ইতিহাসের দায় দলিল ও ট্র্যাজেডির নন্দনতত্ত্ব
খোরশেদ মুকুল
কিছু লেখা থাকে যেগুলো জন্ম নেয় শিল্পের বাসনা থেকে নয়, জন্ম নেয় রক্ত, ভয়, হাঁপানো শ্বাস আর ভবিষ্যৎ ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে। “লাল জুলাই” তেমনই এক লেখা, একটা গান। এটি গান হওয়ার আগেই ইতিহাস ছিল; শিল্পে রূপ নেওয়ার আগেই ছিল সাক্ষ্য। এই সাক্ষ্যের সূত্রপাত বহু আগে। আন্দোলনের উত্তাল সময়েরও আগে, যখন ফ্যাসিবাদ কেবল শাসনের নাম নয়, একটি সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রীয় অভ্যাস। ডিসেম্বরে, ২০২২ সাল। ওসমান হাদী বউসহ বিএনপির সমাবেশে যোগদানের উদ্দেশ্যে রামপুরা থেকে হেঁটে হেঁটে মানিক নগরের রাস্তার পাশে গোলাপবাগে পৌঁছে যান। স্থান পরিবর্তনের বহু নাটকের পর সেই সমাবেশের অনুমতি পায় বিএনপি। ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের নেতারা তখন সেই সমাবেশকে ট্রল করে বলত, গরুর হাটে পাঠাই দিছি। সমাবেশের বিপুল মানুষের নীরব সমাগম দেখে সেই সময়েই ওসমান হাদী লিখে ফেলেন দীর্ঘ প্রতিবাদী আখ্যান ‘রজঃস্রাবের রাষ্ট্র’। কবিতাটি লেখা হয়েছিল কোনো মঞ্চের জন্য নয়, প্রকাশের জন্যও নয়, লেখা হয়েছিল সমাবেশ থেকে ফিরে যাওয়া মানুষের নীরব মুখগুলোর জন্য। যারা সমাবেশে আসার কারণে অনেকের বাড়িতে হয়তো দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে, মিথ্যা মামলা দিয়েছে ফ্যাসিবাদী সরকারের পা চাটা স্থানীয় নেতারা। এমন একটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে ফিরে আসা সন্ধ্যায় যখন লক্ষ মানুষের ভিড় দেখেও মনে হচ্ছিল কোনো কণ্ঠ নেই, কোনো প্রতিধ্বনি নেই, সেই শূন্যতার ভেতরেই কবিতাটি সম্পূর্ণ করেন শহিদ ওসমান হাদী।
এই কবিতা ওসমান হাদী অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী জনতার কবিয়াল খ্যাত রাহাত শান্তনুর কাছে পাঠান ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে। যিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদপন্থী একজন এক্টিভিস্ট। দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিবাদী খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যাচ্ছিলেন। শহিদ জিয়াকে নিয়েও গেয়েছেন দারুণ সব গান। তিনি নিজে লেখেন, নিজে গান করেন, অন্যের লেখা আবৃত্তি করার কোনো নজির তাঁর জীবনে নেই বললেই চলে। অথচ ‘রজঃস্রাবের রাষ্ট্র’ কবিতাটি পড়ে তিনি ফোন করেন হাদিকে। তরুণ মনের এই জজবা দেখে আবেগে আলোড়িত হন। বলেন, দেশ বদলালে তিনি দেশে এসে কবিকে বুকে জড়িয়ে ধরবেন। সে কবিতা পরে তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়, স্টুডিওতে রেকর্ড হয়, আবার নিষেধাজ্ঞায় হারিয়েও যায় অনলাইন থেকে। কবিতার সঙ্গেসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর কণ্ঠ, পেজ; যেমন হয় যেকোনো সত্য উচ্চারণের পর।
তিন বছর পর, মুক্তির পয়গাম নিয়ে এলো জুলাই। উত্তাল সময়। ইতিহাসের অপেক্ষায় রক্তাক্ত সময়। রাহাত শান্তনু হাদীকে ফোন দিয়ে একটা র্যাপ গান লেখার অনুরোধ করেন। এমন এক সময়, যখন কবি নিজেই আন্দোলনের ভেতর দাঁড়িয়ে; দিন-রাত চোখের সামনে ভাঙছে শরীর, খুলে যাচ্ছে চোখ, বিচ্ছিন্ন হচ্ছে অঙ্গ, জমে উঠছে রক্তের নীরব আর্তনাদ। এছাড়া তিনি এর আগে কখনও র্যাপ গান লেখেন নাই। অপারগতা প্রকাশ করতেই রাহাত শান্তনু এক ঐতিহাসিক কথা বলেন, “গান লেখার দরকার নাই। ইতিহাস লেখো। আজ থেকে বিশ-পঞ্চাশ বছর পর যেন মানুষ জানেÑএই সময় কী হয়েছিল।” এমন দায়মূলক আলাপের পর কোনো বিপ্লবী কলম “না” বলতে পারে না। তাই তো ইতিহাসের দায় থেকে হাদী লিখে ফেলেন “লাল জুলাই”। দুই ঘণ্টার কাছাকাছি সময়ের মধ্যে লেখা এমন এক পাঠ্য, যা লিখতে গিয়ে লেখক নিজেই কেঁপে ওঠেন, ভেঙে পড়েন। কান্নায় মুষড়ে পড়েন বারবার। কোনো অলংকার নেই, কোনো শিল্পসৌন্দর্য নির্মাণের সচেতনতা নেই, আছে কেবল প্রত্যক্ষ দেখা দৃশ্যের দায়। আর্টিস্টিক নয়, রক্তাক্ত সময়ের আলপনা। আন্দোলনের রেখাচিত্র ফুটিয়ে তোলেন কলেমের দ্যোতনায়। লেখাটি দেখে রাহাত শান্তনু বলেন, “এইটা গান হবে, কপালে যা আছে।”
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলা গান রেকর্ড করা কঠিন, ব্যয়বহুল। তবু গান রেকর্ড হয়। স্টুডিওর কাজ সম্পন্ন করে গানটা রিলিজ হবে হবে সময়েই পালিয়ে যায় ফ্যাসিস্ট হাসিনা। ইতিহাস যেন নিজেই শব্দের পাশে দাঁড়ায়। তবে কিছু কথার উপযোগিতা হারায়। পরে সময়ের বাস্তবতায় কিছু শব্দ বদলায়, কিছু সংযোজন হয় কিন্তু মূল সত্য বদলায় না গানটির। পুনরায় রেকর্ড হয় “লাল জুলাই”। তাই লাল জুলাই কোনো শিল্পীর কৃতিত্ব নয়, এই এক সময়ের দলিল। জুলাইয়ে কী হয়েছিল, কীভাবে শরীর অসম্পূর্ণ হয়ে গেল, কীভাবে কণ্ঠ রুদ্ধ হলো, কীভাবে চোখের সামনে ইতিহাস রক্তাক্ত হলো তারই কণ্ঠস্বর এই গান। একে শুনে স্থির থাকা যায় না, কারণ এটি শ্রোতাকে বিনোদন দেয় না, এটি তাকে সাক্ষী বানায়।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক রক্তাক্ত অধ্যায়। এই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করেই রচিত ওসমান হাদীর র্যাপ গান “লাল জুলাই” কেবল প্রতিবাদী সংগীত নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক দলিল, যেখানে সহিংস রাষ্ট্রব্যবস্থার মুখোমুখি সাধারণ মানুষের ভাঙা জীবন শিল্পরূপ লাভ করেছে। এটি একই সাথে নির্মম ইতিহাস ও ইতিহাসের দায়বোধের স্মারক। যেখানে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, জনতার প্রতিরোধ ও প্রজন্মগত জাগরণ একসূত্রে বাঁধা। ইতিহাস এখানে কেবল ঘটনার ধারাবিবরণী নয়, এটি স্মৃতি ও ক্ষোভের ভাষ্য। ন্যায় ও ইনসাফের সাক্ষ্য। নির্মমতা চিত্রিত হয়েছে শোক, ক্ষতি ও ন্যায়বিচারের আকাক্সক্ষার প্রতীকে; সরাসরি বিবরণের বদলে নৈতিক অভিঘাতে। ভাষা ইচ্ছাকৃতভাবে স্ল্যাং, কাঁচা, লোকজ ও আক্রমণাত্মক যা ক্ষমতার ভাষার মুখোমুখি দাঁড়ায়। এই রচনায় গান হয়ে ওঠে সাক্ষ্য, আর হয়ে ওঠে ভয়ের রাত্রি ভাঙা উচ্চারণ।
বইনে খুঁজতো ভাইয়ের দেহ
ফেরাউনের স্বর্গে
বাপে পাইতো পোলার লাশটা
মেডিকেলের মর্গে।
এই স্তবকটি ব্যক্তিগত শোককে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার কাঠামোর ভেতরে স্থাপন করে। “বইনে” শব্দটির ব্যবহার গ্রামীণ ও ঘরোয়া আবহ তৈরি করে, যা শোককে বিমূর্ত রাজনৈতিক ভাষা থেকে নামিয়ে আনে দৈনন্দিন জীবনের পরিসরে। এখানে ভাই হারানো কোনো পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি পরিবারের ভেঙে পড়া বাস্তবতা। “ফেরাউনের স্বর্গ” ও “ মেডিকেলের মর্গ” এই দ্বৈত রূপক ক্ষমতা ও বঞ্চনার চরম বৈপরীত্য প্রকাশ করে। স্বর্গমর্গের ধ্বনিগত সাদৃশ্য একটি নির্মম ব্যঙ্গ তৈরি করলেও এর গভীরে রয়েছে শ্রেণিভিত্তিক ন্যায়হীনতার তীব্র সমালোচনা। ফলে স্তবকটি ট্র্যাজেডিকে ব্যক্তিগত স্তর ছাড়িয়ে কাঠামোগত অন্যায়ের ভাষা দেয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কমপক্ষে ১৩৩ শিশু শহীদ হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করছে। তাদের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শ্রমে নিয়োজিত শিশুরাও রয়েছে। এই শিশুদের মধ্যে গুলীবিদ্ধ হয়েছিল ১১৭ জন। ১৫ জুলাই চারতলা বাড়ির ছাদে খেলতে গিয়ে গুলীতে ৬ বছর বয়সী রিয়া গোপের মৃত্যু দেশব্যাপী আলোড়ন তোলে। বিশ্বমিডিয়াও হতবাক হয় এই নির্মম হত্যাকাণ্ড দেখে। কবি লেখেন-
হেলিকপ্টার করলো গুলী
স্বীকার যায় নাই খুনিটা
সেই গুলীতে মইরা গেলো
বাপের কোলের শিশুটা।
উদ্ধৃত পঙ্ক্তিগুলো গানটির নৈতিক কেন্দ্রে অবস্থান করে। আন্দোলনের সত্য ঘটনার উল্লেখ পূর্বক এখানে “হেলিকপ্টার” কেবল বাস্তব যন্ত্র নয়; এটি আধুনিক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও দমননীতির প্রতীকও বটে। বিপরীতে “বাপের কোলের শিশুটা” মানবসমাজের সবচেয়ে নিরাপদ ও নিষ্পাপ অস্তিত্বের রূপক। এই দুই প্রতীকের মুখোমুখি সংঘর্ষে যে দৃশ্য নির্মিত হয়, তা কেবল একটি হত্যাকাণ্ডের বিবরণ নয় এটি সভ্যতার নৈতিক পরাজয়ের প্রকাশ। কবির ভাষা ইচ্ছাকৃতভাবে অলংকারহীন ও সরল। “বাপের কোলের শিশুটা” বাক্যাংশে কোনো অতিরঞ্জন বা আবেগী বিশেষণ নেই; অথচ এই নিরাভরণ উচ্চারণই পাঠকের অনুভূতিতে সবচেয়ে গভীর আঘাত হানে। এখানে সহিংসতাকে নান্দনিক করে তোলার কোনো চেষ্টা নেই, নেই বীরত্ব বা নাটকীয়তার মোড়ক। ফলে পাঠক সহানুভূতির নিরাপদ দূরত্বে থাকতে পারে না; তাকে সরাসরি নৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়। একাডেমিক দৃষ্টিতেও এই অংশ ট্র্যাজিক বাস্তবতাকে ন্যূনতমীকরণ করে না; বরং ভাষার সংযমের মাধ্যমে নৈতিক তীব্রতাকে সর্বোচ্চ মাত্রায় উন্মোচিত করে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা যখন শিশুর জীবনকে গ্রাস করে, তখন সেই মুহূর্তে ইতিহাস নয়, মানবতা নিজেই অভিযুক্ত হয়ে ওঠে।
এই গণঅভ্যুত্থানে শহিদের সংখ্যা ১৪২৩ জন। তবে এই সংখ্যাটা কম-বেশি হতে পারে। আহতদের নিয়ে কাজ করাটা আরও দুরূহ। কারণ, এই সংখ্যাটা বিপুল। এখন পর্যন্ত ২২ হাজার আহত মানুষের তালিকা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে সংযোজন-বিয়োজন হবে তাতেও সন্দে নাই। আন্দোলনে গিয়ে পঙ্গু বা অঙ্গহানি হয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫৮৭ জন। গুলী লেগে আংশিক বা সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন ৬৮৫ জন। তাদের মধ্যে ৯২ জন দুই চোখেই গুলী খেয়েছেন বা দুই চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। এমন নির্মমতার বর্ণনা দিতে গিয়ে ওসমান হাদী লিখেন-
হাতটা আছে, পা-টা নাই
পা আছে তো হাতটা নাই
আঙ্গুলগুলা কাইটা পড়ছে
আমার বলার শক্তি নাই।
এখানে ট্র্যাজেডি ভাষা থেকে সরে শরীরের ভেতর আশ্রয় নেয়। হাত, পা, আঙুল অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পুনরুক্তি মানুষকে খণ্ডিত সত্তায় রূপান্তরিত করে। এখানে দেহই হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার মানচিত্র। আর শেষ লাইনের “আমার বলার শক্তি নাই” ভাষার সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে। ট্র্যাজেডির মাত্রা এত গভীর যে ভাষা নিজেই অক্ষম হয়ে পড়ে। সাহিত্যতাত্ত্বিকভাবে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে নীরবতাও অর্থবহ হয়ে ওঠে, যা ট্র্যাজেডির নান্দনিক শক্তিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। আন্দোলনের মাঠ থেকে উঠে আসা স্বর ও সুর বলে এটি সম্ভব হয়েছে।
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়া লাশের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য থাকলেও, আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৯০-১১৮টি মরদেহ রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল বলে জানা যায়, এর মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষের পরিচয় শনাক্ত হলেও বেশিরভাগ মানুষের পরিচয় পাওয়া যায়নি এখনও। পরিচয়হীন এই শহিদদের সংখ্যাও কম নয়। এই মরদেহগুলো মূলত কোটা সংস্কার ও পরবর্তী আন্দোলনের সময়ে নিহতদের, যাদের অনেকেই বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে এবং এদের মধ্যে কিছু লাশের পরিচয় এখন জানা যাচ্ছে। পরিচয়হীন এই শহিদি মৃত্যুর কথা উল্লেখ করতে গিয়ে লেখক বলেন-
বেওয়ারিশ কবর দিছে
কত শত ভাইয়ারে
অন্ধ হইছে হাজার মানুষ
দেখবে না আর চাইয়ারে।
এখানেও ট্র্যাজেডিকে ব্যক্তিগত ক্ষতি থেকে সমষ্টিগত স্মৃতির স্তরে উন্নীত করেছে লেখক। “ বেওয়ারিশ কবর” মানে শুধু পরিচয়হীন মৃত্যু নয়, বরং রাষ্ট্রীয় বিস্মৃতির একটি সচেতন নীতি। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী আমলে আমরা তা দেখেছি বারবার। এখানে স্মরণ না রাখাই সহিংসতার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে। অন্ধত্বের রূপক দ্বৈত অর্থ বহন করে, শারীরিক অন্ধত্ব এবং নৈতিক অন্ধত্ব। যারা চোখ হারিয়েছে তারা দেখতে পাবে না, আর যারা দেখেও নীরব তারা নৈতিকভাবে অন্ধ। এই দ্বৈততা গানটিকে আরও গভীর রাজনৈতিক অর্থ প্রদান করে। এখানে রাষ্ট্র কাঠামোর কথা বলার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ও পৃষ্টপোষকতায় জন্ম নেয়া চুপ থাকা সুশীলদের অন্ধত্বের কথা না বললে হয়তো পূর্ণতা পাবে না। যাদের অক্লান্ত ভয়ংকর পরিশ্রমের কারণে রাষ্ট্র এতো হিংস্র হয়ে উঠেছে। মৌলবাদী ট্যাগ দিয়ে ভিন্নমতকে দমন ও হত্যাযোগ্য করে তুলেছে।
“লাল জুলাই” গানটি কেবল প্রতিবাদী ভাষ্য নয়, বরং একটি শক্তিশালী ট্র্যাজিক সাহিত্যকর্ম। এখানে ট্র্যাজেডি আসে সরল ভাষা, নির্মম চিত্রকল্প ও নৈতিক প্রশ্নের মাধ্যমে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই গান পরিসংখ্যান নয়, মানুষের দেহ ও স্মৃতিতে খোদাই হওয়া ইতিহাস হয়ে উঠবে বলেই বিশ্বাস। ফলে “লাল জুলাই” সামসময়িক বাংলাদেশের রাজনৈতিক-সাহিত্যিক পাঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক দলিল হিসেবে বিবেচিত বলে আশা করি।
লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক