গন্তব্য একক
হাসান হাফিজ
অতৃপ্তি আহতবোধ বিরহের তিতা কষ্ট
কোথায় অর্পণ করা যেতে পারে নিরাপদে
কোন্খানে কোথায় কোথায়?
লৌহজং নদীর অতলে।
অপশাসনের গ্লানি, স্বৈরাচারী লেশপেশ
অগণতন্ত্রের বিষ গুম খুন জ্বালাপোড়া
কোথায় নিষ্কৃতি স্বস্তি পাওয়ার ঠিকানা
কোন্খানে কোথায় কোথায়?
ওগো নদী লৌহজং, তোমার গহিনে।
এইসব মাৎস্যন্যায় ভলুচুক মনোব্যথা
বহুদিন অদেখাজনিত ক্ষত আকুলিবিকুলি
কোথায় ঝাঁপিয়ে পড়ে লুকোনো আশ্রয় চায়
কোনখানে সেই মোক্ষ নিষিদ্ধ গন্তব্য
লৌহজং নদী ছাড়া অন্য কেউ নয়
কাক্সিক্ষত সমুদ্রবক্ষ কোনোদিনই ছুঁতে সে পারে না।
প্রত্যয়
আবদুল হাই শিকদার
হয়তো তোমার বাগানে ফুটেনি প্রত্যাশা মতো ফুল
হয়তো ফ্যাসিস্ট শাসকের ভয়ে নড়নিকো একচুল
হয়তো তোমার জীবন খাতার প্রতি পাতা ভরা ভুল
হয়তো পুঁজির দেখানো পথেই ছিলে তুমি মশগুল
হয়তো হয়েছো ব্যাকরণবিদ পড়েনিকো বই মূল
হয়তো বৃথাই কেটেছো সাঁতার পাও নাই খুঁজে কূল
হয়তো ধ্যানের ধান্য তালাশে বাঁধানো হুলুস্থূল
হয়তো কর্ণে ঝুলিয়ে ভেবেছো এটাই সোনার দুল
হয়তো তোমার চারপাশ ছিল ভয়াবহ প্রতিকূল
হয়তো তোমার মৃত্তিকা থেকে হয়ে গেছো উন্মুল
হয়তো তোমার আশাহীনতার পথে পথে পোঁতা শূল
হয়তো তোমার অবয়বে মাখা দিশাহীন কালিঝুল
হয়তো আগুনে ঝলসে গিয়েছে তোমার চৈত্র-ফাগুন
তবুও প্রকৃতি আপন নিয়মে জাগাবেই নবারুণ
দৃঢ় পদক্ষেপ দ্বিধাহীন মন খুব দরকার আজ
পত্রবিহীন বৃক্ষের ব্যথা আনবেই ঋতুরাজ
জলের সন্ধান
মুজতাহিদ ফারুকী
লোকটি সটান শুয়ে পড়ে, মাটিতে কান ঠেকিয়ে রাখে কিছুক্ষণ
তারপর অবিশ্বাস্য, সে বলে-
বুঝেছি জলের স্পন্দন, লিখে নাও টলটলে জলের প্রস্রবন
পাবে ঠিক কতটা গভীরে
নলকূপে করেছো বিনাশ, জল পাবে স্তরে স্তরে যাও যদি খুঁড়ে
পীড়নের প্রশাসনে মানুষও গুটিয়ে ফেলে চোখে নোনা জল
গেরস্ত সমস্ত দুধটুকু দুয়ে নিতে গেলে
শাবকের মমতায় অবলা গাভীও, দেখনি লুকায় দুধ
ওলানের ঊর্ধ্বে চোরা কোঁখে!
বসুধাও বড়ো মায়াবতী, পাঁজরের চোরা খাঁজে জল ধরে রাখে।