মীম মিজান

কবিদের কলমে ফিলিস্তিন, একটি অভিন্ন ক্ষত

ফিলিস্তিন ইস্যু কেবল দুটি গোষ্ঠী বা দুটি দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক সংঘাত নয়; বরং এটি একটি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং মানবিক কেন্দ্রবিন্দু যা গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে মানব বিবেকের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এমতাবস্থায়, সাহিত্য জাতির আত্মিক ও সামাজিক অবস্থার প্রতিফলন হিসেবে এই বেদনা ও বীরত্বগাথা নথিবদ্ধ করতে অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। ফারসি সাহিত্য, বিশেষ করে সমসাময়িক যুগে, ফিলিস্তিনের আদর্শের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। এই বন্ধনের মূলে রয়েছে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক অভিন্নতা এবং ইরানি কবি ও লেখকদের ন্যায়বিচারপ্রবণ দৃষ্টিভঙ্গি, যারা নিপীড়নকে মেনে নেন না এবং নিপীড়িতকে একা ছেড়ে দেন না।

ফারসি সাহিত্যে ফিলিস্তিন ইস্যুর প্রতিফলনকে কেবল একটি সাময়িক রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে গণ্য করা যায় না; বরং এটি একটি চলমান ধারা যা ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরগুলোর আবেগপূর্ণ সহানুভূতির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লব-পরবর্তী উদ্দীপনাময় বীরত্বগাথায় পরিণত হয়েছিল।

ঐতিহাসিক বিবর্তন এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

বিপ্লব-পূর্ব যুগ: আবেগপূর্ণ চিত্রকল্প এবং সংহতির গুঞ্জন

১৯৪৮ সালের পরের শুরুর বছরগুলোতে, ফিলিস্তিন ইস্যু ফারসি সাহিত্যে মূলত বুদ্ধিজীবী, মানবতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কবি এবং ধর্মীয় সমাজের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হতো। এই সময়ে, যদিও গভীর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ কম দেখা যেত, কিন্তু দেশত্যাগের বেদনা এবং ভূমি দখলের ঘটনা কবি ও লেখকদের মধ্যে সহানুভূতির ঢেউ তুলেছিল।

এই যুগের কবিরা ঘটনার আবেগপূর্ণ দিকগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছিলেন। শোকসন্তপ্ত মা, এতিম শিশু এবং শরণার্থী শিবিরের চিত্র ছিল এই সময়ের ফারসি কবিতার প্রধান উপজীব্য। এই কবিতাগুলোতে ফিলিস্তিনকে “জলপাইয়ের ভূমি” এবং “মসজিদুল আকসার স্থান” হিসেবে গণ্য করা হতো এবং এর ওপর যেকোনো আঘাতকে পবিত্রতা ও মানবতার ওপর আক্রমণ বলে মনে করা হতো।

উদাহরণস্বরূপ, সমসাময়িক বিশিষ্ট কবি মোহাম্মদ রেজা শাফিয়ী কাদকানীর প্রাথমিক কবিতাগুলোতে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশত্যাগের সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি তার চিত্রকল্পে ফিলিস্তিনিদের নির্বাসন ও একাকীত্বকে হৃদয়বিদারক ভাষায় বর্ণনা করেছেন। তিনি ফিলিস্তিনকে কেবল একটি দূরবর্তী ভৌগোলিক অঞ্চল হিসেবে নয়, বরং ইসলামি উম্মাহ এবং মানব বিবেকের দেহের একটি অংশ হিসেবে মনে করেন। এই সময়ের রচনাগুলোতে কবিদের কণ্ঠে এক ধরনের “লুকানো দুঃখ” বিরাজ করত; যে দুঃখের কারণ ছিল বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের অক্ষমতা এবং কেবল শব্দের মাধ্যমে সহানুভূতি জানানো।

বিপ্লব-পরবর্তী যুগ: বীরত্বগাথা এবং প্রতিরোধের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সাথে সাথে, ফিলিস্তিন ইস্যুর প্রতি ফারসি সাহিত্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন আসে। ফিলিস্তিন কেবল সহানুভূতিশীল আবেগের বিষয় থেকে বিপ্লবের আদর্শ এবং ইরানের পররাষ্ট্রনীতির একটি মূল নীতিতে পরিণত হয়। দৃষ্টিভঙ্গির এই পরিবর্তন সাহিত্য এবং বিশেষ করে কবিতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

বিপ্লবের পর, “ফিলিস্তিনি কবিতা” প্রতিরোধ ও বিপ্লবের কবিতার একটি প্রধান উপ-শাখায় পরিণত হয়। এই কবিতাগুলোতে আর কেবল দুঃখ ও দীর্ঘশ্বাসের খবর ছিল না, বরং “প্রতিরোধ”, “স্থায়িত্ব”, “সংগ্রাম” এবং “বিজয়ের আশা” ছিল প্রধান বিষয়বস্তু। এই যুগের কবিরা বীরত্বপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করে ট্যাঙ্কের বিরুদ্ধে পাথরের যুদ্ধের দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছিলেন এবং এটিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গণ্য করেছিলেন।

এই সময়ের উদ্দীপনাময় কবি সাইয়্যেদ হাসান হোসেইনি তার কবিতার সংকলনগুলোতে অতুলনীয় স্পষ্টতার সাথে ফিলিস্তিন ইস্যুকে তুলে ধরেছেন। তিনি তার কবিতায় শত্রুকে কঠোর ও স্পষ্ট ভাষায় সম্বোধন করেছেন এবং ফিলিস্তিনিদের দৃঢ়তার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। কাইসার আমিনপুরও তার কবিতায় ফিলিস্তিনের প্রতি আবেগপূর্ণ কিন্তু বীরত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রেখেছেন এবং শিশুদের ওপর আলোকপাত করে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও মুক্তির সুসংবাদ দিয়েছেন। এই যুগে ফিলিস্তিন কেবল একটি নিপীড়িত দেশই নয়, বরং অন্যান্য নিপীড়িত জাতির জন্য প্রতিরোধের মডেল হিসেবে স্বীকৃত হয়।

ফারসি কবিতায় মূল থিম এবং প্রতীকসমূহ

ফারসি সাহিত্যে ফিলিস্তিনিদের বেদনা ও সংগ্রাম ফুটিয়ে তোলার জন্য কবিরা বিশেষ কিছু প্রতীক ও থিম ব্যবহার করেছেন। এই প্রতীকগুলো কেবল সাহিত্যিক অলংকার নয়, বরং এগুলো ফিলিস্তিনি জনগণের পরিচয়, দৃঢ়তা এবং দুঃখের গভীরতাকে তুলে ধরে।

জলপাই বা জায়তুন: প্রতিরোধের চিরন্তন প্রতীক

জলপাই গাছ ফিলিস্তিনি ভূমির সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্কের প্রতীক। ফারসি কবিতায় জলপাই কেবল একটি গাছের নাম নয়, বরং এটি শান্তি, দীর্ঘায়ু এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের আপসহীন প্রতিরোধের প্রতীক।

শিকড়ের প্রতীক: ফিলিস্তিনিরা জলপাই গাছের মতো তাদের ভূমিতে শিকড় গেড়ে আছে, যা উপড়ে ফেলা অসম্ভব।

রক্তাক্ত শান্তি: কবিতায় প্রায়শই জলপাই ডালকে রক্তের সাথে মিশিয়ে চিত্রিত করা হয়, যা বোঝায় যে ফিলিস্তিনিদের জন্য শান্তি অর্জনের পথটি রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যায়।

পাথর তথা সাঙ্গ এবং ইন্তিফাদা: অসম যুদ্ধের প্রতীক

ফারসি সাহিত্যে ‘পাথর’ বা ‘সাঙ্গ’একটি শক্তিশালী প্রতীক যা ফিলিস্তিনি তরুণদের বীরত্ব এবং অসম যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরে।

অসম যুদ্ধ: ট্যাঙ্কের সামনে খালি হাতে পাথর নিক্ষেপ করা ফিলিস্তিনিদের সাহসিকতা এবং ইসরাইলি সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে তাদের অসম যুদ্ধের প্রতীক।

জনগণের জাগরণ: পাথর কেবল একটি অস্ত্র নয়, এটি জনগণের জাগরণ এবং প্রতিরোধের প্রতীক, যা নির্দেশ করে যে সাধারণ মানুষই এই আন্দোলনের মূল শক্তি।

চাবি বা কেলিদ: প্রত্যাবর্তনের অধিকার এবং আশা

ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের কাছে তাদের পুরনো বাড়ির চাবি কেবল একটি ধাতব বস্তু নয়, এটি তাদের ফেলে আসা ভিটা এবং ভবিষ্যতে সেখানে ফিরে যাওয়ার দৃঢ় বিশ্বাসের প্রতীক।

হারানো বাড়ি: কবিতায় চাবি হলো সেই হারানো বাড়ির স্মারক, যা তারা কখনো ভোলেনি।

প্রত্যাবর্তনের অধিকার: এই চাবিগুলো ফিলিস্তিনিদের ‘প্রত্যাবর্তনের অধিকার’ (Right of Return)-এর দাবির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক।

রক্ত এবং শাহাদাত তথা খুন ও শাহাদাত: আশুরার সাথে সংযোগ

ফারসি কবিরা ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামকে প্রায়শই ইসলামের ইতিহাসে ইমাম হোসেনের (রা.) কারবালার ট্র্যাজেডি বা আশুরার সাথে তুলনা করেন।

নিপীড়নের বিরুদ্ধে সত্য: ফিলিস্তিনিদের এই লড়াইকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যের লড়াই হিসেবে তুলে ধরা হয়।

আত্মত্যাগ: শহীদদের রক্ত ফিলিস্তিনি জনগণের দৃঢ়তাকে আরও মজবুত করে এবং তাদের মুক্তির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

প্রভাব বিস্তারকারী কবি ও লেখকবৃন্দ

ফারসি সাহিত্যে ফিলিস্তিন ইস্যুটি কেবল নির্দিষ্ট কিছু কবি বা লেখকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সামগ্রিকভাবে সমসাময়িক ফারসি সাহিত্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবুও, কয়েকজন কবি ও লেখক তাদের আবেগপূর্ণ ও বীরত্বপূর্ণ রচনার মাধ্যমে এই বিষয়ে বিশেষ অবদান রেখেছেন।

অগ্রগামী কবিগণ

মোহাম্মদ রেজা শাফিয়ী কাদকানী

কাদকানী সমসাময়িক ফারসি কবিতার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। তিনি তার প্রাথমিক কাব্যগ্রন্থগুলোতে ফিলিস্তিনিদের দেশত্যাগের বেদনা ও নির্বাসনের করুণ চিত্র খুব দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার কবিতায় ফিলিস্তিন কেবল একটি ভৌগোলিক স্থান নয়, বরং মানবতার বেদনার প্রতীক। তিনি ফিলিস্তিনিদের হাহাকারকে ফারসি ভাষার মাধ্যমে সারা বিশ্বে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

বিপ্লব ও প্রতিরক্ষা যুদ্ধের কবিগণ (বিপ্লব-পরবর্তী যুগ)

সাইয়্যেদ হাসান হোসেইনি

হোসেইনি ফারসি প্রতিরোধ কবিতার অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর। তিনি ফিলিস্তিন ইস্যুটিকে অত্যন্ত রাজনৈতিক ও বীরত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখেছেন। তার কবিতাগুলো ছিল সরাসরি এবং আক্রমণাত্মক, যা দখলদারদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের লড়াইকে উৎসাহিত করত। তার কাব্যিক ভাষা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আবেগপূর্ণ, যা পাঠকদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলত।

কায়সার আমিনপুর

আমিনপুর তার কোমল ও আবেগপূর্ণ কবিতার জন্য পরিচিত। তিনি ফিলিস্তিনিদের যন্ত্রণাকে, বিশেষ করে শিশুদের কষ্টকে, খুবই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তুলে ধরেছেন। তার কবিতাগুলোতে বেদনা ও প্রতিরোধের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ পাওয়া যায়। তিনি দেখিয়েছেন যে কীভাবে একটি শিশুও তার অধিকারের জন্য লড়াই করতে পারে। হৃদয়বৃত্তির কবি আমিনপুর নিচের কবিতাটিতে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ ও মর্মযন্ত্রণা তুলে ধরেছেন।

জানলার সেই অটল শিকল

নিশুত রাতের গলির শেষে, জানলাটির ওই তলে

একদল লোক তাকিয়ে আছে, জানলা-ছবির ছলে

কাচের এপার ঝড়ের গর্জন, বৃষ্টির হাহাকার,

কাচের ওপার জানলা জুড়ে রুদ্ধ কান্নার ভার

জানলার পাশে বৃথা কেন আর তর্কের অনুনয়?

হাত বাড়াও আজ, পাল্টে দিতেই হবে এই পরিচয়

চাইছি যখন আঁকতে মনে জানলা নতুন সাজে,

দেওয়ালই রইল, জানলা-ছবি নেই তো তাদের মাঝে

স্বপ্ন দেখি যে, দেওয়ালগুলোও কাচের মতো স্বচ্ছ,

অবশেষে আজ জানলা-ব্যাখ্যায় ফিরল কি সেই স্বপ্ন?

সূর্যকে যদি লুটে নিতে চাই জয়ের নিশান ধরে,

সামান্য পথ বাকি আছে আজ জানলা দখলের তরে

অন্য কারোর সাধ্য কি নেই খুলবে না সেই দ্বার,

আমাদের নখই খুলবে জানলার তালা ও শিকল-হার

সালমান হেরাতি

হেরাতি তার কবিতায় ইন্তিফাদার উদ্দীপনা ও ফিলিস্তিনিদের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার কবিতাগুলো ছিল আশাবাদী এবং বিজয়ের বার্তা নিয়ে আসত। তিনি ফিলিস্তিনিদের আত্মত্যাগকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়েছেন।

রেজা ইসমাইলি নামক সমকালীন ফারসি কবি তার হৃদয়াবেগ তুলে ধরেছেন নিম্নোক্ত গজলে

হে ধরণী, বসন্তেরে দাও ফিরে ডাক

হে ধরণী, বসন্তেরে দাও ফিরে ডাক আবারও মিনতি করে,

চাতক-পাখির আকুল দোয়াÑÑ ফুটুক গোলাপের অন্তরে।

আজ শরতের রোষানলে ওই ঘাসেরা দলিত-মথিত যখন,

খোদার দোহাই, শ্যামলিমায় মেখোদাও আজ তোমার পরশন।

তৃষ্ণা যখন হন্যে হয়ে জল খুঁজে মরে দিক-বিদিক,

তৃষ্ণার কানে ঝরনাধারার পবিত্র গান শোনাও নির্ভীক।

মমতাময়ী প্রজাপতিদের ডানা আজ ভেঙে হয়েছে চুর,

ফিরে এসো বাগে, বিলিয়ে দাও ভালোবাসা সুমধুর।

জানলার চোখে নেই আজ কোনো আশার ক্ষীণ আলোকরেখা,

আকাশের পানে আঙুল উঁচিয়ে দাও তোমায় আবারও দেখা।

তারাহীন এই দীর্ঘ নিশিথে পচে যাচ্ছ তুমি একাকী,

ভোরের শহরে চলো যাই আজÑ যেথা শুকতারা দেয় উঁকি।

পৃথিবীর চার ঋতু জুড়ে যদিও শুধু ফেতনার অবিরাম ধারা,

এই অঝোর ঝাপ্টায় থেকো অটল, থেকো তুমি লক্ষ্যহারা।

আমাদের এই অমর প্রেমের গল্প হবে না কোনোদিনও বাসি,

এসো তবে আজ, শুনি সেই অসীম কাহিনীর মধু-রাশি।

গদ্য এবং স্মৃতিকথা

কবিতার পাশাপাশি ফারসি গদ্যেও ফিলিস্তিন ইস্যুটি বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। অনেক লেখক ফিলিস্তিন ভ্রমণ করে তাদের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন এবং সেখানের সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পগুলো তুলে ধরেছেন। এই গদ্যগুলো ফিলিস্তিনিদের জীবন সংগ্রাম এবং তাদের প্রতিদিনের লড়াইকে বুঝতে সাহায্য করে।

অমর কাব্যিক সংহতি

ফারসি সাহিত্যে ফিলিস্তিনিদের বেদনা ও জীবনের প্রতিফলন কেবল সাহিত্যিক চর্চা নয়, বরং এটি একটি মানবিক ও নৈতিক অঙ্গীকার। এই সাহিত্য ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামকে কেবল একটি আঞ্চলিক বিরোধ থেকে মুক্ত করে বিশ্বজনীন ন্যায়বিচারের প্রতীকে পরিণত করেছে। ফারসি কবি ও লেখকরা তাদের শব্দের জাদুতে ফিলিস্তিনিদের অশ্রু, তাদের শিশুদের হাসি, জলপাই গাছের দৃঢ়তা এবং পাথরের সাহসিকতাকে অমর করে রেখেছেন।

এই কাব্যিক সংহতি প্রমাণ করে যে, ভৌগোলিক দূরত্ব বা ভাষার ভিন্নতা নিপীড়িত মানুষের ব্যথার মাঝে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। ফারসি সাহিত্য ফিলিস্তিনিদের হৃদস্পন্দনকে ইরানি জনগণের হৃদস্পন্দনের সাথে যুক্ত করেছে এবং আশা ও প্রতিরোধের একটি চিরন্তন মশাল জ্বালিয়ে রেখেছে।

যতক্ষণ না ফিলিস্তিন মুক্ত হচ্ছে এবং ফিলিস্তিনিরা তাদের হারানো ভিটাতে ফিরে যাচ্ছে, ততক্ষণ ফারসি সাহিত্যে এই সংগ্রামের প্রতিধ্বনি অব্যাহত থাকবে, কারণ এটি কেবল কাব্য নয়, এটিই সত্যের ভাষা।

লেখক : শিক্ষক ও গবেষক