বাংলা দেশের সকল কর্মক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীর সরব অংশগ্রহণ আজ দৃশ্যমান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সবক্ষেত্রে নারীর পদচারণা যেমন বেড়েছে, তেমনি নারীদের সমস্যা ও সংকটও ঘনীভূত হয়েছে। বেড়েছে নারীর উপর সহিংসতা ও নির্যাতন। পাল্টেছে নির্যাতনের ধরন। এসব সমস্যা উত্তোরণে ও নির্যাতন প্রতিরোধে পাশাপাশি সমাজে নারীর অবস্থানকে শক্তিশালী ও নিরাপদ করতে তৈরি করা হয়েছে আইনি সুরক্ষা বলয়। নারীর অধিকার রক্ষা ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন সময়ে প্রণীত হয়েছে বিভিন্ন আইন। এরই ধারাবাহিকতায় “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০” এবং পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে ।
▪নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন আইনসমূহ
নারী নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য ১৯৮০ সালে ৯টি ধারা নিয়ে প্রণীত হলো যৌতুক নিরোধ আইন। এটাতেও যখন কাজ হলো না তখন ১৯৯৫ সালে প্রণীত হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইন। এ আইনে কঠিন শাস্তির বিধান রাখা হলো। শেষ পর্যন্ত এটাও ব্যর্থ হলো। এরপর ২০০০ সালে হলো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, এবং তা ২০২৫ এ সংশোধনী আনা হয় যা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে পরিচিত। পরবর্তীতে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ প্রণয়ন করা হলো।
এখন প্রশ্ন হলো, এই আইনগুলো নারীদের কতটুকু সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছে বা হচ্ছে! সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে এতকিছুর পরও বেড়ে চলেছে নারী নির্যাতন। আগে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন ছিল না। নারী নির্যাতনের যেকোনো মামলাকেই তখন যৌতুকের মামলা হিসেবে নেওয়া হতো। এখন আইন থাকা সত্ত্বেও ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে নারী নির্যাতন । এ বৃদ্ধির কারণ হতে পারে প্রণীত আইনগুলোর বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা ও আইনের প্রয়োগ-পদ্ধতিতে বিভিন্ন ত্রুটি, সামাজিক, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় ইত্যাদি।
▪ বিদায়ী বছর ছিল যেন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের বছর
বিগত ২৫ সালে ধর্ষণ বেড়েছে দিগুণ হারে। বিদায়ি বছর ছিল নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের বছর। এ বছর ধর্ষণ এবং পারিবারিক সহিংসতার মাত্রা ২০২৪ সালের মাত্রাকে ছাড়িয়ে যায়। বিশেষ করে বিদায়ি বছরে নারী নির্যাতনের সবচেয়ে বীভৎস অপরাধ-ধর্ষণের ঘটনা ছিল ২০২৪ সালের প্রায় দ্বিগুণ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিদায়ি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত মোট ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫৫৩টি। আর ২০২৪ সালে এটি ছিল ৩৪৫টি। ২০২৫ সালে দলগত ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ১৭১টি আর ২০২৪ সালে ছিল ১৪২টি।
২০২৫ সালে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ২৯ জনকে আর ২০২৪ সালে ২৩ জনকে। ২০২৫ সালে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় ১৮১ জনকে আর ২০২৪ সালে ৯৪ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত যেখানে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হন ৩৫ জন নারী ২০২৪ সালে তা ছিল ২৫ জন। ২০২৫ সালে ধর্ষণের ঘটনায় বেশির ভাগই নির্যাতনের শিকার হয়েছে কন্যাশিশুরা। এর প্রধান কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি। কিন্তু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। যত দিন পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হবে তত দিন এ নির্যাতন চলতেই থাকবে।
নারী নির্যাতনের আরেকটি ভয়াবহ রূপ পারিবারিক সহিংসতা নিয়েও বছরজুড়ে ছিল উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।
ঘরে সহিংসতার উদ্বেগজনক এক চিত্র বিবিসএস ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের যৌথভাবে করা এক জরীপ উঠে এসেছে-প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন নারী স্বামীর সহিংসতার শিকার! (১৩ অক্টোবর ২৫)আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যথাযথ নজরদারীর অভাবে গণমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য হারে নারী নির্যাতনের খবর লক্ষ্য করা যায়। ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য অত্যাচার, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ইত্যাদি কারণে গ্রামীণ দরিদ্র নারীরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। শহুরে শিক্ষিত নারীরাও পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক নির্যাতন, কর্মক্ষেত্রে হয়রানিসহ সাইবার বুলিং এর শিকার হচ্ছেন। সাইবার অপরাধে এখন বিপর্যস্ত দেশ। সাইবার বুলিংয়ের শিকার ৮০ শতাংশই নারী এ কিশোরী- (২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রতিদিন ) এরবাইরেও আরো অনেক ঘটনাই রয়ে যায় পর্দার আড়ালে যা সহজে হয়তো জনসমক্ষে প্রকাশিত হয় না। আবার অনেক সময় নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সামাজিক লজ্জা বা ভয় থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে ইতস্তত করে। এর ফলে, নির্যাতিতদের প্রকৃত পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে । এভাবে অনেক নির্যাতনের ঘটনাই বিচার প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত হয় না।
▪ নারী নির্যাতন রোধে আইনি সুরক্ষা
নারী নির্যাতন একটি গুরুতর অপরাধ এবং এর প্রতিকারের জন্য বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের আইনি সুরক্ষা এবং সাহায্য ব্যবস্থা চালু আছে, যেটার ব্যাপারে অধিকাংশ নারীসমাজ সচেতন নয়।
নারী নির্যাতনের প্রতিকার চাওয়ার জন্য মূল আইনি কাঠামো হলো: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০ ও ২৫) এবং পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০১৮)
এই প্রতিকারগুলো প্রধানত তিন ধরনের ।
১. ফৌজদারি, ২. দেওয়ানি, ৩. প্রশাসনিক
▪নারী নির্যাতনের প্রতিকারের জন্য করণীয় এবং
কোন আইনে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন তা নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো
১. ফৌজদারি প্রতিকার (Criminal Remedies):
এগুলো অপরাধীকে শাস্তি এবং ভিকটিমের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।
☑অপরাধের ধরন-ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপ, যৌতুকের জন্য হত্যা/গুরুতর আঘাত ।
প্রযোজ্য আইন: প্রতিকার/শাস্তি । করণীয় :
আইন ও ধারা : নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) ।
ক্সপ্রতিকার/শাস্তি : অপরাধের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
করণীয় : অবিলম্বে নিকটস্থ থানায় এজাহার (FIR) দায়ের করা। দ্রুত ডাক্তারি পরীক্ষা (Medical Examination) করানো।
☑যৌতুক দাবি বা আদায়
এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন হচ্ছে- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (ধারা ৪) ।
শাস্তি হলো- ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা। । করণীয় হলো-পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের এবং মামলা দায়ের করা।
☑অপহরণ, মানব পাচার, শ্লীলতাহানি
এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন হচ্ছে-
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code) এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ । শাস্তি হলো-গুরুতর কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
করণীয়-থানায় অভিযোগ দায়ের করা।
☑সাইবার হয়রানি :
সাইবার হয়রানি প্রতিকারের জন্য প্রযোজ্য আইন হচ্ছে-ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ (উঝঅ) [সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ]
শাস্তি হচ্ছে-৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
করণীয় : নিকটস্থ সাইবার ক্রাইম ইউনিট বা সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা।
২. দেওয়ানি/বিশেষ প্রতিকার (Civil and Special Remedies):
এগুলো ভিকটিমের নিরাপত্তা, আশ্রয় এবং মানসিক ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করে।
*প্রতিকারের ধরন ঃপ্রযোজ্য আইন ও ধারা । প্রতিকার/সহায়তা । করণীয়
☑পারিবারিক সহিংসতা
*প্রযোজ্য আইন-পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ ।
*সুরক্ষা আদেশ: আদালত থেকে সুরক্ষা আদেশ নিয়ে অভিযুক্তকে ভিকটিমের কাছাকাছি যাওয়া থেকে বিরত রাখা।
*বসবাস আদেশ: ভিকটিমের নিজ বাসস্থানে (স্বামী/শ্বশুর বাড়িতে) থাকার অধিকার নিশ্চিত করা।
*ক্ষতিপূরণ আদেশ: শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা। ।
*সংশ্লিষ্ট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করা।
☑ভরণপোষণ
প্রযোজ্য আইন: পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫
ক্ষতিপূরণ আদেশ-
বিবাহবিচ্ছেদ বা আলাদা থাকার সময় স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ দাবি করা।
করণীয়-পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করা।
৩. প্রশাসনিক ও সামাজিক সাহায্য (administrative and social support):
আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভিকটিমকে মানসিক ও সামাজিক সমর্থন দেওয়া জরুরি।
*সহায়তাদানকারী প্রতিষ্ঠান-
ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (OCC) : শারীরিক বা মানসিক ক্ষতির শিকার নারীদের জন্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে (OCC) কেন্দ্র আছে, যা চিকিৎসা, আইনি সাহায্য, ডিএনএ পরীক্ষা এবং মানসিক সহায়তা প্রদান করে।
*হেল্পলাইন:
জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯: নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে এই টোল-ফ্রি নম্বরে ২৪ ঘণ্টা সেবা পাওয়া যায়।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯: পুলিশি সহায়তার জন্য দ্রুত যোগাযোগ করা।
বেসরকারি সংস্থা ((NGOs): অনেক বেসরকারি সংস্থা (যেমন- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্লাস্ট) বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, পরামর্শ এবং আশ্রয় প্রদান করে।
দ্রুত করণীয়:
নির্যাতনের শিকার হলে ভিকটিমের প্রথম কাজ হলো- নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া,
এরপর জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ বা ৯৯৯-এ কল করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করা এবং দ্রুত নিকটস্থ থানায় গিয়ে এজাহার (ঋওজ) দায়ের করা।
▪আইনের সীমাবদ্ধতা ও অপব্যবহার
যদিও বাস্তবতার প্রেক্ষিতে নারী সুরক্ষা আইনগুলো অনেক ক্ষেত্রে কঠোর আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, পাশাপাশি এসব আইনের অপব্যবহার এবং সীমাবদ্ধতা নিয়েও নানাসময়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। নারী নির্যাতনের অনেক মিথ্যা মামলা হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে যে, প্রায় ৮০ শতাংশ নারী নির্যাতনের মামলায় কোনো প্রমাণ মেলে না। এর প্রধান কারণ হলো -আইনগুলো জামিন অযোগ্য এবং কঠোর শাস্তির বিধান থাকায় কিছু মানুষ ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা সম্পত্তিগত বিরোধের জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের করে থাকে।
অনেক সময় মিথ্যা মামলা দায়েরের কারণে প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি পেতে দেরি হয় এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার বিলম্বিত হয়। মিথ্যা মামলাগুলো তদন্ত প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি করে, যার ফলে প্রকৃত অপরাধীরা অনেক সময় আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে ছাড়া পেয়ে যায়।
▪আইন প্রয়োগে দক্ষতা ও প্রযুক্তির ব্যাবহার প্রয়োজন:
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পারিবারিক সহিংসতা আইনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হলে আইন প্রয়োগের দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দক্ষতা এবং স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে যাতে মিথ্যা মামলাগুলো দ্রুত বাতিল করা যায় এবং প্রকৃত অপরাধীরা দ্রুত শাস্তি পায়।
এছাড়াও, তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে যাতে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। অনেক সময় সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহে বিলম্বের কারণে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয় এবং অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায়। এজন্য ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
☑ পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের সংরক্ষণ:
আইন প্রণয়ন এবং তার সঠিক প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজে নারীর প্রতি সম্মান ও মূল্যবোধ সৃষ্টি করাই নারী নির্যাতন প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি। যদি পরিবার ও সমাজে নারীর প্রতি সম্মান, মূল্যবোধ, এবং নৈতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে আইনের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে এবং নারী নির্যাতনের হারও কমবে।
ধর্মীয় এবং নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে তাদের সন্তানদের সঠিক শিক্ষা দিতে হবে। সন্তানদের মধ্যে মানবিকতা, সমতা এবং সহানুভূতির মূল্যবোধ তৈরি করতে হবে।
একইসঙ্গে, মিথ্যা মামলার প্রবণতা রোধেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সর্বোপরি, আমাদের সমাজে নারীদের প্রতি সম্মান এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সমাজের প্রত্যেকটি স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা এবং নারীদের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হলে তবেই আইনগুলো সঠিক লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে এবং নারীরা নিজেদের সত্যিকারের সুরক্ষিত মনে করবেন। নারী বান্ধব নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হবে।