সামছুল আরেফীন, মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, ইবরাহিম খলিল : বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে এক অনন্য নাম ‘দৈনিক সংগ্রাম’। দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থেকে ১৭ জানুয়ারি পত্রিকাটি তার ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। অর্ধশতাব্দীর এই দীর্ঘ পথচলায় পত্রিকাটিকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হলেও জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে এটি টিকে রয়েছে।

৫১ বছরের অর্জন ও মূল্যায়ন: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান দৈনিক সংগ্রাম-এর অবদান মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশে টিকে থাকা প্রাচীন সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে ‘ দৈনিক সংগ্রাম’ প্রথম সারিতে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংগ্রাম মানেই সত্য ও সুন্দরের জয়গান গাওয়া এবং অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। তার মতে, সংবাদপত্রের প্রকৃত ভাষা অর্থাৎ ‘সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো’ বলাÑএই কঠিন কাজটি সংগ্রাম সাফল্যের সাথে করে আসছে।

সংগ্রামের কাছে প্রত্যাশা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সংগ্রাম জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করছে। বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী ও ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আব্দুর রব একে সংবাদপত্রের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মনে করেন, সংগ্রাম শুধুমাত্র একটি পত্রিকা নয়, বরং গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সাহসী এক কণ্ঠস্বর।

প্রতিকূলতা ও সংগ্রাম: পত্রিকাটির ৫১ বছরের পথচলা কখনোই মসৃণ ছিল না। বিশেষ করে বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সময় পত্রিকাটিকে রাষ্ট্রীয় জুলুম ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির পক্ষ থেকে দেয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, দৈনিক সংগ্রামের পথচলা কখনোই মসৃণ ছিল না। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের আমলে এই পত্রিকাটিকে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে। স্বাধীন মতপ্রকাশের কণ্ঠরোধ করতে পত্রিকাটির ওপর বারবার আঘাত হানা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামধারী সন্ত্রাসীরা পত্রিকাটির কার্যালয়ে ঢুকে নারকীয় ভাঙচুর চালিয়েছিল এবং প্রবীণ সম্পাদক আবুল আসাদকে হেনস্তা করা হয়েছিল।

ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী আমলে ‘দৈনিক সংগ্রাম’ ছিল সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত মাধ্যম।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: ৫১ বছরের মাইলফলক স্পর্শ করে দৈনিক সংগ্রাম আগামীর বাংলাদেশে একটি মজবুত স্তম্ভ হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চায়। সত্যসন্ধানী পাঠকদের পিপাসা মেটানোর ঠিকানা হিসেবে ‘ দৈনিক সংগ্রাম’ তার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখবেÑএমনটিই সকলের প্রত্যাশা।