এস. এম রুহুল আমীন
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে
এলো খুশির ঈদ॥
ওপরের সুপরিচিত গানই আমাদের জানান দেয় ঈদ মানে কী! ঈদুল ফিতর শব্দটি আরবি ও কুরআনিক পরিভাষা। শব্দটি মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে আমাদের বংলা ভাষা ও সমাজ সংস্কৃতির সাথে। ঈদ শব্দের শাব্দিক অর্থ বারবার ফিরে আসা, অন্য অর্থে খুশি। অবশ্য ঈদ শব্দটি এখন আমাদের সমাজে আনন্দ বা উৎসব ও খুশি অর্থেই মশহুর বা সুপরিচিত। পবিত্র কুরআনুল কারীমের সূরা আল মায়িদার ১১৪ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তা’য়ালা এখানে বলেন, “মারইয়াম পুত্র ঈসা বললো, হে আল্লাহ, হে আমাদের রব! আসমান থেকে আমাদের জন্য খাবারপূর্ণ দস্তরখান বা মায়িদাহ নাযিল করুন। এটা হবে আমাদের, আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের জন্য ঈদ বা আনন্দ উৎসব। আর আপনার পক্ষ থেকে হবে এটি একটি আয়াত বা নিদর্শন।”
অপরদিকে ফিতর শব্দটিও আরবী ফিতরাত বা স্বাভাবিক অবস্থা অর্থে ব্যবহার হয়। আবার কোনো কিছু শেষ করা অর্থেও ব্যবহার হয় এ ফিতর শব্দটি। আবার কারো কারো মতে ফুুতুর থেকে শব্দটির উৎপত্তি যার অর্থ নাস্তা। সুতরাং ঈদুল ফিতরের শাব্দিক অর্থ দাঁড়ায় রমযান মাসের সিয়াম শেষ করে সকাল বেলার নাস্তা গ্রহণ করার মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার আনন্দ বা ঊৎসব ও খুশি।
যেভাবে ঈদ হলো খুশির দিন
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সা. মক্কা থেকে মদীনায় হিযরত করলেন ৬২২ ঈসায়ী সালে। হাদীসের ভাষ্যকার ও ঐতিহাসিকদের মতে, সেখানে গিয়ে তিনি দেখলেন। জাহেলি রসম অনুযায়ী সেখানকার লোকেরা বছরের নির্দিষ্ট দু’টি দিনে অশ্লীলতায় পরিপূর্ণ নাচ-গান, জুয়ার আসরসহ বিনোদনের নামে কুরুচিপূর্ণ আনন্দ উৎসব করছে। মহানবী সা. অংশগ্রহণ না করলেও এর আগে মক্কায় দেখেছেন হাজার হাজার বছর থেকে চলে আসা ‘উকাজ মেলা’। মহানবী সা. জিজ্ঞেস করলেন, হে মদীনার লোকেরা তোমরা এসব কি করছো? তারা জাওয়াব দিলেন, আমরা বছরে দু’দিন “নওরোজ ও মেহেরজান ” উৎসব পালন করছি। মহানবী সা. মুসলিম উম্মাহর জন্য রিফর্ম করে চালু করেন “ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা”। যেখানে রয়েছে আনন্দ উৎসবের সাথে সাথে মহান আল্লাহ তা’য়ালার স্মরণ। এভাবেই এলো ইসলামে, অপবিত্র “নওরোজ ও মেহেরজান ” এর পরিবর্তে বৈধ ও পবিত্র আনন্দ উৎসবের পরিশুদ্ধ সংস্কৃতি “ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা”। আর এভাবেই হলো আমাদের পবিত্রতায় মুগ্ধ সংস্কৃতি খুশির ঈদ বা ঈদুল ফিতর।
আবূ দাউদ ও নাসায়ী শরীফের হাদীসে এসেছে, “হযরত আনাস রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা. যখন মক্কা থেকে মদীনায় হিযরত করে এলেন, তখন তিনি দেখলেন সেখানকার মানুষ বছরে দু’টি নির্দিষ্ট দিনে খেলাধুলা ও আনন্দ উপভোগ করে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, এ দু’টি দিন কেমন? তারা বলেন, আমরা ইসলাম আগমনের পূর্বে এ দু’টি দিনে, খেলাধুলা, তামাশা ও আনন্দ উপভোগ করতাম। তখন রসূলুল্লাহ সা.বলেন, আল্লাহ এ দু’টি দিনের পরিবর্তে দু’টি উৎকৃষ্ট দিন নির্ধারিত করে দিয়েছেন। একটি ঈদুল ফিতর এবং অন্যটি ঈদুল আযহা।” এ থেকে বুঝা যায়, মুসলিম উম্মাহর ঈদুল ফিতরের উৎসব নিছক কোনো তথাকথিত উৎসব নয়। এর রয়েছে ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য। যা উল্লেখ করতে পারি আমরা এভাবে।
বৈষম্যহীন ধর্মীয় চেতনায় ঈদুল ফিতর
ঈদুল ফিতর একটি ধর্মীয় উৎসব। এটি একটি বৈষম্যহীন ধনী-গরীবের ইবাদাতও বটে। যা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালার নির্দেশিত ফরয ইবাদাত পালনের পর। রমযাানের পুরো মাসব্যাপী বিশ্বমুসলিমদের সাওম পালনের পরই তারা এ উৎসব পালন করে থাকে। এ উৎসবকে পুরোপুরি উৎসব হিসেবে পালন করতে হলে অবশ্যই তাকে সিয়াম পালন করে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে হবে। সিয়ামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল কুরআনের সূরা আল বাকারাহর ১৮৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন,“ওহে তোমরা যারা ঈমান এনেছো, তোমাদের জন্য রমযানের সিয়ামকে ফরয করা হয়েছে, যেমনভাবে ফরয করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির ওপর। যেনো তোমরা তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করতে পারো।”
রমযানের মাসকে মুসলিম উম্মাহ যাতে আর ক’টা সাধারণ মাসের মতো মনে না করে। পরিপূর্ণ গুরুত্ব প্রদান করে এইভেবে যে, এ মাসটা হিদায়াতের মশাল আল কুরআন নাযিলের মাস। মহান আল্লাহ সূরা আল বাকারাহর ১৮৫ নম্বর আয়াতে বলেন, “রমযান মাস! এ মাসেই নাযিল করা হয়েছে আল কুরআন। যেটি বিশ্বমানবতার হিদায়াত এবং সত্য মিথ্যার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্যকারী”। সুতরাং এর ধর্মীয় গুরুত্ব কতটুকুন তা সহজেই অনুমান করা যায়। ঈদুল ফিতরের দিনে রয়েছে দু’রাকায়াত সালাত আদায়ের বিধান। এ সালাতের গুরুত্ব এতোটাই যে, এ সালাতের ঈদগাহে যাওয়ার জন্য মহিলাদেরকেও তাকিদ দিয়েছেন আমাদর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সা.।
সামাজিক বন্ডিংয়ের ঈদুল ফিতর
পবিত্র ঈদুল ফিতর পুরোপুরি একটি সামাজিক বন্ডিংয়ের উৎসব। সামাজিক জীব হিসেবে এদিনে মানুষ একে অপরের খোঁজ খবর নেয়। একে অপরের সুখে দুঃখে শরীক হয়। দলে দলে ঈদগাহে যায়। জামায়াত বদ্ধভাবে সালাত আদায় করে। ভ্রাতৃত্বের সামাজিক বন্ধনকে করে সুদৃঢ়, করে আরো মজবুত। মুসলিম মিল্লাতে তৈরি করে সৌহার্দের সীসা ঢালা প্রাচীর আর ঐক্যের স্মৃতিসৌধ। কারণ মহান আল্লাহ তা’য়ালা সূরা আল হুজরাতের ১০ নম্বর আয়াতে বলেছেন, “নিশ্চয়ই মু’মিনরা পরস্পর ভাই ভাই, সুতরাং তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে ইসলাহ বা মীমাংসা করে দাও এবং আল্লাহক ভয় করো, যাতে করে তোমরা রহমত প্রাপ্ত হও।” পবিত্র ঈদুল ফিতরের এ দিনে এ দৃশ্যই যেনো ভেসে ওঠে প্রত্যেকটি মুসলিম হৃদয়ের মানসপটে, ইসলামী সমাজ তথা মুসলিম উম্মাহর মাঝে।
নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার শিক্ষা দেয় ঈদুল ফিতর
ঈদুল ফিতরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে সীমাহীন। এ দিনটিতে বিশ্ব মুসলিম শুধু ব্যক্তিগত আনন্দ আর ভোগ বিলাসে মত্ত থাকে না। এ আনন্দ উৎসবে শরীক করে তাদের ভাই, সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষ গরীব ও দুঃখিদেরকে। তারা পালনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ইসলামের সুমহান শিক্ষা ও নির্দেশ সাদাকায়ে ফিতর আদায়ের জন্য। কারণ রসূল সা. বলেছেন,“সাদাকাতুল ফিতর আদায় না করা পর্যন্ত সাওম পালনকারী ব্যক্তির সাওম আসমান ও জমীনের মাঝখানে ঝুলন্ত অবস্থায় বিরাজ করে, আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না।” বাধ্যতামূলক এ সাদাকাহ আদায়ের সাথে সাথে এ মাসেই বেশি সাওয়াবের আশায় মানুষ বেশি বেশি যেমন দান করে তেমন আদায় করে থাকে আর্থিক ইবাদাত যাকাতও।
ঈদের দিন ইয়াতীম শিশুর কান্না, রসূল মুহাম্মাদ সা. পিতা ও আয়েশা যখন মাতা
ঈদুল ফিতরের দিন সকাল বেলা, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সা. বেড়িয়েছেন যাবেন মসজিদে। দিবেন খুতবাহ, পড়াবেন ঈদের সালাত। পথের পাশে বসে কাঁদছেন এক ইয়াতীম শিশু। প্রিয় নবী দয়ার হাত বুলালেন শিশুর মাথায়। জিজ্ঞেস করলেন, হে বালক! তুমি কেনো কাঁদছো আজ ঈদের দিন। বালকটির দুঃখ আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে বললো, আমার পিতা বেঁচে নেই। মায়ের শুণ্যতাও আছে আমার। রসূল তাকে নিয়ে বাসায় ফিরলেন আর বললেন আজ থেকে ‘আমি তোমার পিতা, আর আয়েশা তোমার মা।’ হযরত আয়েশা বালকটিকে গোসল করালেন। নতুন জামা কাপড় পড়ালেন। নিজ হাতে খাওয়ালেন। নবীজির হাত ধরে মসজিদে গেলেন। ছেলেটির আনন্দ আর ধরে না। সত্যি সত্যি অনুভব করলেন ‘ঈদ মানে খুশি আর ঈদ মানে আনন্দ।’
ঈদুল ফিতর ও হযরত উমার রা. এর কান্না
একদিন ঈদের দিন সকাল বেলা। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমার রা. কান্না শুরু করে দিলেন। কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেন, আসলেই কী আমার জন্য ঈদ? আমি কী ঈদের খুশি উপভোগ করতে পারবো? আমি কী সাওমের হক আদায় করতে পেরেছি? আমি কী নিয়মিত কুরআন অধ্যয়ন করতে পেরেছি? আমি কী কুরআনের আলোয় আলোকিত জীবন গঠনের শপথ নিতে পেরেছি? মহান আল্লাহ কি আমাকে রমযানে ক্ষমা করেছেন?
ঈদুল ফিতর কলুষিত করছে বিজাতীয় সংস্কৃতি
মুসলিম উম্মাহর জন্য ইসলামে রয়েছে এক অনন্য সংস্কৃতি। তারপ্রভাব রয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতরেও। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি এক শ্রেণির ধান্দাবাজ কুমতলবে পড়ে থাকা তথাকথিত সংস্কৃতি সেবিরা ভূতের মতো উল্টো চলছে। আবার হতে পারে এটা তাদের অজ্ঞতারই সোনালী ফসল। তারা পবিত্র ঈদের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ভুলিয়ে দেয়ার চক্রান্তে সদা তৎপর ও লিপ্ত। তারা ঈদুল ফিতরকে কেবলমাত্র চিত্রিত করে উদ্দেশ্যহীন এক আনন্দ উৎসব হিসেবে। আসল সত্য হলো, ঈদুল ফিতর আসে দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পরিসমাপ্তি, আনন্দময় ইফতার, পরিশুদ্ধ হওয়ার ইবাদাত ইতিকাফ ও সালাতুত তারাবীহসহ বিশেষ ইবাদাত বন্দেগীর পরিসমাপ্তির মাধ্যমে আল্লাহর ভালোবাসায়সিক্ত হয়ে শুকরিয়ায় মস্তক অবণত বা আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাকী এগারো মাস চলার অঙ্গীকার শানিত করার দিন হিসেবে। তা নিমিষেই ভুলিয়ে দেয়া হয় ধার করা সংস্কৃতির বাহন ঢাক-ঢোল-তবলা-বাঁশি বাজিয়ে, নাচে গানে মাতোয়ারা করার মাধ্যমে। নোংরা ফ্যাশন শো-তো নেমে পড়ে আগামীর ভবিষ্যৎ নতুন প্রজন্ম যুব সমাজ। সিয়াম সাধনার মর্মবাণী ত্যাগের শিক্ষা, সংযম, শ্লীলতা ও মানবতার কল্যাণ সাধনের মনোবৃত্তি দূরে ঠেলে দিয়ে অপবিত্র আমোদ প্রমোদের করা হয় নানা আয়োজন। তুমুল প্রতিযোগিতা শুরু করা হয় রমযানের বার্তাকে পরিহার করার। ধর্মীয় বিধানে আবদ্ধ ঈদুল ফিতর পরিণত হয় ঈদকার্ড বিতরণ, এসএমএস বিনিময় ও ফেসবুক স্টাটাস প্রদান ও জুয়ার আডডা খ্যাত মেলা উদযাপনে। বিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. আব্দুর রহমান সিদ্দিকী তাঁর “অভিঘাতের মুখে ঈদ সংস্কৃতি: চাই নবজাগরণ” শীর্ষক প্রবন্ধে ঈদের নামে প্রচলিত অপসংস্কৃতির এক সুনিপুণ ও নিখুঁত চিত্র এঁেকছেন এভাবে, ‘এখন শোনা যাচ্ছে ঈদের নাটক, ঈদের নাচ, ঈদের গান, ঈদের কনসার্ট । ঈদের ফ্যাশন শো, ঈদের রেসিপি, ইত্যাকার বিচিত্র সব বিষয়ের কথা। ঈদের সঙ্গে এ সবের আদৌও কোনো যোগসুত্র নেই। তবুও ঈদ উপলক্ষে এসব হাজির হয় কোটি কোটি দর্শকের সামনে। ঈদকে তার আপন মহিমা থেকে হটিয়ে ভিন্নতর এক মাত্রায় উপস্থাপন করা হয়। বিশেষভাবে নবীন প্রজন্মের সামনে ঈদকে একটা হই-হুল্লোড়, রঙ তামাশা, গান-বাজনা, গলাগলি, ঢলাঢলির উপলক্ষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টায় ব্যস্ত কতক মিডিয়া। তাদের বিচেনায় ‘ঈদ মানে জোছনা রাতে হাস্নাহেনার গন্ধে’ ফস্টি নস্টি করার মাহেন্দ্র সুযোগ। ঈদ যে রমযানের শিক্ষা-সংযম, ত্যাগ ও তাওহীদি চেতনার পরিসীমার মধ্যে সম্পাদ্য একটি ধর্মীয় আচার ও ইবাদাতের অংশ তা ভুলিয়ে দিয়ে নবীন প্রজন্মকে ভিন্ন দিকে ধাবিত করানো হচ্ছে।’
অপসংস্কৃতির এ কালো থাবা থেকে ঈদুল ফিতরকে ফিরিয়ে আনতে হবে তার আপন মহিমায়। দূর করতে হবে শরী’য়াহর বিধিবিধান বহির্ভূত যাবতীয় কুসংস্কার। গ্রহণ করতে হবে ঈদের প্রকৃত শিক্ষা। আলকুরআনের আলোয় জীবন আলোকিত করে মানবতার কল্যাণমুখী সমাজ বির্নিমাণের মানসিকতা তৈরি করতে হবে ঈদের আনন্দ উপভোগের মাধ্যমে। যারা সিয়াম পালন করেনি, সিয়ামের শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়ন করেনি। করেনি কুরআন অধ্যয়ন, কুরআনের আলোয় আলোকিত করেনি নিজের জীবন। ঈদ যে তাদের জন্য নয় সে অনুভূতিও জাগ্রত করতে হবে আমাদেরকে।
সুতরাং একথা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে যায় যে, রমযানের শুরু থেকে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত পুরোটা মাস যে, জীবন চর্চা করার ব্যবস্থা করেছে আমাদের জীবন চলার পথ ইসলাম তা যেনো এক উত্তম সংস্কৃতিরই পরিচায়ক। জীবন ও জগতে মানুষের দৈহিক, আত্মিক, মানবিক, ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সকল ক্ষেত্রেই যে সংস্কার সাধনের সংস্কৃতি, তাই যেনো করে থাকে পবিত্র মাহে রমযান ও ঈদুল ফিতর।
কাজেই উত্তম সংস্কৃতির মাস হলো মাহে রমযান। সে অর্থে প্রশিক্ষণ শেষে আমরা যেমন সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করি, কিংবা কর্মক্ষেত্রে যোগদানের পূর্বে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করি, রমযান মাস শেষে ঈদুল ফিতরও যেনো তেমনি একটি অনুষ্ঠানের নাম। তবে নাম সর্বস্ব অনুষ্ঠান নয় বরং মুসলিমদের কৃষ্টি কালচারের পরিচয়, যা দিয়ে লাভ করা যায় অন্যান্য জাতি ও ধর্ম থেকে আলাদা বৈশিষ্টের।
তাই আমাদের অবশ্য কর্তব্য রমযান, সিয়াম ও কুরআনের হক যথাযথভাবে আদায় করে তথাকথিত অনুষ্ঠান সর্বস্বতা থেকে মুক্ত হয়ে আমাদের ঈদ সংস্কৃতিকে শরী’য়াহ নির্দেশিত পন্থায় পরিপালন করতে পারি, তবেই ঈদ ভাস্বর হয়ে ওঠবে আমাদের জীবনে আপন মহিমায়। বয়ে আনবে আমাদের যাপিত জীবনে অনাবিল সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধির সোনালী সোপান। যা চিত্রিত হয়ে ফুটে ওঠেছে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নিম্নোক্ত কবিতায়,
“আল্লাহর রাহে দিতে পারে যারা
আপনারে কোরবান
নির্লোভ নিরঅহঙ্কার যারা
যাহারা নিরাভিমান,
দানব-দৈত্য কতল করিতে
আসে তলোয়ার লয়ে,
ফিরদৌস হতে এসেছে যাহারা
ধরায় মানুষ হয়ে,
অসুন্দর আর অত্যাচারীরে
বিনাশ করিতে যারা
জন্ম লয়েছে চির নির্ভীক
যৌবন-মাতোয়ারা
তাহাদেরই শুধু আছে অধিকার
ঈদগাহে ময়দানে।”
লেখক :
প্রাবন্ধিক, শিশু সাহিত্যিক ও পিএইচডি গবেষক এবং সম্পাদক-দ্বিমাসিক আল মাকতাব