রোদন ভরা ঈদ

সাজজাদ হোসাইন খান

গন্ধরাজের পাপড়ি দোলে আধা

নীলের ঝিলে উড়াল পাখি বাধা।

এই পাখিটা দিচ্ছে খবর সাঁঝে

ঈদ আসছে রোদন ভরা লাজে।

পায়েসফোলা তশতরি নাই ঘরে

কোরমা-পোলাও উধাও বিরাণ চরে।

বকুল বনে ঝিমায় ফুলের ডানা

ঈদের থালায় মৌমাছি দেয় হানা।

পিঠাপুলির আমোদ বুঝি শেষ

বইছে শুধু স্নেহের শীতল রেশ।

ঈদ আসে না সুবাস মাখা আর

চাঁদের চোখে ঝুলছে ব্যথার ভার।

জুলুমবাজের রক্ত চোখের কণা

মেঘের তলায় তুলছে বিষের ফণা

কেমনে করি ঈদের হুলুস্থুল

নি’জোসনায় কালচে চাঁদের দুল।

রঙধনুর জন্য ঈদ

জুলফিকার শাহাদাৎ

লাল টুকটুক শাড়ি পড়ে ইফতি, তৃষা ঈদের দিনে

সাজবে যখন পরির মতো, ‘ বলবে সবাই, ‘আহ্ চিনিনে-

তোমরা কারা? নতুন বধূ? চিনব বলো কেমন করে?’

তুই যদি মা থাকতি ঘরে!

আলতা রঙে পা রাঙিয়ে টিকলি পরে ঘুরবে ওরা

গাঁদা ফুলে চুল সাজিয়ে উড়বে বুঝি ফুল-ভোমরা!

ঝুনঝুনিতে ঘর মাতাবে, পুঁতির মালাও রং বাহারি

তুই যদি মা থাকতি বাড়ি!!

বড় দাদুর বুকপকেটে জমানো সব টাকা কড়ি

কে কে পাবে? নয়ন, আজিজ, হাফছা, জুলি আর পাপড়ি

তুইও পেতি, ওদের সাথে তুই তো দাদুর ফুলকুমারী

তুই যদি মা থাকতি বাড়ি!!

এই যে ধরিস ঈদের দিনে দাদুর সাথে ঘুরে ঘুরে

অরিন, রাতিন গ্রাম পেরিয়ে পৌঁছে যাবে অনেক দূরে,

তোর দাদিমা কাঁদবে তখন পরবে না সে নতুন শাড়ি

তুই যদি মা থাকতি বাড়ি!!

তুই না এলে দাদুর বাড়ি সেদিন কি আর ঈদ হবে মা?

তোর ফুপিরাও কেঁদে কেঁদে ভিজিয়ে দেবে ত্রিসীমানা,

তোর বন্ধু রাকিব, নাহিম, তুই না এলে দেবে আড়ি

তুই যদি মা থাকতি বাড়ি!!