দেখি না তোমারে
আফসার নিজাম
মসজিদের পূবে আমাদের ঘর
আর পশ্চিমে তোমাদের বাড়ি
আমাদের গাছের ছায়া
তোমাদের উঠোনে ছায়া ফেলে
তবুও বহুদিন তোমার সাথে
দেখা হয় না
কথা হয় না
একটিবার কলও দেও না
মোবাইল বন্ধ করে দিয়েছো
বন্ধ করে দিয়েছো ফেসবুক
হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু
অথচ উত্তর পাশের জামরুল গাছকে
স্বাক্ষী রাইখা বলেছিলে
‘স্বর্ণলতার মতো তোমারে
পেচাইয়া বাঁচতে চাই
তোমারে ছাড়া আমি বাঁচুম না’
বাঁচা মরার উঠানে ঘাস জন্মাইছে
জারুল গাছে ফুল ফুটছে
শুধু তুমি বাতাসের মতো না
দেখা অস্পর্শ হইয়া গেছো
সবাই তোমারে দেখে
আমিই দেখি না তোমারে
আমার চোখ বুঝি আন্ধা হইয়া গেছে
দেখি না তোমারে।
বিপ্লবীরা বাঁচেই মরার অনুরাগে
সাইফ আলি
একটা আগুন জ্বলছে এবং পোড়াচ্ছে খুব
একটা হাওয়া প্রতিকূলেই ওড়াচ্ছে খুব
তবুও আছি শান্ত; সময় নীরবতার
প্রস্তুতি আর যাচাই করা সক্ষমতার।
তুমি তোমার সিংহাসনে বসতে পারো
ইচ্ছে হলে আমার ক্ষেতও চষতে পারো
বাধা দেওয়ার সময় হলে আগুন হবো
বাতাস হবো, ঝড় ওঠাবো, কথা কবো।
তখন তুমি শান্ত থেকো, অনড় থেকো
কঠিন আঘাত হানার মতো মূর্তি এঁকো
সহজ খেলায় জয় পরাজয় পানসে লাগে
বিপ্লবীরা বাঁচেই মরার অনুরাগে।
মহাগ্রন্থের সোনালি উত্তর
হারুন আল রাশিদ
প্রশান্তির পৃথিবীতে প্রবেশ দুয়ার খুলে রেখেছেন
গাফুরুর রাহিম আসমানী কিতাবে
পাঠ করো জানান দাও অন্তরের গোপন পর্বতমালায়
“ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম।”
যার মালিকানাধীন সৃষ্টির অসীমতা
যার নির্দেশে পরিবর্তন বাতাসের গতিবেগ
যার ইচ্ছায় সমুদ্র ধাবমান সন্মুখে
যার এখতিয়ারে নক্ষত্রের চলাফেরা
যার শক্তিতে ভূখণ্ডের স্থিরতা
অবিশ্বাসের ধুম্রজাল বিচ্ছিন্ন করে উচ্চারণ করো–
“ওয়াখতিলা-ফিল লাইলি ওয়াননাহারি লা আ-ইয়া তিল
লিঊলিল আলবা-ব্!”
তিনি নির্ধারণ করেন মাখলুকাতের জীবিকা
তিনি বর্ষণ করেন পরিমাপক বৃষ্টি
তিনি জড়িয়ে দেন রৌদ্র-সময় কেন্দ্রিক বিবেচনায়
তিনি শোভিত করেন বৃক্ষ সবুজ পাতায়
তিনি প্রস্ফুটিত করেন সৌন্দর্য সুরভিত ফুল
অবিশ্বাসের ধুম্রজাল বিচ্ছিন্ন করে উচ্চারণ করো–
“ওয়াখতিলা-ফিল লাইলি ওয়াননাহারি লা আ-ইয়া তিল
লিঊলিল আলবা-ব্!”
তালাশ করো অরণ্য শিহরণে
মহামহিমের অন্তহীন প্রজ্ঞা
প্রতিনিয়ত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে খুলে যাবে
দীর্ঘ জীবনের মরচে’ধরা অজ্ঞতার কপাট
রাত্রির ভাঁজে জড়ানো ছড়ানো জিজ্ঞাসা
বিত্তবান করে দেবে মননের ঊর্বর জমিন
মহাগ্রন্থের সোনালি উত্তরে
অবিশ্বাসের ধুম্রজাল ছিন্ন করে উচ্চারণ করো–
“ওয়াখতিলা-ফিল লাইলি ওয়াননাহারি লা আ-ইয়া তিল
লিঊলিল আলবা-ব্!”
তাওবা
নোমান সাদিক
এ পথে হেঁটেছে যারা দাস প্রভু আবাল বণিতা
বিমারে জর্জর সুস্থ সারল্যের শিশু আর পিতা
জেলে তাতী সুদী মহাজন নেতা আমলা সচিব
চারপেয়ে বুকেহাঁটা মাংসাশী তৃণভোজী জীব
দালাল বেশ্যা ঠকবাজ ভাং নেশামদেচুর
জাতিসংঘ এনজিও গুঘাটা শুয়োর কুকুর
অর্কট মুর্খ চোর মিসকিন দরবেশ মুনি
কবি ইতিহাসবীদ বিজ্ঞানী কলাবিদ গুণী
পহেলা-আখেরতক গোনাগার খুনী মিথ্যাবাদি
হে রব আমার চেয়ে কে ছিল বড় অপরাধী!