এনায়েত রসুল
অনামিকা! চার বছর পর তোমাকে লিখছি! চার বছর শুধুই চারটি বছরই নয়, অনেকগুলো দিনের সমষ্টি। সেই দিনগুলোতে আমাদের দেখা হয়নি, কথা হয়নি। দিন হেঁটেছে দিনের পথেÑ আমরা সরে গেছি দূর থেকে দূরে। অথচ এমনও দিন ছিল যখন আমরা এক মুহূর্তের জন্যও বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারিনি। এখন পারছি। পারছি, কারণ এখন অবিশ্বাস নামের এক দুর্ভেদ্য দেয়াল মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে তোমার আর আমার মাঝে। সে দেয়াল আমাদের দুজনকে সরিয়ে রেখেছে হৃদয় আঙ্গিনার দু প্রান্তে। কিন্তু সরিয়ে রেখেই কি একজনার মন থেকে অন্যজনার স্মৃতি মুছে দিতে পেরেছে? যদি পেরেই থাকবে, তাহলে নিজেকে এতো নিঃস্ব আর একাকী মনে হয় কেনো? তোমারও কি তাই মনে হয়, নিঃস্ব আর একাকী?
এ চিঠি পেয়ে তুমি যতোটা বিস্মিত হচ্ছো, তোমাকে লিখতে বসে আমিও ততোটাই বিস্মিত হচ্ছি। দুজন দুজনার মুখোমুখি হবো না, যোগাযোগ রাখবো না, যতো দ্রুত সম্ভব ভুলে যেতে চেষ্টা করবÑ তেমনই তো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম দুজন। পরম নিষ্ঠার সঙ্গে সে সিদ্ধান্ত মেনেও চলেছি। তোমাকে ভুলে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিÑ চিঠি লিখিনি। ফোন করিনি। এমন কি এ্যালবামের পাতাও উল্টে দেখিনি গত চারটি বছর। সেই কঠোর সংযমের কারণে নিজের ভেতর এমন আস্থা গড়ে উঠেছিলÑ তোমাকে ভুলে থাকার প্রচেষ্টায় আমি সফল হয়েছি। ভুলে যেতে পেরেছি তোমাকে। কিন্তু আমার জীবনে যখন একটা অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে গেল, তখন মনে পড়ল তোমার কথা! মনে হলো, যে কথা বলার জন্যে আমার মন সমব্যথী কাউকে খুঁজে ফিরছে, সে কথা শুধু তোমাকেই বলা যায়। শুধু তুমিই পারবে আমার ব্যথিত মনে ওপর সান্ত¦নার প্রলেপ বোলাতে। কিন্তু কেনো এমন মনে হলো, অনামিকা! তাহলে কি তুমি আজও আমার অবচেতন মনের বাগানে প্রজাপতি হয়ে উড়ে বেড়াচ্ছো?
এই যে তোমাকে লিখছি, এ চিঠি পেয়ে তুমি হয়তো ভাববে এ আমার যোগাযোগ গড়ে তোলার এক নির্লজ্জ প্রচেষ্টা। কিন্তু বিশ্বাস করো, একেবারেই তা নয়। এ চিঠি লেখার পেছনে সান্ত¦না খুঁজে ফেরার অভিপ্রায় ছাড়া অন্য কোনো অভিপ্রায় নেই আমার।
তুমি জানো, বছরে অন্তত একবার আমাকে গ্রামের বাড়িতে যেতে হয়। সেখানে গেলে নানা দিক থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে, আর আমি দৃঢ়তার সাথে সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেই। প্রতিবারের মতো এবারও বাড়িতে যাবার পর বাবা-মা বিয়ে করার জন্য চেপে ধরেছেন। আমিও নানা সমস্যার কথা বলে তাদের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এবার তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তাই আমার বন্ধুদেরও এ কাজে লাগিয়েছেন। বন্ধুরা বিপুল উৎসাহ নিয়ে আমার পেছনে লেগে থেকেছে। এ গ্রাম সে গ্রামের মেয়েদের ছবি দেখিয়ে আর গুণকীর্তন করে অভিজ্ঞ ঘটকের ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু আমার অবস্থানে আমি অনড় থেকেছি।
আমার এই অনড় অবস্থানের কথা শুনে তোমার মনে হতে পারে অবচেতন মনে আমি তোমার প্রতীক্ষায় রয়েছি। না অনামিকা, অতোটা ব্যক্তিত্বহীন আমি নই। নিজের হাতে গড়ে তোলা প্রেমের সৌধ ভেঙে যাবার পর বালির সৌধ গড়ে তুলবো, অতোটা নির্বোধ আমি নই। যা হোক, এবার আসল কথা বলি।
গ্রামের বাড়িতে গেলে চাচাতো ভাই ফিরোজ আমার সঙ্গে ঘুরঘুর করে। দুজন একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি, তাই ওর সঙ্গে আমার বন্ধুতের সম্পর্ক। সেই ফিরোজ আমাকে একটি মেয়ের কথা শোনায়। আমাদের গ্রাম থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ফুলপুর, সেই গ্রামের মেয়ে টুকটুকি। কলেজে পড়ছে। রূপ-গুণ আর বংশমর্যাদায় তুলনীয়া। তাই কলেজে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে নানা দিক থেকে বিয়ের প্রস্তাব এসেছে টুকটুকির জন্যে। কিন্তু নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে বিয়ে করবে না, এ কথা বলে সব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে সে।
সে সময় টুকটুকিদের কলেজে বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ করা হচ্ছিল। একদিন নির্মাণাধীন ভবনের পাশ দিয়ে যাবার সময় টুকটুকির পায়ে তারকাঁটা ঢুকে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ওটা বেরও করা হয়। ব্যথাটা তেমন কষ্টদায়ক ছিল না বলে টুকটুকি নিশ্চিন্তে দিন কাটাতে থাকে। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। সেখানেই হয় ভুল। কয়েক দিন পর টুকটুকির পায়ে পচন ধরে। দিনে দিনে তার পরিধি বেড়ে যেতে থাকলে ওকে ঢাকা নিয়ে আসা হয়। আক্রন্ত জায়গা পরীক্ষা করে ডাক্তার জানান, আরো খারাপ পরিণতির হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে টুকটুকির পা কেটে ফেলতে হবে। তাই করা হয়Ñ হাঁটুর নিচ থেকে বাঁ পা কেটে ফেলা হয়।
শুধু দৈহিক সৌন্দর্যে নয়, মানসিক দৃঢ়তার দিক থেকেও টুকটুকি ছিল অসাধারণÑ আত্মবিশ্বাসী আর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল সে। এক পা হারাবার পরও তাই টুকটুকি নতুন করে জীবন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করতে এসে টুকটুকি জানতে পারে, গ্রামবাসীদের কাছে এখন আর সে টুকটুকি নয়, সে হয়ে গেছে ল্যাংড়া টুকি!
এমন একটি ব্যঙ্গাত্মক নাম আত্মসম্মানকে আহত করলেও টুকটুকি তা মেনে নেয়। ওর মন জুড়ে ছিল স্বপ্নের বসবাস। সেই স্বপ্নের সাথী হয়ে ক্র্যাচ টেনে টেনে কলেজে যেতে থাকে টুকটুকি। এই আসাÑযাওয়ার পথে বখাটে ছেলেরা ওকে নিয়ে ছড়া কেটেছে। খুঁড়িয়ে চলার অঙ্গভঙ্গি করে ওকে বিব্রত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু টুকটুকি সে সব এড়িয়ে থেকে নিজের লক্ষ্যেপথে এগিয়ে গেছে।
নিজেকে নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকলেও আপনজনেরা টুকটুকির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হোন। বিয়ের ব্যাপারে সম্মত হওয়ার জন্য তারা টুকটুকির ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেন। এক সময় টুকটুকিও বুঝতে পারে, এ জীবন এভাবে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। বেঁচে থাকার জন্যে ওরও একটি অবলম্বনের প্রয়োজন হবে। আর স্বামীই হতে পারেন সেই অবলম্বন।
মনের সঙ্গে সমঝোতায় এসে টুকটুকি ওর সম্মতির কথা অভিভাবকদের জানিয়ে দেয়। তারাও পাত্রের সন্ধানে নেমে পড়েন। কিন্তু এক সময় যে যুবকরা টুকটুকিকে বিয়ে করার জন্যে অষ্টপ্রহর ওদের বাড়ির সামনে ঘুরঘুর করতো, ওর কাছ থেকে একটি হ্যাঁ-সূচক শব্দ শোনার জন্যে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকতো, তারা এ সময় গা ঢাকা দেয়। নতুন কোনো প্রস্তাবও আসে না টুকটুকির জন্যে। কারণ সেই একটাইÑ টুকটুকি এক পঙ্গু মেয়ে। জেনেশুনে কে বিয়ে করবে এমন এক মেয়েকে!
নিজেকে আমি যতোটুকু জানি, আমি কোনো ত্যাগী যুবক নই। নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে মানব সেবায় নেমে পড়বো, ততোটা মানবদরদীও নই। তবুও টুকটুকির কথা শোনার পর আমার মনে প্রশ্ন জাগেÑ মানুষের কাছে বাইরের রূপটাই কি সব? অঙ্গহানি হয়েছে বলে মেয়েটিকে সবাই প্রত্যাখ্যান করবে, কেউ তার পাশে গিয়ে দাঁড়াবে নাÑ এ কেমন কথা? মানুষরা কি এতোটাই বিবেকহীন? কিন্তু আমিই বা কাদেরকে বিবেকহীন বলছি! আমি কি নিজেকে এই বিবেকহীনতার দায় থেকে মুক্ত ভাবতে পারি?
বিশ্বাস করো, সে মুহূর্তে আমার ভেতর কেনো যে এমন বোধের জন্ম নিয়েছিল, আমি তা জানি না। বরং বলা চলে, এক স্বভাববিরোধী ভাবনা সারারাত আমাকে জাগিয়ে রেখেছে। শুধু মনে হয়েছে, নিজেকে দায়মুক্ত করার উদ্যোগ তো নিজেকেই নিতে হয়। তাহলে আমি কেনো সেই উদ্যোগ নেবো না?
কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমি নিজ চোখে টুকটুকিকে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। সে কথা ফিরোজকে জানালে ফিরোজ টুকটুকিকে দেখিয়ে আনে। টুকটুকির অনিন্দ্যসুন্দর রূপ দেখে আমি মুগ্ধ হই। আর টুকটুকি যখন ক্র্যাচে ভর করে ধীরে ধীরে চোখের আড়ালে চলে যেতে থাকে তখন মনে হয়, অসহায় মেয়েটি যেনো নিজের অজান্তেই কোনো অন্ধকার গলিতে হারিয়ে যাচ্ছে! এমন ক্রান্তিলগ্নে কারো উচিত সাহায্যের আশ্বাস নিয়ে তার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়া। হাত তো আমারও আছে। আমি কি পারি না সেই হাত বাড়িয়ে দিতে?
অবশেষে আমি টুকটুকির দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। বাবা-মাকে জানিয়ে দিই, বিয়ে যদি করতেই হয় তবে টুকটুকিকেই করব।
অবাক কাণ্ড, আমাকে বিয়ে করাবার জন্যে যে বাবা-মা উঠেপড়ে লেগেছিলেন, টুকটুকিকে বিয়ে করতে চাই শুনে তারা বেঁকে বসেন! জেনেশুনে এক পঙ্গু মেয়েকে পুত্রবধূ করে আনবেন কেনোÑ এ প্রশ্নের জবাব খুঁজে তারা দিশেহারা হোন। শিক্ষা-দীক্ষা, বংশমর্যাদা বা উপার্জনক্ষমতায় আমার কোন কমতি রয়েছে যে আমি এমন একটা সিদ্ধান্ত নিতে চাইছি, তাও তারা জানতে চান। আমি উল্টো তাদের প্রশ্ন করি, সুস্থ কোনো মেয়েকে বিয়ে করে আনার পরমুহূর্তেই যদি সে পঙ্গু হয়ে যায়, তবে কি সেই পুত্রবধূকে তারা পরিত্যাগ করবেন? নিশ্চয়ই তারা তা করবেন না। তাহলে দুর্ভাগ্যক্রমে যে মেয়েটি পঙ্গু হয়েছে, তাকে মেনে নিতে দ্বিধা কোথায়?
আমার এ যুক্তি শুনে বাবা-মা তাদের ভুল বুঝতে পারেন। শুধু তাই নয়, বাবা নিজে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন। টুকটুকির অভিভাবকরা সে প্রস্তাব মেনে নেন। সিদ্ধান্ত হয় দু মাস পর নভেম্বরে আমাদের বিয়ে হবে। দু মাস গ্রামের বাড়িতে থাকা সম্ভব নয়। তাই আমি ঢাকা চলে আসার সিদ্ধান্ত নিই। ঢাকা চলেও আসি। তবে তার আগে ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা।
জানো নিশ্চয়ই, কয়েক দিন আগে আমাদের এলাকার ওপর দিয়ে সিডর নামে এক দুর্যোগ বয়ে গেছে। সিডরের থাবায় বহু মানুষ আর গবাদিপশু প্রাণ হারিয়েছে, খেতের ফসল ভেসে গেছে আর গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে আল্লাহ তা’য়ালার অসীম কৃপায় আমাদের গ্রাম রক্ষা পেয়েছে।
এ ঘটনার দুদিন পর আমি ঢাকা আসার জন্য তৈরি হচ্ছি, সে সময় বাড়ির রাখাল ছেলেটি দৌড়ে এসে জানায় আমাদের খালে এক মেয়ের লাশ ভেসে এসেছে। লাশটি যে কার, তা বোঝা যাচ্ছে না।
তুমি তো জানো, খুন জখম আর লাশ জাতীয় শব্দগুলো আমাকে বিপর্যস্ত করে তোলে। অথচ লাশ ভেসে আসার খবরটি আমাকে বদলে দেয়। এক দুর্বার আকর্ষণে আমি খালপাড়ে ছুটে যাই।
ততক্ষণে সেখানে বহু মানুষ জড়ো হয়েছে। ওসি আর চেয়ারম্যান সাহেবও এসেছেন। জেলেপাড়া থেকে দুজনকে ডেকে এনে লাশ তোলা হয়েছে। আমি দেখতে পাই ওটা এক তরুণীর লাশ। তার সারা শরীর ফুলে গেছে। চোখ দুটো কোটর থেকে বেরিয়ে এসেছে। ঠোঁট দুটো মাছ বা অন্য কোনো প্রাণী খেয়ে ফেলেছে। এসব মিলিয়ে লাশটির চেহারা এমন হয়েছে যে, এটা যে কার লাশ, তা বোঝা যাচ্ছে না।
সেই বীভৎস দৃশ্য সহ্য করার মতো মনোবল আমার ছিল না। আমি তাই প্রচণ্ড আতঙ্কে চোখ বুজি। তবে ভেতর থেকে জেগে ওঠা কৌতূহল আবার আমাকে চোখ খুলতে বাধ্য করে। এবার সেই লাশটির দিকে তাকালে একটি নতুন জিনিস আমার চোখে পড়েÑ আমি দেখতে পাই মেয়েটির বাঁ পা হাঁটুর নিচ থেকে নেই!
উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা আর জনতার মুখে তখন দুটি প্রশ্ন ভেসে বেড়াচ্ছেÑ কে এই মেয়ে? কোন্ গ্রাম থেকে এ লাশ ভেসে এসেছে?
মেয়েটি কে, তা কেউ না বুঝতে পারলেও আমার বুঝতে ভুল হয়নি। তুমিও নিশ্চয়ই বুঝতে পারছো সিডরে ভেসে আসা মেয়েটি কেÑ সে ফুলপুরের টুকটুকি।
কি বিচিত্র মানুষের জীবন! যে মেয়েটির আমাদের গ্রামে আসার কথা ছিল বধূর বেশেÑ সে এসেছে ছিন্নবেশে। যাকে বধূ হিসেবে বরণ করে নেয়ার জন্যে প্রতীক্ষায় ছিলাম আমিÑ তাকে চিরবিদায় জানাতে হয়েছে এই আমাকেই! জীবনের সঙ্গে ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা এর চেয়ে নির্মম আর কি হতে পারে?
আজ যতোই বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকি না কেনো, একদিন দুজন পাশাপাশি ছিলাম। সেই ভরসায় এটুকু বিশ্বাস আছে, তুমি আমার মনের অবস্থা বুঝতে পারবে। মন বলছিল আমার এ বেদনার কথা শুধু তোমাকেই বলা যায়, তাই এ চিঠি লেখা। চিঠি লিখলাম, তবে এ চিঠি তুমি পড়বে কি না, জানি না। শুধু জানি, শারীরিক এবং মানসিক ভাবে আমরা এখন অনেক দূরে বসবাস করছি। সেখান থেকে বড়োজোর স্মৃতিচারণ করা যায়Ñ ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানো যায় না।
যদি এ চিঠিটি তুমি পড়ে থাকো, তবে তোমাকে কিছুটা সময় ব্যয় হয়েছে। সে জন্য ক্ষমা কোরো। আর যদি ইচ্ছে হয়, তবে টুকটুকির জন্যে দোয়া কোরো। কারো দোয়া আজ ওর খুব প্রয়োজন।
ভালো থেকো অনামিকা। সুখে থেকো।
Ñতোমার ভুলে যাওয়া আমি...