একটি জনপ্রিয় ইসলামি সঙ্গীতের শিরোনাম আজকে আমার লেখনিতে। গানটিতে রাসূল (সা.) প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা, বাংলাদেশের প্রান্ত থেকে কোটি কোটি মুসলিমের হৃদয়ের আকুতি ও রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের দৃঢ় প্রত্যয়ের এক অভিব্যক্তি। এদেশ ইসলামী আদর্শ অনুসরণের এক উর্বর জনপদ। এখানকার মানুষ হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে জীবন দিয়ে ভালোবাসে। তাঁর আদর্শ সবাই অনুসরণ না করলেও ভালোবাসা বা শ্রদ্ধার কমতি নেই। তাই তো বিভিন্ন ধর্মের জনগণ এখানে বাস করে মিলে মিশে একসাথে আছে। শিক্ষা জীবনে দেখেছি অনেক হিন্দু শিক্ষার্থীদের রাসূল (সা.), জীবনের ওপর রচনা লিখে প্রথম হতে।
বিগত ১৪৪৫ বছর ধরেও তাঁর আদর্শ ইসলামের শান্তি ও মানবতার বার্তা বহন করে আসছে।
মানবতা আজ ভূলুণ্ঠিত, বিশ্বব্যপী দেশে দেশে যারা নেতৃত্বের আসনে আছেন তারা নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত, সাধারণ মানুষের আশা,আকাক্সক্ষা তাদেরকে চিন্তিত করে না। ফলে, বাড়ছে আধিপত্যবাদীদের দৌড়াত্ব। বাড়ছে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের মত ঘটনা।আজ বড় বেশি প্রয়োজন রাসূলের পথ অনুসরণ করা। এ পথ অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে ‘শান্তির বার্তা’।
আদর্শ অনুসরণ ও প্রেরণা: রাসূল সা,আদর্শ আমাদের প্রেরণা। রাসূল সা,সর্বপ্রথম শিরক মুক্ত ঈমানের ঘোষণা দিয়ে তাওহীদের পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন। নৈতিক চরিত্র সংশোধনের মাধ্যমে সমাজ ব্যবস্থা গড়ার মধ্যে দিয়ে সকল ধরনের মাদক মুক্ত জীবন, ব্যভিচার মুক্ত সমাজ গড়ে তুলেছিলেন। সুদবিহীন অর্থনীতি,যার মূল ভিত্তি যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি।অন্যায় জুলুম নির্যাতন বন্ধ করে গড়ে তুলেছিলেন সু-সভ্য জাতি । যেখানে ছিল না গোত্রে গোত্রে সংঘাত, ছিল না জুলুম নিপীড়ন।সমাজে নারী ফিরে পেয়েছিল প্রকৃত মর্যাদা ও স্বাধীনতা। মহান আল্লাহ পাক বলেন,“লাক্কাদ কা-না লাকুম ফী রাছূলিল্লাহি উছওয়াতুন হা’ছানাহ।” অর্থাৎ অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ “(সূরা আহযাব -২১নং আয়াত) এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ পাক মানুষকে জীবনের সকল দিক থেকে রাসূল সা,কে অনুসরণের স্বীকৃতি দিয়েছেন।তাইতো এদেশের জনগণ রাসূলুল্লাহ সা,আদর্শ গ্রহণ করার প্রেরণা পায়।
কুরআনে আরো ঘোষণা করা হয়েছে -”আপনাকে (রাসূল)সারাবিশ্বের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।” (সূরা আম্বিয়া-১০৭আয়াত)
এদেশের জনগণ আদর্শ থেকে প্রেরণা পেয়ে এদেশে খোদার রাজতোরণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বহুকাল ধরে এদেশের মানুষ ইসলামের চর্চা করে আসছে। কেননা ইসলামের আগমন এ অঞ্চলে বহু পূর্ব থেকে। বলা যায় সেই আদিকাল থেকে এই উপমহাদেশে ইসলাম এসেছে।
এদেশের জনগণের অতীত : অতীত ইতিহাসের সাথে ভারতবর্ষ জড়িত। এজন্য ইসলাম আগমনের ইতিহাসের সঙ্গে ভারতবর্ষের ইতিহাস জানা প্রয়োজন। ভারতবর্ষে কিভাবে ইসলামের আগমন ঘটে তা সঠিক ভাবে সুনির্দিষ্ট সন তারিখ জানা যায় না।তবে সর্বজন স্বীকৃত ৭১২ খৃষ্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে মুসলিম অভিযানের বহু পূর্ব হতে আরব সওদাগর ও ধর্মপ্রচারকদের আগমন ঘটেছিল। ইসলাম আগমনের তিনটি মত বা ধারা পরিলক্ষিত হয়।
**প্রথম মত বা ধারা -হয়রত আদম আঃ, থেকে। বেহেশত থেকে নির্বাসিত হয়ে তিনি প্রথম প্রদার্পন করেছিলেন শ্রীলঙ্কার সিংহলে।যেটা ছিল ভারত ভূমি। অপরদিকে ভারতের অযোধ্যার এক বিরাট মন্দিরের পাশে সুদীর্ঘ এক কবর রয়েছে,এটা সম্পর্কে যুগ যুগ ধরে জনশ্রুতি আছে,এসমাধি হয়রত শীষ আ,এর। তিনি ছিলেন হয়রত আদম আঃ,এর পুত্র।এ থেকে বলা যায়, ভারতবর্ষের সাথে মুসলমানদের সমন্ধ সেই আদিকাল থেকে।
**দ্বিতীয় মত বা ধারা-৬১০খৃষ্টাব্দে হয়রত মুহাম্মদ সা,এর নবুয়তের পর থেকে ভারতবর্ষে ইসলাম ও মুসলমানদের আগমন হয়েছিল।
**তৃতীয় মত বা ধারা ৬২২খৃষ্টাব্দে মদীনায় রাসূল সা, সর্বপ্রথম ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাত্র এক শতাব্দীর মধ্যে মুসলমানগণ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের বাণী ছড়িয়ে দেন।এরই ধারাবাহিকতায় ৭১২খৃষ্টাব্দে মাত্র ১৭ বছর বয়স্ক তরুণ মুসলিম বীরের মাধ্যমে ভারতবর্ষের সিন্ধু,মুলতানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করে।
তিনটি মতই সঠিক বলা যায়। তবে সুনির্দিষ্ট সন তারিখ পাওয়া দুষ্কর। আশ্চর্যের বিষয় স্বয়ং রাসূল সা, জীবিতকালীন সময়ে এই উপমহাদেশে ইসলামের আগমন ঘটেছিল।
আশ্চর্যের বিষয়
-মহানবী সা, কর্তৃক যেদিন চন্দ্র বিভাজনের ঘটনা ঘটে সেদিন বর্তমান তামিলনাড়ুর অন্তর্ভুক্ত মালাবারের রাজা ‘ চেরুমাল পেরুমল’ প্রাসাদের ছাদে চাঁদনী রাত যাপন করছিলেন। তিনি এই আশ্চর্য ঘটনা স্ব-চক্ষে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন।সভাসদকে ডেকে জানতে চান। ঘটনাক্রমে একদল আরব বণিক সেই সময় তাদের সাথে রাসূল সা এর কয়েকজন সাহাবী ছিলেন। শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত হয়রত আদম আঃ এর স্মৃতি বিজড়িত পদচিহ্ন দেখতে সমুদ্র পথে যাত্রা করেন। যাত্রা পথে আরব তীর্থযাত্রীগণ মালাবার উপকূলে যাত্রা বিরতি করেন।এই সময়ে রাজা “ চেরুমল পেরুমল” (কেউ কেউ ‘ভোজ’নামে বলেছেন রাজার) তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং গোপনে রাসূল সা,এর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য মক্কায় গমন করেন।
মক্কায় কিছুদিন অবস্থান করে রাসূল সা, এর কাছে ইসলাম গ্রহণ করেন। দেশে ফিরে আসেন ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে। যেহেতু তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং রাসূল সা,এর সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তাই তাঁকে সাহাবীও বলা হয়। কিন্তু দেশে ফেরার পথে হঠাৎ একদিন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর সঙ্গী শরফ বিন মালিক ও অন্যান্যদেকে মালাবারে ইসলাম প্রচার করতে অনুরোধ করেন এবং এক পত্রে এই অনুরোধের কথা রাজ্যের প্রধানকে জানিয়ে দেন।
আনুমানিক ৬২৯খৃষ্টাব্দে রাজার মৃত্যুর পর শরফ বিন মালিক ও তার সঙ্গীগণ অনুরোধ পত্র সঙ্গে নিয়ে যথাসময়ে মালাবারের ক্রেঙ্গানোনে এসে উপস্থিত হলে,রাজ্য প্রধানেরা সাদরে বরণ করেন।
রাজ্য প্রধানগণ তাদের বসবাসের জন্য এক খন্ড ভূমি দান করেন এবং সেখানে তারা একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদটির নামকরণ করা হয় “ চেরামেন জুমা মসজিদ” এটি আজও আছে।
পরবর্তীতে রাজা পেরুমানের সঙ্গীদের মাধ্যমে এই ক্রেঙ্গান থেকে সমগ্র মালাবারে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে সমগ্র ভারতবর্ষে।তাই ধারনা করা হয় রাজা চেরুমান পেরুমল হলেন ভারত বর্ষের প্রথম মুসলিম ভারতীয়।
বাংলাদেশে ইসলাম : ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীন যুগে বাংলা ছিল প্রায় ৮০হাজার বর্গমাইল বিস্তৃত এক বিশাল সমভূমি।এই বিশাল অঞ্চলে কবে থেকে ইসলামের আগমন ঘটেছিল তা সুনির্দিষ্ট ভাবে বলা মুশকিল।তবে দু’ভাবে বাংলায় ইসলাম প্রবেশ করে ১.আরব বণিকগণ চট্টগ্রাম বন্দরে যাতায়াত করত তাদের মাধ্যমে।২.ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারের কারণে কলকাতা হয়ে বাংলায় ইসলাম প্রচার শুরু হয়। দুটো মত সঠিক হলে বুঝতে হবে একারণে বাংলার মানুষ দ্রুত ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং অধিক সংখ্যক মুসলমান হতে থাকে।
**তবে ধারণা করা হয়, রাসূল সা,এর মামা সাহাবী আবু আক্কাস মালিক ইবনে ওয়াহাব রা, আনুমানিক ৬১৭খৃষ্টাব্দে কয়েকজন সাহাবীসহ ইসলাম প্রচারের জন্য চীনের উদ্দেশ্য দুটি জাহাজ নিয়ে রওনা হন ।এই যাত্রায় কাইস ইবনে হুজাইফা রা,উরওয়া ইবনে আছাছা রা,আবু কায়েস ইবনে হারিস রা, প্রমুখ সাহাবী তার সঙ্গে ছিলেন।
তারা আরব ও চীনের মধ্যেবর্তী ভারতীয় বন্দরগুলোতেও অবতরণ করেন।যেসব বন্দরে তারা অবতরণ করেন তথায় অবস্থানকালে ইসলাম প্রচার করেন।শায়খ মাইনুদ্দিন তার “তোহফাতুল মুজাহিদীন” গ্রন্থে ভারতের নানা বন্দরে এরুপ ইসলাম প্রচারকদের বর্ণনা করেছেন। দেখা যাচ্ছে যে, রাসূল সা, জীবনের সময় থেকে এই উপমহাদেশে ইসলামের প্রসার ঘটেছে। এবং ধীরে ধীরে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী মুসলিম জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।
স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ : এ উপমহাদেশে ইসলামের আগমন বহু পূর্ব থেকে হলেও ,বাংলাদেশ স্বাধীন ভাবে আত্মপ্রকাশ করার ইতিহাস দীর্ঘদিনের নয়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে একটি মুসলিম অধ্যুষিত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল ১৯৭১সালের ১৬ডিসেম্বর। যেহেতু পূর্ব থেকে এ অঞ্চলে ইসলামের আগমন ঘটেছিল। তাছাড়া এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ ইসলামের অনুসারী ছিলেন বলে স্বাধীনতার পর অধিকাংশ মানুষের ধর্মীয় আশা-আকাক্সক্ষা ইসলামকে অনুসরণের মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হবে এটাই ছিল বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিক দাবী। গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় -নীতি যখন শাসক গোষ্ঠীর হাতে বিপর্যস্ত হয়েছে তখন জনগণ তা মেনে নিতে পারেনি।তাই ক্ষমতার হাত বদল হতে হতে আজ এদেশের মানুষ এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন! দেখছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ : পতিত ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী বিগত প্রায় ১৭বছর দেশকে এক বিভীষিকাময় দেশে পরিণত করেছিল। ব্যক্তি স্বাধীনতা ছিল না, উন্নয়নের আড়ালে ফ্যাসিবাদী শক্তির জুলুম,খুণ,গুম ছিল স্বাভাবিক কার্যক্রম। মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হওয়া সত্ত্বে¡ও ধর্ম পালন ছিল অঘোষিত কার্ফু। নামাজীদের এক বিশেষ গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে অত্যাচার করা হত। জনগণ ইসলামকে ভালোবেসে অনুসাশন মেনে চলার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকত কিন্তু শাসকগোষ্ঠী তা মেনে নিতে পারেনি।
অবশেষে জুলাই’২০২৪ বিপ্লবের মাধ্যমে এদেশের জনগণ মুক্তি পেয়েছে। বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে যেমন তেমনি ভাবে সকল দিক দিয়ে মানুষ এখন স্বস্তিতে আলহামদুলিল্লাহ। ৫আগষ্ট২০২৪পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে পতিত ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী।দীর্ঘ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল এ দেশের ছাত্র সমাজ। যাদের অধিকাংশই ইসলামকে ভালোবেসে জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।৩৬জুলাই অনেক রক্তের বিনিময়ে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে ৫আগষ্টের পর অধিকাংশ জনগণ চায় রাসূল সা,দেখানো পথে এদেশে হেরার রাজতোরণ প্রতিষ্ঠা করতে।তার জন্য কতটুকু প্রস্তুত এদেশ প্রশ্ন রয়েই যায়?!
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা : এদেশ যেমন ইসলাম প্রচারের উর্বর জনপদ। তেমনি রাসূল সা আদর্শ প্রতিষ্ঠার সুযোগ ও সম্ভাবনা আকাশচুম্বী! শহীদী কাফেলার জনপদ বাংলাদেশ।এ জনপদে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের মধ্য দিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে এই সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে খুব সহজ নয় টিকে থাকা। রাসূলের প্রেমে পাগল জনগণ , রাসূল সা আদর্শ জীবনের সকল দিকে মেনে নিতে এখনও প্রস্তুত নয়।তাই বর্তমানকে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
**আজ বড় প্রয়োজন -এমন নেতৃত্ব। যিনি হবেন মনে প্রাণে ইসলামী আদর্শের ধারক বাহক। শুধু তাই নয়। ব্যক্তি জীবনে থেকে জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামের অনুসারী।একদল নিষ্ঠাবান কর্মীবাহিনী -আল্লাহর রাসূলের সাহাবীদের মতো নিবেদিত প্রাণ ।জনগণের মধ্যে থেকে তেমন কর্মীবাহিনী কি আছে ?যারা জীবন দিবে কিন্তু দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিলিয়ে দিবে না। যাদের মধ্যে থেকে তৈরি হবে কাক্সিক্ষত নেতা।যার নেতৃত্বে গড়ে ওঠবে স্বপ্নের বাংলাদেশ।
**জনগণ -এদেশের জনগণ ইসলামকে ভালোবাসে কিন্তু কুরআনের আলোকে সমাজকে গড়ে তুলা প্রয়োজন এ ধারণা থেকে বহুদূরে। জনগণের দরজায় কড়া নাড়ার সময় এখনই।তা নাহলে শয়তান তার রাজত্ব কায়েম করতে সুযোগ নিবে।
মোট কথা রাসূল সা, মুসলমানদের নেতা।তার অনুসৃত পথ অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে শান্তির বার্তা’।তাই ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে বর্তমানকে সময় উপযোগী করে সাজাতে হবে। এজন্য ভোটারবিহীন নির্বাচন, দুর্নীতি,অর্থ পাচার, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সকল পথ বন্ধ করার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে মানবীয় দেশ গড়তে সকল দল-মত এক হওয়া প্রয়োজন।আইনের শাসন, সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করনের পাশাপাশি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের কাজ করার মধ্যে দিয়ে রাসূল সা,এর আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার পথ বিনির্মাণ সম্ভব হতে পারে।
বর্তমান সময় ও আগামী যুগ সম্পূর্ণরূপে নবী মুহাম্মদ (সা.)- জীবন আদর্শের কাছে ঋণী। তিনি অন্ধকারে নিমজ্জিত বিপন্ন মানবতার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এক নতুন উপহার। যা মানবতাকে দিয়েছে শান্তির আলোকবর্তিকা। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি,সভ্যতা-কৃষ্টি,জ্ঞান-বিজ্ঞান,শিক্ষা-প্রযুক্তি থেকে ন্যায়নিষ্ঠা, আধ্যাত্মিকতা এবং চরিত্র ও সমাজ দর্শনের মাপকাঠিতে মানুষ গড়ার; সমাজ গড়ার নতুন দিগন্ত।
উপহার দিয়েছিলেন সোনার মানুষ । গড়েছিলেন স্বর্ণযুগ। আল্লাহতায়ালা কুরআনে উত্তম আদর্শ ও মনোনয়নে মনোনীত করেছেন।তাইতো জ্ঞান,শান্তির আলোর অনিঃশেষ ঝর্ণাধারা । তিনি মানবতার মুক্তির মহান দূত, মহান শিক্ষক; বিশ্ব জাহানের জন্য রহমতস্বরূপ। তাঁর মিশন, কথা, কর্ম কুরআন- হাদিস অনুসরণের মাধ্যমে আজও অনুপ্রেরণার উৎস। রাসূল সা,আদর্শ অনুসরণের মধ্যে রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তির বার্তা । বিশ্বকে করতে পারে সকল অনাচার-হানাহানি থেকে মুক্ত এক শান্তির বাগান।
হে রাসূল আপনার প্রতি দরুদ ও সালাম:
“হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.) এবং তাঁর বংশধরদের ওপর এই রূপ রহমত নাজিল করো, যেমনটি করেছিলে ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.) এবং তার বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করো, যেমন বরকত নাজিল করেছিলে ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়।”