ড. মোজাফফর হোসেন
ঈদের ইতিহাস অনেক পুরাতন হলেও বাংলাদেশে ঈদ উদযাপনের বর্ণাঢ্য আয়োজন কখন থেকে শুরু হয়েছে তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে মুসলমানদের আধিপত্য সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠিত হবার পর পর মুসলিম জনসংখ্যাবহুল এলাকাগুলোতে হয়তো সমবেতভাবে ঈদ উদযাপন করার সুযোগ ঘটে; সেটিও হয়তো মধ্যযুগের শেষপ্রান্তে এসে হতে পারে। অনুমান করা যায়, মুসলিম বাদশাগণ কর্তৃক আয়োজিত ঈদগাতেই হয়তো সাধারণ মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায় করে থাকতে পারেন।
এক
মুহাম্মদ (স.) থেকে আরম্ভ করে উমাইয়া খেলাফত পর্যন্ত ঈদ মুসলিম সমাজে উৎসবউদ্দীপনার মধ্যদিয়ে আড়ম্বরপূর্ণভাবে পালিত হয়ে এসেছে এবং ঈদের মৌলিকত্বও প্রায় বরাবরের মতোই অব্যাহত ছিল মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে। তখন ঈদ উদযাপিতও হয়েছে মুসলিম জাতীয়তাবাদের শক্তি নিয়ে মুসলিম রাজত্বে। সুতরাং মুসলিম সাম্রাজ্যসমূহে ঈদ ঘটা করে সম্মিলিতভাবেই উদযাপিত হওয়া ছিল স্বাভাবিক। পরে যখন মুসলমানরা পৃথিবীর বিভিন্নপ্রান্তে অবস্থান গ্রহণ শুরু করেন তখন সেসব এলাকায় মুসলমানরা মুসলিম জাতীয়তাবাদের শক্তিতে আর্বিভূত হতে পারেনি; এ শক্তি অর্জন করতে তাদের সময় লেগেছে বহুবছর। ভারতবর্ষও তার ব্যতিক্রম ছিল না। সে জন্যে ভারত উপমহাদেশে মুসলমানদের মধ্যে ঈদ তার পূর্বের ধারাবাহিকতাকে সংগঠিত করতে পারেনি। গোটা ভারতবর্ষে মুসলিম জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটেছে মোঘলদের সময়ে। মুহাম্মদ বিন কাসেমের নেতৃত্বে ভারতবর্ষে মুসলমানদের প্রবেশ (৭১১ খ্রি.) ঘটলেও ঈদগা মঠে গিয়ে সমবেতভাবে ঈদের নামাজ আদায়ান্তে ঈদ উদযাপন করার পরিবেশ তখনও ছিল না। সে সময়গুলোতে মুসলমানদের ঈদ পারিবারিক গন্ডির ভেতরে রাজদরবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এ অবস্থা সুলতানি আমল পর্যন্ত চলতে দেখা যায়; তবে ধীরে ধীরে মুসলিম জাতীয়তাবাদী শক্তিতে মুসলমানরা বলিষ্ঠ হতে থাকে। মোঘলদের সময়ে মোঘলরা ক্ষমতার শীর্ষে চলে আসে। এ সময় মুসলিম জনসংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় রাজদরবার কেন্দ্রীক ঈদগাতেই তাদের ঈদ উদযাপন করতে হতো। তবে ঈদ, নামাজ, রোজা, দানখয়রাত ইত্যাদি ইসলামী বিধিবিধান যথারীতি মুসলমানদের আচার আচরণে সর্বত্রই শোভা পেতো। মোঘল শাসন বঙ্গদেশে পৌঁছার আগেই এ অঞ্চলে মুসলমানদের আনগোনা তো ছিলই এবং তারা ইসলামী আচারআচরণেও অভ্যস্ত ছিলেন।
দুই
১২০৪ খ্রিস্টাব্দে মুসলমানরা রাজনৈতিকভাবে বঙ্গদেশে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছিল। এ অঞ্চলটিতে মুসলিম সুফি, দরবেশ, সাধকরা ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে উত্তরভারত হয়ে আগমন করেন। আর বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বণিকরা এসেছিলেন সরাসরি আরব থেকে আরাকান হয়ে চট্টগ্রাম নৌবন্দরের মাধ্যমে এই বাংলায়। অধিকাংশ ঐতিহাসিক এসব তথ্যের সাথে সহমত পোষণ করেন। ধর্ম প্রচার ও বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আগমন করা এইসব মানুষ ছিলেন তুর্কি ও আরব বণিক। তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে রোজা, নামাজ, ও ঈদের সূত্রপাত ঘটেছে বলে মনে করা যেতে পারে। সে সময় এখনকার দিনের মতো অত আড়ম্বরপূর্ণ ঈদ এদেশে পালন হতো না। অর্থাৎ বর্তমানে মুসলিম সমাজে ঈদ যে উৎসবের রূপ নিয়েছে এমন উৎসবের সাথে ঈদ উদযাপনের কোনো ইতিহাস পাওয়া যায় না। এ দেশে রোজা পালনের প্রথম ঐতিহাসিক বিবরণ পাওয়া যায় ‘তাসকিরাতুল সোলহা’ নামক গ্রন্থে। এ গন্থের বিবরণ অনুযায়ী আরবদের জনৈক শেখউল খিদা হিজরি ৩৪১ মোতাবেক ৯৪১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আগমন করেন। এর আগে শাহ সুলতান রুমি নেত্রকোনা এবং বাবা আদম শহীদ বিক্রমপুরের রামপালে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। শেখউল খিদা চন্দ বংশীয় রাজা শ্রীচন্দের শাসনকাল ৯০৫-৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় আগমন করেন বলে জানা যায়। তাদের প্রভাবে এত ঘটা করে উৎসবের আমেজে ঈদ পালন না হলেও ব্যক্তিগতভাবে রোজা, নামাজ, ঈদ পালন হয়েছিল তা অস্বীকার করা যায় না। একটি ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৬৪০ খ্রিস্টাব্দে সুবেদার শাহসুজার নির্দেশে তার প্রধান আমত্য মীর আবুল কাসেম ভূমি থেকে প্রায় তিন মিটার উচুতে একটি ঈদগা নির্মাণ করেন। ঈদগার পশ্চিম দিকে প্রায় চার মিটার উচু করে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে সেখানে মেহরাব ও মিনার তৈরি করা হয়। ঈদগাটি রাজদরবার, আদালত, বাজার ও সৈন্য ছাউনির কেন্ত্রস্থলে অবস্থিত ছিল। প্রথম প্রথম সুবেদার, নায়েব, নাজিম ও মোঘলদের অভিজাত কর্মকর্তা এবং তাদের আত্নীয়বন্ধুরাই এই ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে পারতেন। পরে ঈদগাটি সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এই ধারা উনিশ শতক পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সাধারণ দরিদ্র মুসলমানদের অনেকেই আমিরওমরাদের এসব ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে পারতেন না। ঈদের দিন হইচই আনন্দোল্লাস হতো মোঘল ও বনেদি পরিবারের উচ্চপদস্থ এবং ধনাঢ্য মুসলমানদের সীমাবদ্ধ না থকেলেও অপেক্ষাকৃত দরিদ্র মুসলমানদের সাথে একটু দূরত্ব তো ছিলই। সে জন্য ঈদ এই বঙ্গদেশে সামাজিক বা জাতীয় উৎসবে রূপান্তর হতে সময় লেগেছে। তবে মোঘলদের সময় ঈদ যে সমবেতভাবে উদযাপন হতো সেটা বুঝা যায় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে খোলামেলা গণমুখী শাহীঈদগাহের উপস্থিতি দেখে।
তিন
মোঘলদের ঈদ উদযাপনের দৃশ্যসম্বলিত হাতে আঁকা অনেক চিত্র ইতিহাসের দলিল হিসেবে রয়েছে। সেসব চিত্রে ঈদ উদযাপনের আনন্দকোলাহলের পরিবেশ তুলে ধরা হয়েছে। এ রকম একটি চিত্রে সম্রাট বাবরকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়। সুলতানদের ঈদ উদযাপনের কথা জানাতে গিয়ে তাবাকাৎ ই নাসিরীর লেখক মিনহাজ উস সিরাজ জানিয়েছেন সুলতানরা রমযান মাসে ধর্মীয় আলোচনার জন্য ধর্মপ্রচারক নিযুক্ত করতেন। বাংলাদেশে ঈদ উদযাপনের সবচেয়ে পুরাতন বর্ণনা পাওয়া যায় মির্জা নাথানের লেখায়। তিনি উল্লেখ করেন সন্ধ্যয় মোমবাতির আলোয় যখন চাঁদ দেখা যেতো তখন শিবিরে বেজে উঠতো শাহী তুর্য রণসিঙ্গা, গোলন্দাজ বাহিনী ছুড়তে থাকতো গুলী। সন্ধ্যে থেকে মাঝরাত অবধি পর্যন্ত চলতো আতশবাজি, শেষ রাতে হতো কামান দাগানো। মুঘোলদের ঈদ উদযাপন হতো তিনদিন ধরে। সুবেদার ইসলাম খানের সেনাপতি মির্জা নাথানের বর্ণনা থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়। দ্বিতীয় মুর্শিদ কুলির সময় ত্রিপুরা জয় করা হয়। ঈদের দিন নবাব মুর্শিদ কুলি খুশি হয়ে মুদ্রা বিতরণ করতেন। ঢাকার কেল্লাহ থেকে দেড় কিমি দূরে ঈদগাতে যাওয়ার পথে ছড়ানো হয়েছিল রাজকীয় মুদ্রা।
স্যার টমাস মেটকাফের ব্যবস্থাপনায় আঁকা ছবিতেও মোঘলদের ঈদ উদযাপনের দৃশ্য অবলোকন করা যায়। মেটকাফ ছিলেন দরবারের সদস্য। সম্রাট বাহদুর শাহ জাফর স্যার টমাস মেটকাফকে দায়িত্ব দিয়ে ঈদের শোভাযাত্রার একটি ছবি আঁকিয়ে নেন। মেটকাফ মুসলিম আর্কিটেকচারের উপর গবেষণা ও চিত্রাঙ্কনের ব্যবস্থা করেন। কাগজে আঁকা এই চিত্রটির মাধ্যম ছিল কালি, তুলি এবং রঙ। ১২ ফোল্ডের দীর্ঘ স্ক্রুল চিত্রে দেখা যায় সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর, তার ছেলে, আত্নীয়স্বজন, মেটকাফ ও অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। দেখা যায় আমত্যবর্গ সুসজ্জিত হাতীর পিঠে অবস্থান করছেন। এই চিত্রটি অঙ্কন করেন চিত্র শিল্পী মাযহার আলি।
চার
মোঘলদের পর ভারত বর্ষের ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন ইংরেজরা। তারা তাদের মতো করে বিভিন্ন উৎসব উদযাপনের ব্যবস্থা করেন। এ সময় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে ঈদের পরিবর্তে ক্রিস্টমাসডে বা বড় দিন। ইংরেজ ও হিন্দুদের রাজনৈতিক বিড়ম্বনায় পড়ে বাঙালি মুসলমানরা উৎসাহ উদ্দিপনা হারাতে থাকে। সেটি আবার উদ্ধার হয়ে আসে পাকিস্তান জন্ম লাভের মাধ্যমে। এ সময় পূর্ববাংলার মুসলমান সমাজ আড়ম্বরপূর্ণ ঈদ উদযাপনের সুযোগ পেয়ে বসে। ইতোমধ্যে গোটবিশ্বে অর্থনীতির অগ্রগতি দ্রুত বদলাতে থাকলে বাঙালি মুসলমানদেরও সমাজকাঠামো বদলে যেতে থাকে। আর্থিক সচ্ছলতা মুসলমানদের পরিবারকেও আনন্দঘন করতে সাহায্য করে। শুরু হয় আড়ম্বরতার সাথে ঈদ উদযাপন। এ সময়টাতে মুসলমান জাতীয়তাবাদের চেতনাকে শক্তিশালী করতে আগমন ঘটে বেশ কয়েকজন কবি সাহিত্যিকদের। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কাজী নজরুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন সিরাজী, কবি ফররুখ আহমেদ প্রমুখ।
পাঁচ
পবিত্র কুরআন মজিদে ঈদ শব্দটি সরাসরি উৎসব অর্থে প্রকাশ না হলেও সূরা বাকার ১৮৫ নম্বর আয়াতে সিয়াম পালন পূর্ণ করার পর আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকারের নির্দেশ এসেছে; যা ঈদের মূল তাৎপর্য। কুরআন মজিদে বর্ণিত ঈদের সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো হলো আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও শুকরিয়া; ঈদের তাকবির; হেদায়াতের শুকরিয়া; এবং আল্লাহর নিদর্শন। ঈদ হলো আত্মশুদ্ধির পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ; আল্লাহর বড়ত্বজ্ঞাপন এবং আত্মতৃপ্তির বিশেষ দিন; যা ভোগবিলাসের সাথে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়। কুরআন মজিদের বক্তব্য মতে যত রকম উৎসব আছে তন্মধ্যে ঈদ শুধু অন্যতমই নয় উন্নতমও বটে। এটি শুধু কথার কথা নয়, বাস্তব। উদযাপনকে মূল্যায়ন করলে ঈদের গাম্ভীর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়। আমরা জানি, প্রত্যেক উৎসবেরই সার্থকতা নির্ভর করে উদযাপনের মধ্যে। ঈদও উদযাপন সংশ্লিষ্ট উৎসব। বাংলাদেশে মানুষ বেশকিছু উৎসব উদযাপন করে। যেমন নবান্ন উৎসব, পয়লা বৈশাখ, ভাষা দিবস, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, জুলাই বিপ্লবদিবস, শ্রমিকদিবস ইত্যাদি। এইসব দিবস উদযাপন করতে যা যা করি, ঈদ উদযাপন করতে গিয়ে তা থেকে ভিন্ন কিছু করতে হয়। অর্থাৎ ঈদ উদযাপন ভিন্নভাবে হতে হয়। প্রচলিত আর দশটা উৎসবের সাথে সৃষ্টিকর্তার কোনো সম্পর্ক থাকে না কিন্তু ঈদের সাথে আল্লাহপাকের নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করে নিতে হয়। এই সম্পর্ক তৈরি হয় ঈদ উদযাপনের অনুসঙ্গ দিয়ে । ঈদ উদযাপনের অনুসঙ্গগুলো বেশ চমকপ্রদ। যেমন- ঈদুল ফেতর উদযাপন করতে হয় পয়লা রমযান থেকে। সাবান মাসের শেষে যখন খেজুর শাখার মতো শীর্ণ বাঁকা চাঁদ পশ্চিম আকাশে উদিত হয়, তখন থেকেই মুসলমানদের মনে এক ধরণের আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। শুরু হয় পরদিন সিয়াম সাধনা। সিয়াম সাধনা হলো, জীবনযাপন ও সংকল্পে অটুট, অবিরাম, অবিচল রাখা কিংবা সংকল্পকে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা।
সিয়াম সাধনায় আনন্দ দুটি। এক. সেহরি, দুই.ইফতার । বিশেষকরে এ দুই সময় মন পবিত্রতায় বিগলিত হয়ে ওঠে; একধরণের শুভ্র প্রশান্তি অনুভূত হয়। এছাড়াও রমযান মাসে রয়েছে কেয়ামুল লাইল, লাইলাতুল কদর,আছে সদকাতুল ফিতর, আছে যাকাত। মাসব্যাপী এসব উদযাপন ত্যাগের সাথে সম্পৃক্ত। এসবের মাধ্যমে আত্মত্যাগে অধিষ্ঠিত থেকে মুসলমান আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্কে জড়াতে পারে। ত্যাগ আল্লাহর বৈশিষ্ট্য। সেজন্য ত্যাগে মহানুভবতা সৃষ্টি হয়। আল্লাহর সাথে সম্পর্কে জড়ানো এমন উদযাপন নির্ভর উৎসব মুসলিম সমাজ ব্যতীত অন্যকোথাও দেখা যায় না। ঈদুল আযহাও উদযাপিত হয় ত্যাগের মাধ্যমে। পশু কুরবানি করার পর সেই পশুর গোস্ত ও চামড়া বিলিয়ে দেওয়া হয় মানুষের মাঝে। মোটা অঙ্কের টাকায় পশু ক্রয় করে আল্øাহর ওয়াস্তে জবেহ করা হয়। এটা প্রতীকী। ইব্রাহিম আ.ও ইসমাইল আ. যে নিজেকে আল্লাহর নিমিত্তে উৎসর্গ করেছিলেন, সেই শিক্ষার দৃষ্টান্ত ঈদুল আযহার মাধ্যমে মুসলমানগণ উদযাপন করেন। সে কারণে ঈদ শ্রেষ্ঠ।
ছয়
‘ঈদ’ আরবি শব্দ; অর্থ ফিরে আসা। সূরা মায়িদার ১১৪ নম্বর আয়াতে আসমানি খাবার প্রাপ্তির জন্য আনন্দ অর্থে ঈদ শব্দটি একবার ব্যবহার হয়েছে। ফিরে আসা অর্থেও ঈদ শব্দটি ব্যবহার হয়। উদযাপনের তাগিদ নিয়ে ঈদ ফিরে ফিরে আসে। ঈদ উদযাপিত হয় ত্যাগের মাধ্যমে; আর ত্যাগের ভিতর নির্মল আনন্দ থাকে। ত্যাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষে খুশি ও আনন্দের সংবাদ নিয়ে ঈদের আগমন ঘটে। তবে বাংলাদেশে ঈদ শব্দটি আনন্দ অর্থে ব্যবহৃত হয়। আনন্দ ব্যাপারটা আবার অনুভবের সাথে সম্পৃক্ত। সুখানুভব তৈরি হয় নিজের স্বার্থকে অন্যের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। সে কারণে শুধু উৎসব নয়, ঈদে উদযাপন পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর যত উৎসব আছে সব উৎসব, উদযাপনে ত্যাগের ঐচ্ছিক ফর্ম আছে। অর্থাৎ ইচ্ছা হলে উদযাপনের সময় নিরন্ন অসহায় মানুষকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা করতে পারে; ইচ্ছা না হলে তা না-ও করতে পারে। বাধ্যবাধকতা নাই। কিন্তু ঈদ এমন উৎসব যা উদযাপন করতে হয় আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে। সদাকাতুল ফিতরা, যাকাত; এটা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে ঈদ উদযাপনে আছে সেজদার ব্যবস্থা। মহান আল্লাহকে সেজদা ব্যতীত ঈদ উদযাপন পরিপূর্ণ হয় না। নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণের মাধ্যমে মুসলমান এজগৎ ও পরজগতের মুক্তি কামনা করে। এসব বিবেচনায় ঈদ বিশ্বমুসলিমদের জন্য আশীর্বাদ।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক