নারী কখনো মা, কখনো বোন, কখনো কারো স্ত্রী। ইসলাম নারীকে দিয়েছে পূর্ণ মর্যাদা এবং স্বাধীনতা। ইসলামে নারীর অনেক অধিকার রয়েছে, যেমন আর্থিক নিরাপত্তা ও মালিকানা, শিক্ষা ও সম্মানের অধিকার এবং বিবাহ ও পারিবারিক জীবনে সম্মানজনক অবস্থান। ইসলাম নারীকে রানী করে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তাদের আবাসকে স্ত্রীঘর বলেছে। এমনকি নারী উপার্জন করলেও তাকে পরিবারের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া হয় নি। ইসলামে নারী অধিকার নিয়ে পড়লে সত্যিই অসাধারণ লাগে, মনে হয় কল্পরাজ্যে বাস করছি। মনে পড়ে যায় ছেলেবেলার পড়া সেই সুলতানাস ড্রিমের কথা। খুব কৈশরেই বুঝতে পেরেছিলাম সমাজের নারী পুরুষের মাঝের বৈষম্যের বিষয়টা। আমরা ছিলাম ৬ বান্ধবী। আমরা অনেক প্লান করেছিলামও এমন একটা দেশে আমরা চলে যাব সুলতানার মত। যেখানে নারীদের কেউ ডমিনেট করতে পারবে না। তাদের ওপর কেউ কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে না। নারীরা প্লেন চালাবে, ঘুরি উড়াবে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের আরও কত কিছু আবিষ্কার করবে! আসলেই তো পুরুষের ক্ষমতা সেটা তো কেবল বন্দুক ও অস্ত্রের শক্তি আর নারীর শক্তি হল ‘মস্তিষ্কের শক্তি’।
নারীর এম্পাওয়ারমেন্ট বর্তমান বিশ্বে বহুল আলোচিত বিষয়। নারীর ক্ষমতায়ন বলতেই আমাদের গেলানো হয় নারীকে ঘরে বন্ধ করে রাখা যাবে না। তাকে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে হবে। তাহলেই নারীর স্বাধীনতা শতভাগ নিশ্চিত হবে।
এবার আসি বাস্তবতায়। বাস্তবতা হচ্ছে একজন শিক্ষিত নারী যখন শুধুমাত্র হোম মেকার তাকেও প্রতি নিয়ত সমাজ আইডেনটিটি ক্রাইসিস এ ভুগায় । অন্য দিকে নারীর কাজের জায়গায় নানাবিধ সমস্যার অন্ত নাই। নাই তার যথাযথ কাজের মূল্যায়ন। করপরেট অফিসগুলোতে দেখা যায় সেইম যোগ্যতা থাকার পরও একজন নারীর চেয়ে পুরুষকেই বেশি প্রমোটেড করা হয়। পেশা জীবন এ এরকম অনেক ট্রেনিং করেছি নারীর এম্পাওয়ারমেনট এন্ড ওম্যান এনটেরপ্রেনার ডেভেলপমেনট নিয়ে। কিন্তু সবকিছুই আমার কাছে সেই সুলতানাস ড্রিমস-এর মতই অধরাই থেকে গেছে। আমাদের বাস্তবতাই হল নারী চাকরি করবে সন্তান জন্ম দিবে আবার সংসারের সব কাজও সেই করবে। উত্তরাধিকার এর সম্পদের ন্যায্য হিস্যাটুকুও নারীকে দেয়া হয় না। এক্ষেত্রে তো নারী তার নিজ পরিবারেই প্রবলভাবে বঞ্চনার শিকার। এই এম্পাওয়ারমেনট দিয়ে আমরা কি করব যেখানে পরিবার, সমাজ, রাস্ট্র নারীকে সমান অধিকারের নামে, ক্ষমতায়নের নামে তার কাঁধে এক গাদা দায়িত্ব চাপিয়ে দেয় কিন্তু তার সন্তানের দায়িত্ব নেয় না, তার ঘরের কাজ আর কর্মক্ষেত্রের কাজের ন্যয্য হিস্যা তাকে বুঝিয়ে দেয় না।
একজন পুরুষ ৮ ঘন্টা কাজ করবে আবার একজন নারী সন্তান জন্ম থেকে শুরু করে তাদের লালন পালন আর হাউজ মেনেজমেনট করেও ৮ ঘন্টা কাজ করবে এর চেয়ে বড় বৈষম্য কি হতে পারে!
অথচ ১৪ শ বছর আগে আল্লাহর রাসুল নারীর ক্ষমতায়নকে ইম্পলিমেনট করে দেখিয়েছেন। আধুনিক বিশ্ব নারীকে ঘর থেকে বের করেছে ঠিকই কিন্তু তাকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পণ্যে রুপান্তর করেছে। ইসলাম যেভাবে নারী কে সম্মানিত করেছে ঘরে বাইরে সেটার ইম্পলিমেনটেশন খুব জরুরি। বিশেষ করে জাতীয় পলিসি মেকিং থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রনের মত জাতীয় ইসু্তে নারীর মতামত মেয়া উচিত। তাদের কে আলোচনার টেবিলে রাখা উচিত।
বিশেষ করে জাতীয় সংসদে ৫% বা তার চেয়েও বেশি উপস্থিতি বাধ্যতামুলক করা এখন সময়ের দাবি। এটাই হবে নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন। তাই এখনই সময় নিজেদের অধিকার আর ন্যয্য হিসাবগুলো বুঝে নেয়ার। ৫০% জনগনের মতামত আর রায়কে উপেক্ষা করে একটা রাষ্ট্র কখনোই কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারবে না।