শেখ সজীব আহমেদ
আমার প্রিয়াকে ঈদকার্ড দেওয়ার জন্যে আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঈদকার্ডের ভিতরেই লিখে দেবো আমার মনের কথা। তাই ঈদকার্ড কিনতে গেলাম মার্কেটে। যেহেতু ঈদকার্ডে মনের কথা জানাবো সেহেতু বেশি দামি ঈদকার্ড কিনে তো কোনো লাভ নেই। মাত্র দশ টাকা দিয়ে ঈদকার্ড কিনে বাড়িতে চলে আসি। ভাবতে থাকি কীভাবে মনের কথা লেখা যায়-
আমার বন্ধুর মতো রাজু ভাইয়ের নিকট গেলাম পরামর্শ নেওয়ার জন্যে। তিনি আমার বয়স থেকে অনেক বড় হবেন। এখন পর্যন্ত তিনি বিয়েও করেননি। আমাকে দেখলেই ভায়রা বলে ডাকেন। কেননা, রাজু ভাই আমার প্রিয়ার বড় বোনকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করেন এবং তাকে বিয়ে করবেন। তার ইচ্ছে আমি যেন তার ভায়রা হই। ভায়রা হওয়ার জন্যে রাজু ভাই আমাকে যা করতে বলেন তা-ই করে দিই-
গরুর ঘাস কাটা থেকে শুরু করে সবধরনের কাজ। তিনি যখন আমাকে ভায়রা বলে ডাকেন তখন আমার কলিজাটা ঠান্ডা হয়ে যায়। আমি রাজু ভাইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি সাদা কাগজে লিখলাম-
‘আমি তোমাকে ভালোবাসি
আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না
তুমি শুধু আমার।’
কাগজটি ঈদকার্ডের ভিতরে রেখে দিলাম।
আকাশে ঈদের চাঁদ দেখা গেল,
রাত পোহালেই ঈদ হবে। আমি ঈদকার্ড নিয়ে আমার প্রিয়ার বাড়ির দিকে আসি।
কিন্তু ঈদকার্ডটি দিতে সাহস পাচ্ছি না। রাজু ভাইকে খবর দিলাম এখানে আসার জন্যে। তিনি আসলেন। রাজু ভাইকে ঈদকার্ডটি দিলাম। তারপর প্রিয়ার ছোট বোনের কাছে দিয়ে,প্রিয়াকে দিতে বললেন। প্রিয়া যখন ঈদকার্ডটি হাতে পেল, তখন আমার নাম দেখেই বুঝে গেল কে ঈদকার্ডটি দিয়েছে! তাদের সামনেই পড়ে শোনালো।
তারপর আমাকে ডেকে আনা হলো প্রিয়ার বড় বোনের কাছে। সে আমাকে বললেন-
:কিরে,ঈদকার্ডটা কত দিয়া কিনছস?
আমার খুব ভয় লাগছে-কাঁপছে হাত,পা!
আমি তোতলিয়ে বললাম-
:দ-দশ টাকা দিয়া কিনছি।
:এগুলো তো পাঁচ টাকা কইরা অভাব নাই।
ঈদকার্ডটা বেশি দামি দিবি না,এত কম দামি দিলি ক্যান্?
তুই যে বড় কিপ্টা তা বুঝা গেল। তোর উই কী লাগে?
:বো-বোন লাগে।
:বোন রে এসব কথা কেউ ল্যাখে। :না, আমার বোন লাগে না। বি-বিয়াইন লাগে।
:বিয়াইন আবার ক্যামনে?
:আরে!রাজু ভাই আপনারে বিয়া করলেই তো আপনার বোন আমার বিয়াইন অইয়া যাইব।
এসময়ে আমার প্রিয়া এসে মুখ ভেংচিয়ে বলল-
:আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না।
এই কথাটি বলার সঙ্গে সঙ্গে আমার হাতে ঈদকার্ডটি ফেরত দিয়ে সে চলে যায়।
আমার মনটি খারাপ হয়েগেল।
আমি আমার ঘরে এসে,পড়ার টেবিলে বসে কাঁদতে থাকি-যেন আমার বুকটি ফেঁটে যাচ্ছে।
চোখের জলে ঈদকার্ডটি ভিজে গেল। এই ছিল আমার প্রথম প্রেমের প্রথম কান্না।
পরের দিন ঈদের নামাজ পড়ে ঘরে এসে খুশির দিনে মনটি খারাপ করে শুয়ে রইলাম।
বিকেলবেলা রাজু ভাইকে ঘটনাটা খুলে বললাম। রাজু ভাই আমাকে কোন চিন্তা করতে না করলেন। প্রিয়াকে আমার জীবনসাথী করে দিবে বলে আশা দিলেন। তারপর আমি রাজু ভাইয়ের ঘরের ক্ষেত-খামার কাজ, এমনকি গরুর ঘাস কাটাসহ আবার কাজ করতে থাকি, তাকে শুধু পাওয়ার আশায়। অবশেষে রাজু ভাইয়ের পছন্দের মানুষ রাজু ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিকই রইল।
আমার পছন্দের মানুষ চলে গেল কোন এক বড়লোকের বউ হয়ে। আমি বোকার মতো দূর থেকেই মনে মনে ভালোবেসেই গেলাম। ভালোবাসা আর পেলাম না। আর এই ঈদকার্ডের স্মৃতি থাকবে সারা জীবন।