প্রতিরোধ পেরুলেই বিজয়

ওমর বিশ্বাস

প্রতিদিন মানুষ জেগে উঠছে মিছিলে

শে¬াগান মানে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানো

জীবনে নয় আশপাশের কোনো না কোনো

সহযোদ্ধার কাছে মৃত্যুর বার্তা

তবু মিছিল বাড়ে মিছিল ছড়িয়ে যায়

শহরময় হতে হতে প্রত্যন্তে

জেন-জি রা যেন বারদ্দ হয়ে ফুঁসে ওঠে

দুপুরের সূর্যের মতো উত্তপ্ত হয়ে।

ইট পাথর দিয়ে কি যুদ্ধ হয়

যায় কি করা সংঘাতের মোকাবিলা?

সেদিন মুখ থুবড়ে পড়ে থাকেনি

তারাও জেগে উঠেছিল পায়ে পায়ে সংগ্রামের সারিতে

গড়ে তোলে প্রতিরোধ মরণাস্ত্রের মুখোমুখি

তারাও শিখে গেছে প্রতিাধের ভাষা।

রাজপথে পড়ে ছিল বিক্ষুব্ধ ইটের টুকরোগুলো

বৃষ্টির কণার মতো উর্বর আনন্দের অঙ্কুরোদগমের অপেক্ষায়

ওরা দুপুরের রাজপথকে টেনে নিয়ে গেছে

টকটকে লাল সূর্যের নতুন ভোরের কাছে।

প্রিয় স্বদেশে জেগেছিল একঝাঁক আবাবিল

ওরা গলিতে গলিতে প্রতিবাদে ছিল

সরব হয়েছিল মানুষের ¯পন্দন কৃষ্ণচূড়ার লালের মতো

ইতিহাসের গতিবাঁকে দাঁড়িয়ে

ওদের হৃদয় ছিল অনিরুদ্ধ

ওরা জানত সামনে ভয়ংকর বাঁধা হিংস্রতা

ওরা জানত প্রতিরোধের যুদ্ধ

ওরা জানত প্রতিরোধ পেরুলেই বিজয়।

বনফুল কাব্য-৫

শাহীন সৈকত

কতদূর গেলে রাণী? কত পথ গেলে বুকে ব্যথা হয়?

তোমার পথ যত লম্বা হয় হোক, হোক আমার জয়

প্রত্যাশা আমার জয়ের শুধু তোমার হৃদয় বাগে

অন্যথা হলে, যা ছিল আমার শক্তির হবে ক্ষয়।

জয়-কে আমি বড় ভাবি না, তোমাকেই শুধু পাওয়া

তোমাকে পাই, বিধাতার কাছে, এই হল আজ চাওয়া

চাঁদের মতো জোৎস্না বিলাও আমার জীবন জুড়ে

সেই জোৎস্নায় ভাসাই তরী, লাগুক দখিনা হাওয়া

দখিনা বাতাসে উত্তরে চলি, এ চলার শেষ নেই

চলার পথে বারবার তাই হারিয়েছি আমি খেই

তুমি মহারাণী সিংহাসনে, আমি যে কোথায় আছি!

চলার পথে আজ তাই আমি পরোয়া করি না কাউকেই।

আমরা কবিতা লিখি

মনসুর আজিজ

আমরা কবিতা লিখি চা কিংবা কফি পান করতে করতে

তোমরা কবিতা লেখো মৃত্যুর পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে

আমরা কবিতা লিখে স্ত্রীর কাঁধে মাথা রেখে পাঠ করে শোনাই

তোমরা কবিতা লিখে স্ত্রী- সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে শোনাও কবিতা

প্রেতের নগরে তোমার কবিতা শোনে মৃত মানুষ,

অশরীরী আত্মা, জ্বীন ও শয়তান

বৃক্ষহীন রুক্ষ মাটিতে-

তবুও আমরা রুয়ে যাই মানবচারা

কখনো যদি পাতা মেলে, ডাল জুড়ে পাখির কিচিরমিচির

আন্দোলিত বৃক্ষের নিচে জড়ো হবে আগামীর প্রাণ

আমাদের স্বপ্ন যুদ্ধহীন সবুজ জমিন

কবিতার ছন্দের মতো শিশুদের কলহাস্যে মুখরিত মানব বসতি

আমাদের আশা— ভালোবাসা ও প্রেমময় আগামীর পৃথিবী।

মঞ্চনাটক

মুহাম্মদ রফিক ইসলাম

ঢিল ছুঁড়লে ঢেউ যে দিকে ভাঙে

তার বিপরীত পাশে জমে সংযত ফেনা

ভাঙনের ধরন বোঝে চুপ থাকতে হয়

গিলেও খেতে হয় কাঁকর-পাথরের ঝোল

যদিও নীরবতা সব-সময় সম্মতি নয়

ভুল সমীকরণে ভুল সমাধান

ভেতরের দ্রোহকে উসকানি দিয়ে

প্রাক-ঘূর্ণি বাতাসকে নিয়ে যেদিকে বসায়

সেদিকে জ্বলে ওঠে ক্ষোভ ও ক্রোধের আগুন

অতিরিক্ত আবেগে বশ মেনে গেলে

জিতে যায় অযৌক্তিক কলহ-বিবাদ

যুক্তির বাইরে গিয়ে হেরে যেতে হয়

মেনে নিতে হয় পরাজয়ের পূর্ব-পরাজয়

হয়তো দ্বিপাক্ষিক সিরিজের অসম স্লটে থাকে

মঞ্চনাটকের শেষ পর্ব

যেখানে অদৃশ্য থেকে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে

অপরিক্কতার সুদীর্ঘ অন্ধকার ছায়া

সু-দৃঢ় প্রজ্ঞার অনুপস্থিতিই হয়তো অকাল গোধূলি

নয়তো সীমাহীন উদারতার লিখিত অপ্রাপ্তি স্বীকার।