গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়েছে। একজন মানুষও মারা যায়নি। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারা দেশ থেকে তেমন কোন সহিংসতার খবর আসেনি। কিন্তু খেলা শুরু হয় রাত ৮টার পর ভোট গণনা এবং ফলাফল আসা শুরু হতেই। ‘স্মার্ট ইলেকশন বিডি’অ্যাপ এ দেশের ভোটকেন্দ্রগুলো থেকে স্বয়ক্রিয় প্রক্রিয়ায় আসা ফলাফলে যখন দেশবাসী প্রত্যক্ষ করলো অধিকাংশ কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের থাকার খবর আসছে। এর কিছুক্ষণ পরই বন্ধ হয়ে গেলো অ্যাপটি। একই সাথে দেশের ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার অন লাইন সংষ্করণে সরাসরি ফলাফল ঘোষণায় শুরু হলো ভানুমতির খেলা। ঢাকা- ৮,১৩.১৫,১৭ আসনের ফলাফল ঘোষণায় পুনঃগণনার নামে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং উত্তেজনা। সারা দেশের বিভিন্ন আসনে ১১ দলীয় জোটের নেতাদের বিজয়ী ঘোষণার পর, আবার গণনা এবং তারপর পাল্টে গেলো ফলাফল। জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের আসন-১৫ এর সব কেন্দ্রের ফলাফলের বদলে একটি বিশেষ কেন্দ্রের অর্থাৎ আংশিক ফলাফল ঘোষণা চলতে থাকলো বিরামহীনভাবে। বিভ্রান্তির ধ্রুমজালে জনমনে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলো বিতর্কিত। তারপর ‘হস্তি প্রসব করিলো মুষিক।’ যাদুর ছোঁয়ায় অনেক কিছুই উল্টে গেলো।
২১২ আসনে বিএনপি ও নেতৃত্বাধীন জোট (১২ বা ১৪ বলা মুশকিল, কারণ দলগুলোর অধিকাংশই নিজেদের অস্তিত্ব একাকার করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছে)। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭ আসনে নিয়ে শক্তিশালী অবস্থান ও দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে দেশের স্বার্থ কাজ করার ঘোষণা দেয়ার পর জনগণ মনের ক্ষোভ মনে রেখে শান্ত হলো। বিএনপি সত্যি ভাগ্যবান, জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি শক্তিশালী বিরোধীদল তারা পেয়েছে। কিন্তু তারপরও প্রশ্ন সচেতন নাগরিকদের মনে- এমন সৌভাগ্যের সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে তারা কি পারবে সুখী সমৃদ্ধশালী ইনসাফপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে? কারণ ৩৬ জুলাই বিপ্লব নিয়ে বিএনপির অবস্থান জনমনের তুষের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে।
জুলাই বিপ্লবীদের কলিজায় ছুরিকাঘাত
জনগণের প্রত্যাশার প্রথম ধাক্কা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় অনিয়ম, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর অভিযোগের পরও তড়িঘড়ি নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশ। যে সব আসনে ইঞ্জিনিয়ারিং এর অভিযোগ আছে, নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিলো, তদন্তের পর সেই আসনগুলো গেজেটের অন্তর্ভুক্ত করা। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তার আগেই তড়িঘড়ি করে গেজেট ঘোষণা করে বিষয়টি জটিল করে ফেলেছে। এরআগে মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাইয়ে ঋণখেলাপি ও দ্বৈতনাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন দ্বৈআচরণ করেছে। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ হলেও উল্লেখিত বিষয়গুলোর কারণে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে সংশ্লিষ্টদের।
দ্বিতীয় ধাক্কা আসে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের দিন গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার। সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ এবং তার আলোকে সংবিধান সংস্কারে গণভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষের গণরায়ের পিঠে ছুরিকাঘাত করে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়া দল বিএনপি। সেই গণরায়ের পিঠের ছুরিকাঘাত আসলে গিয়ে লাগে ৩৬ জুলাই বিপ্লবের বিপ্লবীদের কলিজায়। বিএনপির এমপিরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া থেকে বিরত আছেন। অথচ ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ ভোটের মধ্যে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৩২ হাজার ৮৭১ ভোট পেয়েছে । অন্যদিকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন নাগিরক।
সবচেয়ে বড় কথা জুলাই বিপ্লবীদের রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়েছে। ফাঁসির মঞ্চ ও যাবজ্জীবনদণ্ড মুক্ত হয়ে নির্বাচন ও সরকার গঠন করার সুযোগ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অসংখ্য নেতা। তারা ভুলে গেছেন, দার্শনিক গেয়র্গ ভিলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেগেলের বিখ্যাত উক্তি, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না।’
ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলেই বিপদ
বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, একুশে অগাস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত (বর্তমানে ভারমুক্ত) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এসব মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি মামলার বিচার শেষে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। আর কিছু মামলা স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। তবে, কোন মামলাতেই তিনি সাজা ভোগ করেন নি। তাকে পলাতক দেখিয়ে বিচার হয়েছে এসব মামলার। বিএনপির আইনজীবীদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে এসব মিথ্যা মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১৭টি মামলা হয়েছে। পরবর্তীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ২১শে অগাস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, অর্থ-পাচার এবং সারা দেশব্যাপী মানহানির মামলাসহ আরো অন্তত বিশটির বেশি মামলা হয় বলে জানান আইনজীবীরা। তবে, মি. রহমানের বিরুদ্ধে প্রকৃত মামলার সংখ্যা এখনো জানে না দলটি। আইনজীবীরা বলছেন, মানহানির অভিযোগে দেশের প্রত্যেক জেলায় মামলা হয়েছে। যেগুলো সম্পর্কে এখনো সেভাবে জানা যায় নি।’ (বিবিসি বাংলা-২১ আগস্ট ২০২৪)।
তারেক রহমানকে সিরাজুদৌলাহর মতো দেশপ্রেমিক গণ্য করেই বলা যায়, নবাব সিরাজের সাথেই ছিলেন, তার পতনের খলনায়ক মীরজাফর,উমিচাঁদ জগৎশেঠরা।
তিনি তাদের ফাঁদে পড়ার কারণেই জাতিকে দুইশত বছর ব্রিটিশদের গোলামী করতে হয়। তারেক রহমানের বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিঃসন্দেহে দেশপ্রেমিক এবং বুদ্ধিমান রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন, কিন্তু তার সাথে থাকা ভারতের এজেন্টরা তাকে গণতন্ত্রের বাণী শুনিয়ে ফ্যাসিস্ট স্বৈরশাসক শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যাকে দেশে এসে রাজনীতি করার সুযোগ দিতে বাধ্য করেছিলেন। অথচ পৃথিবীর অতি উদার গণতান্ত্রিক বলে পরিচিত জার্মানী,ইতালি, আমেরিকা, ও ইউরোপের দেশগুলোতেও চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট ও তাদের দর্শনের সমর্থকদের রাজনীতির অনুমতি নেই। জার্মানীতে হিটলারের দল শুধু নয়, বংশধরদের জন্যও রাজনীতি নিষিদ্ধ। ইতালিতে মুসোলিনির সমর্থকদের উত্থানও কঠোরভাবে দমন করা হয়। আমেরিকা ও ইউরোপেও গণতন্ত্র বিরোধী ফ্যাসিস্টরা নিষিদ্ধ। করো বিরুদ্ধে এমন ইঙ্গিত পেলে গ্রেফতার, অভিযোগ প্রমাণ হলে শাস্তি থেকে নিস্তার নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভারতীয় চক্রে পড়ে ফ্যাসিস্টবিরোধী অবস্থান ভুলে হাসিনাকে দেশে এসে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়ার মাত্র ১৭ দিনের মাথায় শাহাদাত বরণ করেন। আমরা চাই না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিহাসের এ শিক্ষা ভুলে দেশ ও জাতির সর্বনাশ ডেকে আনুন। পর্যবেক্ষকদের এমন আশংকার কারণ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সদস্য নেয়া থেকে বিরত থাকা এবং কার্যনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অফিস খোলার হিড়িক।
ইতিহাস নির্মম হয়ে ফিরে আসে
ইতিহাসের শিক্ষা ভুলে গেলে কী হয় সে সম্পর্কে ভয়ানহ সতর্ক বাণী উচ্চারণ করেছেন, দার্শনিকরা। জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কসের একটি বিখ্যাত উক্তি হলো: “ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে ,অর্থাৎ ফিরে আসে; প্রথমবার ট্র্যাজেডি (বিয়োগান্তক নাটক) হিসেবে এবং দ্বিতীয়বার প্রহসন (ফার্স) হিসেবে।” সেই ট্র্যাজেডি ও প্রহসন থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজে মুক্ত থাকবেন এবং দেশ ও জাতিকেও মুক্ত রাখবেন- এটাই তার কাছে জাতির প্রত্যাশা।
জাতি আর প্রহসনের শিকার হতে চায় না, মর্মান্তিক রক্তাক্ত বিয়োগান্তক নাটক বা ট্র্যাজেডির মঞ্চায়ন দেখতে চায় না।
১৯৭১ সালে যে চেতনা নিয়ে এ জাতি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো, তা তারা পায়নি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরই তারা প্রহসনের শিকার হয়েছে। ১৯৭৩ সালের নির্বাচন,১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ এবং ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত গুম,খূন জেল-জুলুম অত্যাচারের মুখেও এদেশের মানুষ মুজিবের একদলীয় ফ্যাসিস্ট বাকশালী শাসন থেকে মুক্তির সংগ্রাম একদিনের জন্যও বন্ধ করেনি। সেই সংগ্রামের উত্তাপ অগ্নিগিরি হয়েছে বিস্ফোরিত হয় ফ্যাসিস্ট হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বা ৩৬ জুলাই। দেশ হাসিনা মুক্ত হয়েছে। এখন চলছে ফ্যাসিস্ট মুক্ত দেশ গড়ার সংগ্রাম।
কিন্তু সরকার,রাজনৈতিক, আমলা,নাগরিক সমাজ ও মিডিয়ার একটি অংশ ব্যক্তিগতস্বার্থের মোহে আবারও বিপদগামী হয়ে অগ্নিগিরি লাভার উত্তাপ বাড়াচ্ছে। এখন আবারও বিস্ফোরণের আশংকা বাড়ছে। কারণ প্রায় দুই হাজার শহীদের রক্তের দাগ এখেেনা জ্বল জ্বল করছে, অথচ গাদ্দারী বন্ধ হয়নি। তাই নতুন সরকারের এক নম্বর লক্ষ্য হওয়া উচিত স্বাধীনতা যুদ্ধের মূলচেতনার বাস্তবায়ন।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাংলাদেশের মানুষের জন্য সাম্য (Equality), মানবিক মর্যাদা (Human Dignity এবং সামাজিক ন্যায়বিচার Social Justice) নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার কথা। এ লক্ষ্য পুরণ করতে দুর্নীতি,চাঁদাবাজি,দখলবাজি,সন্ত্রাস,খুন,গুম বন্ধ করতেই হবে। বাক স্বাধীনতা এবং ভোটাধিকার (এ সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার ও ছাত্রসংসদসহ পেশাজীবী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান পাস করে চতুর্থদশ জাতীয় নির্বাচন) নিশ্চিত করা। কারণ টেকসই গণতন্ত্র ছাড়া ছাড়া এ প্রত্যাশা পূরণ বা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
মানুষ ভিক্ষা নয় কাজ, বাঁচার মতো বাঁচতে চায়। অথচ মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজন পূরণ সম্ভব হয় না। সৎ. যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব ছাড়া আধুনিক দুনিয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই দূর্নীতি আইনের শাসন ও জবাবদীহীতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশের দিন আমি উপস্থিত ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐদিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অনেক। কিন্তু তার সর্বশেষ কথা ছিলো, তিনি দুর্নীতি দমন করবেন, আইনের শাসন ও জবাবদীহী নিশ্চিত করবেন। এরআগে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি যখন রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আ্স্থা ও পূর্ণ বিশ্বাস সংবিধানে সংযুক্ত করার ঘোষণা দেন তখন তার সমর্থনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই করতালি দিয়েছেন। একই রকম করতালির দিয়েছেন সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান যুক্ত করার ঘোষণার সময় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাইযোদ্ধাদের মর্যাদা ও ত্যাগের কথা চিরস্মরণীয় করার সমর্থনে।
কোন কূটচাল কিংবা বাধা নতুন সরকার ও দায়িত্বশীল বিরোধীদলের পথচলা থামাতে পারবে না। জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধন করলেই ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে। সরকার ও বিরোধীদল দুই চাকার সাইকেলের মতো ভারসাম্য রক্ষা করে একটি শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত এবং ইনসাফ ও মানবিক দেশ উপহার দিবে- এমন আলোকিত ভোরের স্বপ্ন দেখছে ৩৬ জুলাই বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশ।