রূপান্তর : আকিব শিকদার
[আমেরিকার নিগ্রো কবি পল লরেন্স ডানবার এর জন্ম ১৮৭২ সালে। পলের পিতামাতা ছিলেন ক্রীতদাস। কঠিন দরিদ্রতা আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তার শৈশব কেটেছে। দাসত্বের পীড়া নিয়ে বহু লেখা লিখেছেন তিনি। রূপকতা তার লেখার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। লিখেছেন অল্প, তবে প্রতিটি সৃষ্টিই যেন তাঁর সেরা সৃষ্টি। ১৯০৬ সালে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। স্বল্পায়ু এই কবি আমেরিকার প্রথম সার্থক নিগ্রো কবি হিসেবে স্বীকৃত।]
উদিয়মান সূর্য
সোনার থালার মতো একটি চাকতি
রোজ উঁকি দেয় পূর্ব নীলিমায়
জ¦লন্ত পয়সার মতো সেই চাকতিটি
পশ্চিমা গাছের আড়ালে রোজ ডুবে যায়।
প্রভাতে উঠে সে মৃদু তাপে
দুপুরে খড়তাপ পুড়ে দেয় প্রান্তর
গোধূলিতে পূনরায় মৃদু তাপ।
মানব জীবন সেই সূর্যেরই মতো
যৌবনে তেজদীপ্ত, কৈশোরে বার্ধক্যে নিস্তাপ।
সহানুভূতি
আমি জানি বন্দি পাখিটি কী ভাবছে একাকী!
যখন রোদ আলো ছড়ায় উপত্যকা ঢালে;
যখন বায়ু নাচে সুলম্ব ঘাসের ডগায়,
এবং নদীটি প্রবাহিত হয় চলমান কাঁচের মতো,
যখন প্রথম পাখিটি ডাকে এবং প্রথম কুঁড়িটি জাগে,
এবং যখন পবিত্র পাত্র থেকে সুগন্ধ লুট হয়ে যায়-
আমি জানি বন্দি পাখিটি কী ভাবছে একাকী!
আমি জানি বন্দি পাখিটি কেন পাখা ঝাপটায়
নিষ্ঠুর শিকগুলো তার রক্তে লাল হওয়া পর্যন্ত;
কারণ তাকে ফিরে যেতে হবে তার ঠিকানায়,
সে ঝুলন্ত পাতার মতো আনন্দে সেঁটে যাবে শাখায়;
এখন দুঃখগুলো চিহ্নিত এক সফেদ পুরাতন ক্ষতে,
তা আরো স্পন্দিত হয় তীক্ষèতর হুলের আঘাতে-
আমি জানি বন্দি পাখিটি কেন পাখা ঝাপটায়!
আমি জানি বন্দি পাখিটি কেন শিস দিয়ে ওঠে,
ওহ্! যখন ডানায় তার রক্তছাপ, অন্তরে বেদনা,-
যখন আঘাত করে শিকে মুক্তির আকাক্সক্ষায়;
সে তো গায় না কোনো আনন্দ-সঙ্গীত,
এ যে হৃদয় নিংড়ানো কোনো প্রার্থনার বাণী,
এ যে অভিযোগ ছুঁড়ে দেওয়া বিধাতার কাছে-
আমি জানি বন্দি পাখিটি কেন শিস দিয়ে ওঠে!