ঈদ
সাজজাদ হোসাইন খান
নামল বুঝি হাঁসের ছানা নীলপুকুরে সাদা
ডুবসাঁতারে ভাঙছে পানি ভাসে পালক আধা।
সেই পালকে গন্ধ কিসের ছন্দে মাতোয়ারা
বন্ধ কপাট খুলল হঠাৎ ঝরে খুশির তারা।
খুশির তারায় ফেরেশতারা বরফ রঙে আঁকা
আনন্দ কি দোলায় কেশর স্বপ্ন মাখা মাখা।
এই স্বপনে শিউলি চমক সুবাস উড়ুউড়ু
নীল পুকুরের চোখের ভাঁজে গল্প ঈদের শুরু।
নীলের পুকুর বিশাল পুকুর ধবল হাঁসের ছানা
যাচ্ছে কোথায় সাঁতার কেটে চক্ষু টানা টানা।
চোখের ভিতর ঈদের খবর নিদ ভাঙানো রাত
আলতাডুবা ওড়না পরে অই আসে প্রভাত।
ঈদগাহ মাঠে
আবুল হোসেন আজাদ
আযানের সুর শুনে ভেঙে যায় ঘুম
খুশির পরাগ বুঝি দেয় ভালে চুম।
চারদিকে রোশনাই কল-গুনজন
আনন্দের ফাগুনে রেগে ওঠে মন।
রোজা শেষে সন্ধ্যায় উঠেছিল চাঁদ
সেই চাঁদ নিয়ে এলো খুশি সংবাদ।
খুশি সেতো অমলিন আজ হলো ঈদ
তাই বুঝি চোখে আর উবে গেলো নিদ।
পাখি ডাকে ডালে ডালে মৃদু বায়ু বয়
আজ সব একাকার কেউ পর নয়।
বুকে হবে কোলাকুলি ঈদগাহ মাঠে
সাম্য প্রীতির ডোরে মিলনের হাটে।
বাঁকা চাঁদ
টি এইচ মাহির
নদীর এই আকাশে
একফালি চাঁদে,
ঈদ এলো ঈদ এলো
ঢেউ উঠে বাঁধে।
নদীর এই সন্ধ্যায়
শতেক উল্লাস,
এক ঝাঁক বকুলের
খুশির উচ্ছ্বাস।
কলকলে টলটলে
রব উঠে জলে,
সাম্পান দোল খায়
ঈদ এলো বলে।
সুর আসে দূর হতে,
জামে মসজিদে,
ডেকে যায় বাঁকা চাঁদ
উৎসবের নদে।
ঈদে যে যা নেবে
আতিক রহমান
ঈদে ইতি নেবে প্রীতি
রাসা--ভালোবাসা,
শুভ নেবে শুভেচ্ছা
এ ওদের আশা!
অনু নেবে অনুরাগ
পছন্দ--ছন্দ,
শ্রেয়া নেবে শ্রদ্ধা ও
সুবাস- সুগন্ধ!
স্নেহা - স্নেহ নেবে আর
চন্দন-বন্ধন,
প্রেমা নেবে- দেশপ্রেম
অভি-অভিনন্দন!
আদুরী--আদর নেবে
মম নেবে-- মমতা,
ক্ষমা চায়-- ক্ষমতা ও
সম চায় --সমতা!
কনক -কদর নেবে
সুমি চায়- সাম্য,
ঈদে ভালোবাসা হোক
সকলের কাম্য!
ইচ্ছেপূরণ
শঙ্খশুভ্র পাত্র
ঈদ এসেছে তাই কি ভোরে
ডাকছে দোয়েল পাখি?
সুয্যি বলে, খুশি হলুম
কোথায় দোয়া রাখি!
ঈদের মজা নতুন জামা
বন্ধু-সাথি জুটে,
কিছুতেই যে মন বসে না
এদিক-ওদিক ছুটে।
সন্ধেবেলায় তারার আলোয়
চাঁদটা যখন হাসে
ছোট-বড় সবাই তখন
মাতে যে উল্লাসে।
ঘরে-ঘরে ফিরনি-সেমাই
সুবাসে ভরপুর,
প্রিয়ের সাথে কোলাকুলি-
ঈদ মোবারক’ সুর!
ঈদ এলে যে এমনি করেই
ইচ্ছেপূরণ ঘটে,
গভীর ভালোবাসায় তাকে
রাখি মানসপটে।
ঈদ
কাজী আবুল কাসেম রতন
ঈদ এসেছে, ঈদ এসেছে,
চারদিকে রব উঠেছে
চাঁদের আলো ফুলের হাসি,
চারদিকে ঈদের খুশি।
নতুন জামা-জুতো পরে,
ঘুরবো সবার ঘরে ঘরে।
ফুলিদের জীবন
সেলিম এমরাজ
ফেতরার টাকা আর
যাকাতের শাড়িতে
বার বার ঈদ আসে
ফুলিদের বাড়িতে।
ফুলিদের হাঁড়ি নেই,
চাল নেই, চুলাও
ধান নেই, মান নেই,
নেই বাটি, কুলাও।
ঘরে কোনো ঘটি নেই
পায়ে দেওয়া চটি নেই
থালা নেই, বটি নেই
পরনের কটি নেই
এটি পেলে ওটি নেই।
বর্ণের ছেঁড়া বই-এ
ক খ আছে, গ’টি নেই।
এই বেলা খাওয়া হলে
ঐ বেলা পায় না
সংসারে ফুলিদের
এইটুকু বায়না-
দুই মুঠো ভাত পেলে
আর কিছু চায় না।
গাঁয়ের বাড়ি
জাকির শায়েরী
নাড়ির টানে শহর ছেড়ে
যাচ্ছে গাঁয়ের বাড়ি
ঢাকা শহর শান্ত হবে
ব্যস্ত এখন গাড়ি।
নারী পুরুষ নেই ভেদাভেদ
উঠছে গাড়ির ছাদে,
ওদের নিয়ে চলছে বাহন
ছুটছে দিবা রাতে।
গাড়ি মালিক আছে যারা
হাসি ওদের মুখে,
দ্বিগুণ ভাড়া পেয়ে তারা
আছে দারুণ সুখে।
ঈদের খুশি
আজহার মাহমুদ
ঈদ এলেই ট্রেনে চড়ে
গ্রামের বাড়ি যাই,
গ্রামে গিয়ে সবার সাথে
আনন্দে লাফাই।
ঈদ মানেই সবার কাছে
হাসি-খুশীর জোয়ার,
ঈদ মানেই সবার জন্য
খোলা থাকে দুয়ার।
ঈদের খুশি সবার মাঝে
থাকুক একইভাবে,
কেউ যেন কষ্ট না পায়
অবহেলা আর অভাবে।