রূপান্তর : সায়ীদ আবুবকর
[“আয়না” গল্পটি বিখ্যাত রাশিয়ান ছোটগল্পকার আন্তন চেখভের “দ্য লুকিং গ্লাস” গল্পের অনুবাদ। গল্পটি সর্বপ্রথম ২৮ ডিসেম্বর ১৮৮৫ তারিখে অসকোল্কি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। আন্তন চেখভকে (২৯ জানুয়ারি ১৮৬০-১৫ জুলাই ১৯০৪) বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ছোটগল্পকারদের একজন বলে বিবেচনা করা হয়। ]
নতুন বছরের ঠিক আগের দিন। জমিদারকন্যা নেলি, অত্যন্ত যুবতী ও রূপসী, রাতদিন যে বিবাহের স্বপ্নে বিভোর, তার বেডরুমে বসে ক্লান্তশ্রান্ত হয়ে আধবোজা চোখে মুখ দেখা আয়নার দিকে তাকিয়ে ছিলো। তাকে বিষণ্ন, চিন্তান্বিত ও আয়নার মতো নিষ্প্রাণ দেখাচ্ছিল।
নেলির স্থির চক্ষুযুগল ও বিচ্ছিন্ন ওষ্ঠ দুটো দেখে কারো পক্ষে বলা কঠিন, সে ঘুমিয়ে আছে, নাকি জেগে আছে। কিন্তু সে ঠিকঠিকই তাকিয়ে তাকিয়ে কী যেন দেখছিল, সে দেখছিল যেন কার হাসি, তার কোমল আকর্ষণীয় চোখের অভিব্যক্তি; তারপর গোটা বাড়ির ধূসর পরিবেশের বিপরীতে আস্তে আস্তে ভেসে উঠতে লাগলো একটি মস্তক, একটি মুখাবয়ব, চোখের ভুরু ও দাড়ি। আসলে এটা ছিলো সে, তার অদৃষ্টে লেখা সেই ব্যক্তি, যার স্বপ্ন সে দেখে আসছে দীর্ঘদিন ধরে, করে আসছে যাকে পাওয়ার আশা। এই ভাগ্যনির্ধারিত ব্যক্তি হলো নেলির সবকিছু, তার জীবনের গুরুত্ব, ব্যক্তিগত সুখ, প্রতিষ্ঠা ও ভাগ্য। তার বাইরে সবকিছু হলো অন্ধকার, শূন্য ও অর্থহীন। এবং এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই যে, তার সামনে একটি সুদর্শন, ভদ্র ও হাস্যোজ্জ্বল মুখ দেখে সে সচেতন হয়ে উঠেছিল তার জীবনের আশীর্বাদ ও অবর্ণনীয় মিষ্টি হাসির ব্যাপারে, যা বলে বুঝানো যায় না, লিখেও প্রকাশ করা যায় না। তারপর সে তার স্বপ্নের পুরুষের কণ্ঠ শুনতে পেলো, নিজেকে দেখতে পেলো তার সঙ্গে একই ছাদের নিচে বসবাসরত অবস্থায়, তার জীবন তার সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে। এইভাবে মাসের পর মাস কেটে গেল, কেটে গেল বছরের পর বছর। এবং নেলি তার গোটা জীবনটাই দেখতে পেল আয়নার ভিতরে সুস্পষ্ট।
ধূসর প্রেক্ষাপটের বিপরীতে ছবির পর ছবি ভেসে উঠতে লাগলো। শীতকালের এক রাতে নেলি নিজেকে দেখতে পেল জেলার ডাক্তার স্তেপান লুকিচের বাড়ির দরোজায় একের পর এক নক করা অবস্থায়। বুড়ো কুকুরটা গেটের পিছনে রুক্ষভাবে থেমে থেমে ঘেউ ঘেউ করছিল। ডাক্তারের ঘরের দরোজাগুলো ছিলো অন্ধকারের মধ্যে। সবকিছু ছিলো নিস্তব্ধ।
নেলি ফিসফিস করে বলতে লাগলো, “আল্লার দোহাই! আপনার আল্লার দোহাই!”
কিন্তু শেষপর্যন্ত বাগানের দরোজায় আওয়াজ শোনা গেল এবং নেলি ডাক্তারের রাধুনীকে দেখতে পেলো।
এটা কি ডাক্তারের বাড়ি?
রাধুনি ফিসফিস করে বললো, হুজুর এখন ঘুমাচ্ছেন। সে এমনভাবে ভয়ের সাথে কথা বলতে লাগলো যেন তার মালিকের ঘুম না ভাঙে, তিনি এইমাত্র রুগী দেখে এসে ঘুমাচ্ছেন এবং কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তাকে না জাগাই।
কিন্তু নেলি যেন রাধুনির কথা শুনতেই পেলো না। তাকে ধাক্কা মেরে একপাশে সরিয়ে দিয়ে সে সোজা ডাক্তারের বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেল। কয়েকটা অন্ধকার গুমোটভরা কক্ষের মধ্য দিয়ে দৌড়িয়ে, দুটো-তিনটে চেয়ার এলোমেলো করে দিয়ে সে শেষপর্যন্ত ডাক্তারের শয়নকক্ষে গিয়ে পৌছোলো। স্টেপান লুকিচ পোশাক পরেই তার বেডে ঘুমাচ্ছিল, কেবল কোটটা খুলে রেখেছিল, এবং সে হাঁ-করে শব্দ করে নিঃশ্বাস নিচ্ছিল, একটা হাতের তালু রাখা ছিলো তার মুখের উপর। তার পাশে রাতের নিষ্প্রভ একটি বাতি অসহায়ের মতো জ্বলছিল। কোনো কথা না বলে নেলি তার পাশে বসে পড়লো এবং কাঁদতে শুরু করলো। সারা শরীর কাঁপিয়ে সে তিক্ততার সাথে কাঁদতে থাকলো।
সে ফুঁপিয়ে উঠে বললো, আমার স্বামী অসুস্থ। স্তেপান লুকিচ চুপ করে ছিলো। সে আস্তে আস্তে উঠে বসলো, তার মাথাটা তার দুহাত দিয়ে চেপে ধরলো এবং অতঃপর ঘুম জড়ানো চোখে তার আগন্তুকের দিকে মুখ তুলে তাকালো। নেলি তার ফোঁপানো থামিয়ে বলে চললো, আমার স্বামী অসুস্থ। আপনার দোহাই লাগে, দ্রুত আসুন দ্রুত দেরি করবেন না।
এই! বলে ডাক্তার খেকিয়ে উঠলো।
আসুনএক্ষুণি আসুনতা না হলে, কী যে ঘটে যাবে আল্লার কসম!
এবং ফ্যাকাশে, বিধ্বস্ত নেলি, কোনো বিরতি ছাড়াই, দরদর করে পড়া চোখের পানি মুছতে মুছতে ডাক্তারের কাছে তার স্বামীর অসুস্থতার কথা এবং তার অবর্ণনীয় আতঙ্কের কথা বর্ণনা করতে লাগলো। তার দুর্দশা পাথরের হৃদয়কেও স্পর্শ করার কথা, কিন্তু ডাক্তার কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে তার মুখের দিকে তাকালো ও বিড়বিড় করে বললো, আমি আগামীকাল আসবো।‘
নেলি আর্তনাদ করে উঠলো, এটা একেবারে অসম্ভব। আমি জানি আমার স্বামীর টাইফায়েড হয়েছে এক্ষুণি, এই মুহূর্তে আপনাকে প্রয়োজন।
ডাক্তার আমতা আমতা করে বলতে লাগলো, দেখনু, আমি আমি এইমাত্র বাসায় আসলাম। তিন দিন ধরে আমি বাইরে বাইরে টাইফাসের রুগী দেখে বেড়াচ্ছি। আমি ক্লান্ত এবং আমি অসুস্থ বোধ করছি। আমি আর পারছি না। বুঝতে পারছি, আমারই টাইফাস হয়ে যাবে।
এবং এই বলে ডাক্তার নেলির চোখের সামনে একটা থার্মোমিটার তুলে ধরলো, আমার তাপমাত্রা প্রায় এক শ ডিগ্রি। আমি আর পারছি না। বিশ্বাস করুন, আমি বসতেও পারছি না। আমাকে মাফ করবেন। আমি এখন শুয়ে পড়বো—।
ডাক্তার শুয়ে পড়লো।
নেলি হতাশ হয়ে গুংরিয়ে উঠলো-আপনার পায়ে পড়ি, ডাক্তারসাহেব। আমার কথা শুনুন। আল্লার দোহাই, আমাকে সাহায্য করুন। আপ্রাণ চেষ্টা করুন এবং আসুন। আপনার যত টাকা লাগে, আমি দেবো। ডাক্তার! ডাক্তার!
হায়, ভালো মেয়ে! –কেন, আপনাকে যা বলার তা তো আমি বলেই দিয়েছি। আহ!
নেলি লাফ দিয়ে উঠলো এবং নার্ভাস হয়ে শয়নকক্ষের এদিক ওদিক হাটতে লাগলো। সে ডাক্তারকে কারণটা সঠিকভাবে কিভাবে বুঝানো যায়, তা ভাবতে লাগলো। সে ভাবলো, যদি ডাক্তার জানতো তার স্বামী তার কাছে কত প্রিয় এবং সে কত অসুখী, তাহলে সে হয়তো তার ক্লান্তি ও অসুস্থতার কথা ভুলে যেতো। কিন্তু সে কিভাবে তাকে তা বুঝাতে পারবে? যদি তার কথার জাদু জানা থাকতো!
সে স্তেপান লুকিচের কণ্ঠ শুনতে পেলো, সে বলছে, জেমস্তোভো ডাক্তারের কাছে যান।
এটা অসম্ভব। তিনি এখান থেকে আরও বিশ মাইল দূরে থাকেন, এবং সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঘোড়ার পক্ষে এত দূর যাওয়া সম্ভব নয়। আপনার এখান থেকেই আমার বাসার দূরত্ব তিরিশ মাইল। চিন্তা করুন। না, এটা সম্ভব নয়! আপনি আসুন, স্তেপান লুকিচ। আপনাকে আমি বীরত্বসূচক কাজের দিকে আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন মহৎ কাজ করুন। আমাদেরকে অনুকম্পা করুন।“
সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে আমার প্রচণ্ড জ্বর আমার মাথা পো পো করে ঘুরছে সে বুঝবে না! আমাকে একা থাকতে দিন!
কিন্তু আপনি আসতে বাধ্য। এটা আপনার দায়িত্ব। আপনি আসতে অস্বীকার করতে পারেন না। এটা অহমিকা। একজন মানুষ তার প্রতিবেশীর জন্য জীবন উৎসর্গ করতে বাধ্য অথচ আপনি আপনি আসতে অস্বীকার করছেন! আমি মামলা করে আপনাকে কারাগারে উঠাবো!
নেলির মনে হলো সে মিথ্যা বলছে এবং সে বুঝতে পারলো এটা অপমানকর। কিন্তু সে তার স্বামীর জন্য যুক্তি, সত্য, অন্যের প্রতি সহানুভূতি সবকিছু ভুলে যেতে পারে। তার হুমকির জবাবে ডাক্তার ঢকঢক করে একগ্লাস ঠাণ্ডা পানি পান করে নিলো। নেলি অসহায় ভিখারীর মতো তার সামনে নত হয়ে বসে পড়লো।—শেষপর্যন্ত ডাক্তার আত্মসমর্পণ করলো। সে আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালো, দাঁড়িয়ে হাঁফাতে লাগলো, অতঃপর তার কোট খুঁজতে লাগলো।
নেলি তাকে সাহায্য করতে করতে চীৎকার করে উঠলো, এই যে আপনার কোট! আসুন আপনাকে আমি কোর্টটা পরিয়ে দি। আপনাকে আমি পুষিয়ে দেবো। সারা জীবন আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে থাকবো।
কিন্তু এ-কি যন্ত্রণা! কোট পরিধান করার পর ডাক্তার আবার শুয়ে পড়লো। নেলি তাকে উঠালো এবং তাকে হলের দিকে ঠেলে নিয়ে গেল। তারপর যন্ত্রণা শুরু হলো পায়ের জুতা, ওভারকোট নিয়ে। এদিকে তার মাথার ক্যাপটাও হারিয়ে গেছে।—-যাহোক, শেষ পর্যন্ত নেলি ডাক্তারকে নিয়ে গাড়িতে উঠতে সমর্থ হলো। এখন তাদেরকে তিরিশ মাইল পথ অতিক্রম করতে হবে এবং তারপর তার স্বামী একজন ডাক্তারের সাহায্য পাবে। পৃথিবী মোড়ানো ছিলো গাঢ় অন্ধকারে। একজন আরেকজনের মুখোমুখি বসেও কেউ কারো মুখ দেখতে পাচ্ছিল না। —ঠাণ্ডা শীতের বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল। তাদের গাড়ির চাকার নিচে পড়ছিল বড় বড় পাথরের চাঁই। গাড়ির চালক বারবার থামছিল এবং কোন রাস্তা ধরে যাবে, তাই ভাবছিল।
নেলি ও ডাক্তার সারাপথ চুপচাপ বসে ছিলো। ভয়ঙ্করভাবে ঝাঁকুনি লাগছিল গাড়িতে। কিন্তু তারা কেউ না অনুভব করলো ঠাণ্ডা, না ঝাঁকুনি।
নেলি চালককে বলে চললো, চালিয়ে যাও। চালিয়ে যাও।
ভোর পাঁচটার দিকে ক্লান্ত ঘোড়াগুলো উঠানে এসে পৌছালো। নেলি দেখতে পেল তার পরিচিত গেটগুলো, পরিচিত পাতকুয়ো যার উপর একটা বক বসে আছে, ঘোড়ার আস্তাবল ও শস্যের মাচা। শেষ পর্যন্ত সে বাড়িতে এসে পৌছেছে।
একটু অপেক্ষা করুন। আমি এখনি ফিরে আসবো। স্তেপান লুকিচকে ড্রয়িং রুমের সোফার উপর বসিয়ে দিয়ে সে বলে উঠলো। চুপচাপ বসে থাকুন এবং অপেক্ষা করুন। আমি দেখে আসি সে কী করছ।
নেলি তার স্বামীর কাছ থেকে ফিরে এসে দেখতে পেলো ডাক্তার শুয়ে পড়েছে। সে সোফার উপর শুয়ে পড়ে বিড়বিড় করে কী যেন বলছে। এই যে, ডাক্তার! প্লিজ! প্লিজ!”
এ্যাহ! আমাকে ডাকছেন, ম্যাডাম? স্তেপান লুকিচ বললো।
কী?
তারা মিটিং-এ বলেছিল—- ভ্লাচোই বলেছিল—- কে?—- কী?
আতংকিত হয়ে নেলি লক্ষ্য করলো যে, ডাক্তারও তার স্বামীর মতো প্রলাপ বকছে। কী করা যেতে পারে এখন?
সে সিদ্ধান্ত নিলো, তাকে অবশ্যই জেমস্তোভো ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
তারপর আবার শুরু হলো সেই অন্ধকার, গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠা সেই ঠাণ্ডা বাতাস আর সেই বরফ জমে থাকা মাটি। সে শরীর ও মন উভয় দিক দিয়েই ভুগছিল। এবং বিভ্রান্তিকর এ প্রকৃতির না আছে কোনো কৌশল, না জানে সে কোনো প্রতারণা যার মাধ্যমে এইসব ভোগান্তির হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
এরপর সে দেখতে পেলো কিভাবে তার স্বামী বসন্তকাল এলেই ব্যাংকের ঋণের সুদ পরিশোধ করার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তার স্বামী ঘুমাতে পারে না; সেও ঘুমাতে পারে না; এবং তারা উভয়েই চিন্তায় হাবুডুবু খেতে থাকে যতক্ষণ না তাদের মাথা ব্যথা করে এবং তারা ভাবতে থাকে কিভাবে আদালতের ক্লার্কের সাক্ষাৎ এড়িয়ে যাওয়া যায়।
সে দেখতে পেলো তার সন্তানেরা কিভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে আছে চিরন্তন ঠাণ্ডা, জ্বর, ডিপথেরিয়াস, স্কুলে খারাপ নম্বর, বিচ্ছিন্নতা এইসব নিয়ে। পাঁচ ছয়টা সন্তানের মধ্যে একজন তো মারা যাবেই।
সে ধূসর যে প্রতিবিম্ব দেখতে পেল, সেখানে মৃত্যুও ছিলো। এটা ভালোও হতে পারে। স্বামী-স্ত্রী একসাথে মারা যাবে, এমনটি নয়। যে আগে মারা যাক না কেন, যে বেঁচে আছে তাকে কবর দিতে হবে। এবং নেলি দেখতে পেলো তার স্বামী মারা যাচ্ছে। সে বিস্তারিত সব দৃশ্য দেখতে পেলো। সে তার কফিন দেখতে পেলো, মোমবাতি, হলরুমে পুরোহিতদের পদচারণা, সব।
সে তার স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, এটা এরকম কেন হলো? কী এর কারণ?
এবং তার স্বামীর সঙ্গে তার অতিবাহিত জীবন তার কাছে মনে হলো একটা অনর্থক কাহিনী মাত্র।
নেলির কাঁধের উপর থেকে কী যেন পড়ে গিয়ে শব্দ করলো মাটির উপর। সে কেঁপে উঠে একটা লাফ মারলো এবং তার চোখ মোটা মোটা করে সে তাকালো। সে দেখতে পেল তার পায়ের উপর পড়ে আছে একটা আয়না। টেবিলের উপর অন্য আয়নাটা যেরকম ছিলো, সেরকমই আছে।
সে আয়নার মধ্যে তাকালো এবং দেখতে পেলো একটি বিষণ্ন অশ্রুসিক্ত মুখ। সেখানে আর কোনো ধূসর প্রতিচ্ছায়া দেখা যাচ্ছে না।
সে মুক্তির দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠলো, আমি অবশ্যই ঘুমিয়ে গিয়ে থাকবো।