সংগ্রাম, আজাদী, বিপ্লব শব্দগুলি বিদ্রোহের বহিঃপ্রকাশের কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশে কোনো কিছুর প্রতিবাদ করাই হলো সংগ্রাম। আমাদের দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা তাই করেছে মাত্র। এ পত্রিকা তৃণমূলের সত্য সংবাদ, সরকারের সমালোচনা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়েই প্রচারণা চালিয়েছে। এ পত্রিকাটি জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দলের পত্রিকা হিসেবে বিবেচিত ছিল বিধায় নানা অন্তরায় প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়। ড. ইউনূস পাকিস্তান থেকে যুদ্ধ বিমান কিনছে, সবাই বলছি সাবাস ড. ইউনূস। অন্যদিকে ভারতের লাভ ঝাঁপ শুরু। ভারতের ভাবখানি এমন কি দরকার যুদ্ধবিমান কেনার বা পাকিস্তানের সাথে এত সুসম্পর্ক, এত দহরম-মহরম। কত কি বাহানা। তবে খুব মজা লাগছে ভারতকে তেলেবেগুনে জ্বলতে দেখে। তবে এটুকু বুঝেছি পাকিস্তানের শাসক তথা পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিবিদদের দূরদর্শিতার অভাব ছিল, সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের দিকে না গিয়ে চরম ভুল করেছিল। পাকিস্তান তো আমাদের পূর্বপুরুষরা সৃষ্টি করেছিল আমরা তো কখনো পরাধীন ছিলাম না বা কেউ বলিনি আমরা পরাধীন ছিলাম। আর আমরা সাড়ে সাত (৭.৫) কোটি এক জাতির লোক বাঙালি। আর চার জাতিতে (পাঞ্জাবি, বেলুচ, সিন্ধ,পাঠান) মিলে পশ্চিম পাকিস্তানের ছিল সাড়ে পাঁচ কোটি (৫.৫)। কীভাবে আমরা পরাধীন ছিলাম? স্বাধীন আমরা হয়তো হতাম কারণ আমাদের সংস্কৃতি, ভাষা ছিল ভিন্ন। আর এটা স্বাভাবিক, দু’হাজার কিলোমিটার দূরে পাকিস্তানের অন্য অংশ থাকতে পারে না। তবে আমরা সমঝোতার মাধ্যমে স্বাধীন হলে লাভবান হতে পারতাম।

আমরা ৫০ বছর পর বুঝছি ভারত আমাদের বন্ধু নয়, শত্রু। এটা জামায়াতে ইসলামী যেভাবে বুঝেছিল তেমনটাই দৈনিক সংগ্রাম প্রকাশ করেছিল। ভারতের হস্তক্ষেপের জন্য হয়তো আমরা ঠিকমত বুঝি নাই, সকল ন্যারেটিভ ছিল মিথ্যা ভারতীয় বয়ান। আওয়ামী লীগ স্বাধীন বাংলাদেশকে তিনবারে শাসন করেছিল, প্রথমটা ছিল শেখ মুজিব অপশাসনে ভরপুর। ১৫ আগস্ট ৭৫ এ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে মুক্তি। তারপরে আবার শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ। এরপর আবার ১৬ বছর ধরে আমরা বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ হারে হারে টের পেয়েছি আওয়ামী লীগ কি? তাঁবেদারি পত্রিকা ছাড়া সকল সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক কেউ কথা বলতে পারি নাই, লিখতে পারে নাই। দৈনিক সংগ্রামের জীবন ছিল জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। অধিকার নিয়ে কথা বলার সাহস কারো ছিল না। ১৯৭১ স্বাধীনতা দিয়েছে এক মানচিত্র ও পতাকা। ২৪ দিয়েছে স্বাধীনতা। কথা বলার অধিকার। ২৪ এ আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো ‘আমরা চিনেছি আমাদের শত্রুকে। ভারত ও আওয়ামী লীগের দর্শন এক। এদেশের জনগণ আর ভারতীয় ন্যারেটিভ গ্রহণ করবে না। একইভাবে আওয়ামী লীগ বা সুশীলদের ন্যারেটিভ এদেশে আর চলবে না। আমরা আমাদের নিজস্ব স্বকীয়তা দিয়ে চলবো। আমাদের আগামী দিন হবে ভারতীয় আধিপত্য মুক্ত বাংলাদেশ। দরকার হলে কম খাব তবুও আমরা ভারতের কাছে মাথা নত করবো না। মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো, ইনশাআল্লাহ।

দীর্ঘ ৫৪ বছর শাসক আর আমজনতার পার্থক্য ছিল ব্যাপক। আমরা কোনো ভালো শাসক, ভালো নেতা সৃষ্টি করতে পারি নাই। এটা আমাদের ব্যর্থতা। এটা এমন এক দেশÑ যে দেশের রাজনীতিবিদরা বাজার করে না, বাজারে যায় না।

পেশা হয় রাজনীতি অর্থাৎ চাঁদাবাজি। দেরিতে হলেও বাংলাদেশের জনগণ এই সত্যটা বুঝতে পারছে আর তার বাস্তব প্রতিফলন হলো জগন্নাথ ইউনিভার্সিটির নির্বাচন। তারা যোগ্য ছাত্রদের নির্বাচিত করতে পেরেছে। আমার বিশ্বাস আগামী নির্বাচনে আমরা ভালো নেতৃত্ব খুঁজে পাবো। ভারতের দাদাগিরি এ দেশে আর চলবে না।

জামায়াত শব্দ শুনলেই একশ্রেণির জনতার গায়ে এ্যালার্জি বা নাকসিটকানো সমস্যা হতো। এখন সে সমস্যা নেই।

আমরা সবাই রঙিন চশমা পড়ে বাংলাদেশ দেখবো না। খালি চোখে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলবো ও দেখবো। দেশের জনগণকে মানুষ হিসেবে সম্মানিত করবো। সকল সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবো। আমাদের পছন্দের তালিকায় দৈনিক সংগ্রামকে পাবো। দৈনিক সংগ্রাম দেশের সকল সমস্যা তুলে ধরে সমাধানের পথ খুঁজে দেবে, ইনশাআল্লাহ।