ঈদের মতোন
নয়ন আহমেদ
বসে আছি ঈদের মতোন আনন্দ নিয়ে
যাবতীয় উত্তাপে
অবিভাজ্য আকাক্সক্ষায়
নম্র চাহনিতে
উৎসুক জিজ্ঞাসায়
এবং পরিমিত যাপনের উচ্চতায়
এবং আগামীকালের ভেতর ঢুকে যাবার অভিপ্রায়ে।
কে কে যাবে একটা যাপনের ভেতর?
অথবা কারা ছিটাবে নুনের সদর্থক বীজ
এই আবহে?
ধবধবে উঠোনের নৈকট্যে
এই পুষ্পক দিনের পরিসীমায় বা মাঠে কিংবা জমিতে?
কে বপন করবে ইচ্ছা ও রুচির বীজ?
কারা মেলে দিতে চাইবে এক একটি রুচিকর শব্দের মতোর ঘ্রাণ?
যে সূর্য পেখম ছড়িয়ে ওঠে প্রতিদিন
যে আবেগ শিশুর মতোন মায়ের গলা ধরে
বাবার হাত ধরে বেড়ে ওঠে আর মূল্যবোধ নামে বাতাস ছড়ায়
ভাই হয়ে
বোনের দ্যুতি হয়ে
যে জলের মায়া শিখে শিখে জীবন বানায় হেসেখেলে
আমি তার হাত পা চোখ কান নাক হয়ে বসে আছি
সন্তানের চুমু হয়ে
একবার ঝাউগাছের ছায়া হয়ে
চড়ুই শালিক ময়না টিয়া কোকিলের সুর হয়ে
কিংবা কাকের ভোর হয়ে আছি।
আমি আশা ও আনন্দে জেগে আছি।
আমি কথা বলছি আরও একটা ঈদের
আরও একটা বটবৃক্ষের উদার ছায়ার
আরও একটা আতরমাখা কুয়াশার মতো ভোরের
নরম মাটিতে পোঁতা গাছের মতো শান্তি ও সান্ত্বনার
অথবা চিরদিনের একটা খালের পাড়ের সকাল ও বিকালের থইথই উচ্চারণের।
মূলত একটা হাস্যোজ্জ্বল সভ্যতার উদয় হবে।
বসে আছি যাবতীয় রোদের মতো
আরও একটা আগামীকাল হবো বলে।
মূলত একটা পরিণামদর্শী সার্বভৌম হবো তোমাকে জানিয়ে।
এইসব ঈদ নিয়ে অনন্ত কাল ধরে অপেক্ষায় আছি।
হে চাঁদ ঈদের চাঁদ
আহসান হাবিব বুলবুল
হে চাঁদ ঈদের চাঁদ
তুমি উঠো না—
এখনো ছমির উদ্দিন তার মেয়েকে
নতুন জামা কিনে দিতে পারে নি।
জমিলা বিবি টিসিবি’র লম্বা লাইনে
এখনো দাঁড়িয়ে,
সমত্ত যুবক ফুটপাতে পড়ে আছে
নেশার ঘোরে!
আবরার রিফাত বিশ্বজিতের রক্তভেজা শার্ট
এখনো ওড়ে বাতাসে!
হে চাঁদ ঈদের চাঁদ
তুমি উঠো না—
বারুদের গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে
সিরিয়া ইউক্রেনে,
ফিলিস্তিন কাশ্মির উইঘুরে
শহীদি মায়ের বিলাপ এখনো থামে নি!
যুদ্ধাহত সেই শিশুটি হয়তো এতদিনে
সব বলে দিয়েছে তার আল্লাহকে!
সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসা শিশু আয়নালের
নিথর দেহ এখনো কাঁপছে অভিমানে!
হে চাঁদ ঈদের চাঁদ!
তবু তুমি এসো আমাদের ঘরে
রোদন আর লজ্জা মুছাতে,
আমাদের দূঃখের ভার লাঘব করতে।