রূপান্তর : খালিদ সাইফ
[জালালুদ্দিন রুমি (১২০৭-১২৭৩) এক বিস্ময়কর প্রতিভা। প্রায় সাতশত বছর পর পৃথিবীবাসীর সামনে তার কবিতার নতুন মূল্যায়ন শুরু হয়। যেন জয় করে নেন। সারা বিশ্ব জুড়ে তাকে নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক চর্চা। বিভিন্ন ভাষায় অজস্র অনুবাদ প্রকাশিত হতে থাকে রুমির কবিতার। পরিণত হন পৃথিবীর অন্যতম প্রধান ধ্রুপদি কবিতে। বাংলা ভাষায়ও রুমি অনুবাদের জোয়ার আসে। তার কবিতার মূল বিষয় হলো প্রেম। এ-প্রেম যেমন স্রষ্টার প্রতি তেমনই সৃষ্টিকে নিয়েও। রুমির কবিতা যেন চুম্বকের মতো Ñ সবাইকে কাছে টানে।]
১.
সৌন্দর্যের মতো তোমার মুখ দেখে
হয়েছি তীব্র আশিক।
তোমার সুরাহি থেকে পান করে সুরা Ñ
আকণ্ঠ মাতাল।
তোমার প্লাবনের মতো প্রেমে Ñ
সম্পূর্ণ বিলীন।
তোমার মাঝে অদৃশ্য হয়েই
অনেক বেশি দৃশ্যমান।
৩.
চলেছি ভেসে
বন্যার স্রোতে
যে-বন্যা হয়নি কখনও শুরু।
বন্দি হয়েছি কারাগারে
যে-কারাগার নেই এই পৃথিবীতে।
হয়নি এখনও
দাবা খেলা
না খেলেই আমার কিস্তিমাৎ।
না নিয়ে এক পেয়ালাও
তোমার সুরার স্বাদ
একেবারে বেহুঁশ।
করিনি প্রবেশ
যুদ্ধক্ষেত্রে
তবুও আহত
হয়ে গেছি খুন।
জানা হয়নি কখনও
কী যে ফারাক
আকার আর নিরাকারে।
ছায়ার মতো
কখনও আছি
আবার,
কখনও নেই।
২.
এ-কি তোমারই মধুরিমা
যাকে শ্রীমণ্ডিত করে বনরাজি ?
এ-কি তোমারই সুরভি
যাতে মাতাল হয় বনবীথি ?
এ-কি তোমারই মহিমা
যা পরিণত করে এই নদীকে Ñ
অমৃতধারায় ?
শত শত মানুষ খুঁজছে তোমায় Ñ
বহুজন মৃত
খুঁজে খুঁজে
এই দ্রাক্ষাকুঞ্জে।
কোথায় লুকিয়ে আছো
এই নিসর্গের কোন নিরালায়?
সন্ধানে তাদের কোনো কষ্ট নেই
প্রেমিক হয়ে আসে যারা
তাদের সহজেই দাও দেখা;
মিশে আছো বায়ুর ভেতর
মিশে আছো অমৃতধারায়।
৪.
প্রিয়তম কানে-কানে বলে,
শিকারি হওয়ার চেয়ে শিকার হওয়াই ভালো,
আমার জন্য হও অবুঝ।
সূর্য হতে চেষ্টা করো না
ধূলিকণা হও;
বাস করো সাথী হয়ে
হও গৃহহীন।
প্রদীপ হবার ভান করো না
পতঙ্গ হও
তাহলেই পাবে জীবনের মানে
অলৌকিক শক্তির তোহফা।
৫.
প্রেমে পড়েছি ভালোবাসার
ভালোবাসা প্রেমে পড়েছে আমার
আত্মা প্রেমে পড়েছে শরীরের
শরীর আত্মার।
দু’হাত বাড়িয়েছি ভালোবাসার প্রতি
ভালোবাসা করেছে আলিঙ্গন,
প্রকৃত প্রেমিকের মতো।