রূপান্তর: আমিন আল আসাদ
[সোহরাব সেফেহেরির জন্ম ১৯২৪ সালের ৭ ই অক্টোবর। ইরানের কাশান শহরে।
মৃত্যু ২১ এপ্রিল-১৯৮০। তিনি ছিলেন ইরানের এক আধুনিক, বিপ্লবী ও প্রেমের কবি
এবং একজন সফল চিত্রকর। তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু সমাজ প্রেম প্রকৃতি যুদ্ধ সংঘাত সংগ্রাম। তাঁর কবিতা উত্তরাধুনিকতাকে স্পর্শ করেছিলো। আধুনিক ফার্সি সাহিত্যে ইরানের পাঁচ বিখ্যাত কবির একজন হলেন কবি সোহরাব সেফেহেরী। অন্য চারজন হলেন ‘নিমা ইউশিজ, আহমেদ শামলো, মেহেদী আখাবান সালেহ এবং ফরগ ফখরোযাদ। তাঁর কবিতা ইংরেজী, ফরাসী, স্পেনিশ, ইতালী, লিথুনিয়ান ও কুর্দী ভাষায় অনুবাদ হয় ]
মহিয়সী
সোহরাব সেফেহেরি
সত্যান্বেষী, প্রেমময়ী মহিয়সী এক তিনি
সময়ের উজ্জ্বল দিগন্ত ধারণ করে মিশে গেছেন আলোকের সাথে
তিনি ছিলেন পৃথিবী প্রকৃতি ও বিস্তীর্ণ জলরাশির কন্ঠস্বর
তাঁর কন্ঠে ধ্বনীত হতো ব্যাথিত সত্যের কাতরতা
তাঁর অভ্রভেদী অন্তর্দৃষ্টিতে দৃশ্যমান ছিলো পারিপার্শ্বিকতার হৃদকম্পন
উজ্জ্বল আলোর প্রজ্জল ময়ুরী হওয়া স্বত্বেও হারিয়ে গেলেন
অনাদরে তীব্র অবহেলায়
তাতেও দুঃখ ছিলো না তাঁর।
কেননা তিনি জানতেন তাঁর অতিক্রান্ত পথে বিছানো আছে ফুলেল সৌরভ
আছে অপার্থিব মখমল, অমরত্বের ঝরনাধারা সুশীতল ও সুমিষ্ট
চিরসবুজ বৃক্ষরাজী, জীবন্ত পাহাড়, সুস্বাদু ফল ও বর্ণিল ফুলের বাগান।
আর অফুরন্ত ইচ্ছের সরোবর
যেখানে গেলে আর ফিরে আসার প্রয়োজনই হয় না।
[তুরস্কের একজন কুর্দি বংশোদ্ভূত বিপ্লবী নারী কবি বেজান মাতুর। ১৯৬৮ সালে তুরস্কের কাহরামানমারাশ শহরে আলাভী কুর্দি পরিবারে জন্ম। লেখক, সাংবাদিক কবি বেজান মাতুর আধুনিক তূর্কী কবিতার অন্যতম প্রধান নারী কন্ঠস্বর। আংকারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে পড়াশুনা শেষ করে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে প্রহণ করেন। তিনি মোট নয়টি কাব্যগ্রন্থ ও দুইটি বড় প্রবন্ধ গ্রন্থ সহ মোট এগারোটি গ্রন্থ রচনা করেন। বার্লিনে অস্থায়ী বসবাস হলেও ইস্তাম্বুল তাঁর বর্তমান স্থায়ী ঠিকানা]
অব্যক্ত অবয়বের প্রকাশমানতা
বেজান মাতুর
হ্যাঁ, আমি তাঁর কথাইতো বলছি!
শোকতপ্ত অবয়বে তাঁর অবচেতন হৃদয়পটে এক স্থানের চিত্র আঁকে
আদতে যা অস্তিত্বহীন।
এটি নয় কোন ভাষা কিংবা আত্মসংলাপ। এমনকি কোন আওয়াজও নয়।
এ হৃদয় প্রবোধ মানে না।
জীবনের উল্টো পথে রয়েছে অবধারিত মৃত্যু।
আমরা চাই জীবন হোক অর্থবহ।
জগৎকে জানতে হবে। সবুজে ঘেরা পাহাড় পর্বতের নিঃসরণ
এবং তা থেকে গড়িয়ে পতিত অন্ধকার বিদূরিত হয়ে প্রকাশমান ফর্সা আকাশ,
ছোট শিশুর ঘুমঘোরেও দেখা হাবিজাবি স্বপ্ন, ভেতর বাড়িতে ডানা ঝাপটানো
প্রাগৈতিহাসিক পাখি, বেগুনী পাহাড়ের ঐ পাড়ে তাকিয়ে থাকা দৃঃখ ভরা চোখ
ময়দানে হেঁটে যাওয়া উদাসিনতা তার চেহারায় ফুটে থাকে।
এভাবেই সচিত্র হয় সে অব্যক্ত অবয়বের প্রকাশমানতা।
[মিশরের কবি ও সাংবাদিক মোহাম্মদ হারবি ১৯৬১ সনে জন্মগ্রহণ করেন। কায়রো শহরের প্রসিদ্ধ আরবি দৈনিক আল আহরামে চাকরি করতেন। কায়রো বিশ্ববিদ্যালযে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিষয়ে পড়াশুনা করেন। স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখি করতেন। সাংবাদিকতার উপর তাঁর একটি বিখ্যাত বই আছে আরবি ভাষায়। জীবনের নানা দিক, স্মৃতিকথা লিখেন। ‘একাকীত্ব’ ‘অবসর জীবনের কথকতা’।
আমার ছবি
মোহাম্মদ হারবি
মেঘের অক্ষ থেকে প্রেরিত বার্তা, সমগ্র ভবিষ্যৎবাণী সমাপ্তি টানা হয়েছে
আমি ফিরে এসেছি একা উচ্চতা ভেঙে
আমি আমার কবিতা, আমারি প্রতিচ্ছবি
আর আমার প্রতিচ্ছবিই আমার কবিতা-যা আমি রচনা করি।
এবং আমাকেই লিখি তাতে,
আমিই আমার আয়না।
এবং এখানে একটি ছবি আছে যা আমারি বাণীচিত্র, আমার কবিতার প্রতিচ্ছবি।
আমিই আমার ছায়া এবং সে হাঁটে আলোর কাছাকাছি।
শয়তান আমাকে ধোঁকা দেয়, বাধা দেয় লিখতে।
তবুও আলোকদীপ্ত পথে হাঁটে আমার কলম-আমার লেখনী
বিজয়ী সৈনিকরূপে ঘোষিত হয়েছে নাম আমার।
এবং লিপিবদ্ধ হয়েছে এফিটাফে-আমার কবরে,
যেখানে শুনশান হিজলের নীরবতা। যা আমাকে প্রতিচিহ্নিত করে না।
(গভীর নীরবতা) সুরা ফাতিহা পাঠ হচ্ছে।