একটা বিচার চাইতে চাইতে
আমরা আরেকটা লাশ হাতে পাই
চিৎকার করে হাইসা উঠে শকুন।
১৭ বছরের জইমা থাকা সকল
বিচার তো হইলো ।
আমরা তো জানি বিচার হয় হইবোই।
যার কাছে চাই সে করে না।
বিচার হয় রক্তাক্ত প্রান্তরে।
আশারা চোখেমুখে চিকচিক কইরা উঠে।
বিচার হবে হয় হইতেই হইবো ।
আজকে হয় বিচার ওরা করবো নয় কালকে ওদের বিচার হইবো।
তবুও মাঝে মধ্যে বুকের মধ্যে জুলাই এর ঘ্রাণ আঘাত কইরা উঠে
স্মৃতি লাল, তীব্র ঝাঁঝালো ,জীবন্ত!
আমরা ভাবছিলাম হাদী ভাই এর বিচার দিয়ে জুলাই পূর্ণতা পাইবো
কিন্তু তারা তা তো হইতে দিতাছে না!
বিচার হয় হইবোই! ইনশাআল্লাহ।
বিচার হইবে রক্তাক্ত প্রান্তরে!
জুলাইয়ের অগ্নিশিখা
ফারিয়া আহমেদ
জুলাইয়ের রক্তসূর্য জ্বলে যায় বুকে,
আমার স্মৃতির মাঠে লাশের গন্ধ লেগে থাকে-
ঝড় তখনো থামেনি,
থামেনি চোখের জ্বালা,
রাস্তায় রাস্তায় এখনো ধ্বনিত হয় সেই চিৎকার.....
“বুকের ভেতর অনেক ঝড়,
বুক পেতেছি গুলি কর।”
আমি দেখেছি--
তরুণ রোদে ভিজে যাওয়া মুখ, যে মুখগুলো আজ শুধু ছায়া, শুধু ধোঁয়া;
অস্ফুট গুলির শব্দে কেঁপে উঠা ভোর,
আর রাতের গর্ভে লুকিয়ে থাকা অশ্রুর গান...
“ আসছে ফাল্গুনে, আমরা কিন্তু দ্বিগুন হব।”
“আওয়াজ উডা বাংলাদেশ।”
তোমার হাতের লেখা পোস্টারে এখনো দেয়ালে দেয়ালে জ্বলে--
“তুমি কে? আমি কে?
রাজাকার!রাজাকার!
চাইতে গেলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার।”
‘বিদ্রোহ’! শব্দটা আজও রক্তে মিশে
আর শিকল ভাঙার স্বপ্ন দেখে প্রতিটি পাথর!
“রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়।”
জুলাই তো শুধু মাস নয়--
একটি ইশতেহার,
একটি শপথ,
একটি আগুনের গল্প....
হয় মৃত্যু, নয় মুক্তি!
যে আগুনে পুড়েছে ভয়,
আর জন্ম নিয়েছে নতুন সূর্য।
আমি সেই সূর্য দেখেছি
আমার চোখের সামনে
ঝরে পরা রক্তে রাঙা হয়ে
“গোলামি না আজাদি,
আজাদি আজাদি!”
জুলাই আমার না,
তবু জুলাই আমাকে একটি মশাল দিয়েছে--
যেটা জ্বালিয়ে রাখি প্রতিটি অন্ধকারে,
আর ভাবি,যারা শহিদি তামান্না নিয়ে চলে গিয়েছে --
“তারা কি ফিরবে আর-যে তরুণ অরুণ গেছে অস্তাচলে।”