আমরা মুসলিম জাতি। আমাদের হৃদয়ে জ্বলছে ইসলামের প্রদীপ। প্রত্যেক মুসলমানের অন্তরে মহান আল্লাহ-রাসুলের ভালোবাসা বিরাজ করছে। যুগের প্রয়োজনে অনেক ইসলামী ব্যক্তি আজ ইসলামী মিডিয়ার কথা ভাবছেন। ইসলামী জ্ঞানের ধারক-বাহকরা বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ভাড়া নিয়ে ইসলামী অনুষ্ঠান চালু করেছেন।

আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলাম। ইসলাম একটি প্রচারমুখী ধর্ম। এ ধর্মে মানুষের সব সমস্যার সমাধান রয়েছে। বর্তমান সারা বিশ্বে নাস্তিক্যবাদ, কমিউনিজম ও বস্তুবাদী ধ্যান-ধারণার চরম উৎকর্ষ চলছে। ইয়াহুদি-খ্রীস্টান, বিধর্মীগোষ্ঠী ইসলাম সম্পর্কে মিথ্যাচার,বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করে যাচ্ছে। মানুষকে দুশ্চিন্তা, উৎকন্ঠা, চরিত্র ধ্বংস, বিচ্যুতির দিকে ক্রমশ ধাবিত করছে। এ সব বিভ্রান্তি নিরসন করায় মিডিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। মুসলিমগণ সংবাদকর্মী তা হতে বিরত থাকার প্রয়াস চালাছে। সারা বিশ্বে ইসলামী আকাশ চ্যানেল থাকার প্রয়োজন। বর্তমানে কোন ইসলামী আকাশ চ্যানেল নেই। চালু রয়েছে প্রিন্ট, টেলিভিশন, স্যাটেলাইট, রেডিও, ইন্টারনেট, ভিডিও, অডিও ইত্যাদি।

ইসলাম ও গণমাধ্যমের স্বরূপ বর্ণনা করতে গিয়ে ড. ইবরাহিম ইমাম বলেন, ‘মানুষকে সঠিক সংবাদ ও নিভর্যোগ্য তথ্যপ্রমাণ্য বাস্তব বিষয় পরিবেশন করা যা কোন ঘটনা অথবা সমস্যার ব্যাপারে তাদেরকে সঠিক মত গ্রহণে সহযোগিতা করবে। যে মতটি মানুষের বিবেক, আবেগ, ঝোঁক প্রবণতা হিসাবে প্রকাশ পায়’। প্রফেসর ফয়সল হাসসুন বলেন, ‘তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্যে থেকে, যে তাদের কাছে তেলাওয়াত করে তার আয়াতসমূহ। তাদেরকে পবিত্র করে এবং তাদেরকে শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাহ। যদিও ইতোপূর্বে তারা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে’। ইসলামী মিডিয়ার উদ্দেশ্য হলো একত্ববাদে বিশ্বাসী হওয়া। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা ইমান এনেছে, আল্লাহ তাদেরকে সুদৃঢ় বাক্যের দ্বারা দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন এবং যারা যালিম আল্লাহ তাদেরকে বিভ্রান্তিতে রাখবেন। আর আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করেন’। আল্লাহ আরো বলেন, ‘যা করতে তাদেরকে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা তা করলে ভাল হত এবং চিত্তস্থিরতায় তারা দৃঢ়তর হত’। আমাদের সমাজকে ইসলামের রঙে রাঙিয়ে তুলতে হবে। এরশাদ হচ্ছে, ‘আল্লাহর রঙে রক্তিন হও। আর রং এর দিক দিয়ে আল্লাহর চেয়ে কে বেশী সুন্দর’। মিডিয়ার মাধ্যমে সমাজ থেকে বিশৃংখলা দূরীকরণ করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা ইমান এনেছে এবং তাদের ইমানকে যুলুম (শির্ক) দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা তাদেরই জন্য এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত’। ‘আর যে মোমিন হয়ে সৎকাজ করে, তার কোন আশংকা নেই অবিচারের এবং অন্য কোন ক্ষতির’। বিশ্ব নবী (সা.) ইসলামের পথে দৃঢ় ও অটল থাকতে শিক্ষা দিয়েছেন। হযরত রাসুল (দ) বলেন, হে অন্তরের পরিবর্তনকারী, তুমি আমার অন্তরকে দ্বীনের ওপর অটল-অবিচল রাখো’। আল কুরআন ও আল হাদীসে দৃঢ়ভাবে ইসলামী মিডিয়ার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। সে হিসাবে একজন সাংবাদিককে ইসলামী সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং বস্তুনিঠ সংবাদ সুন্দরভাবে পরিবেশন করতে হবে।

গণমাধ্যম কি? গণমাধ্যম হলো, যে মাধ্যমের সাহায্যে বিভিন্ন কথা, বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো হয় তাই গণমাধ্যম। যেমন টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদপত্র এবং ইন্টারনেট। কারো কারো মতে, ‘গণমাধ্যম হলো বিশেষ কিছু যন্ত্র দ্বারা একটি সুসংগঠিত কার্যক্ষম দল,যা বহু মানুষের কাছে একই সময়ে একই বার্তা পৌছে দেয়’। গণমাধ্যমে যারা কাজ করেন তারাই গণসাধ্যমকর্মী বা সংবাদকর্মী। ‘মূলত যিনি সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত থাকেন তাকে সাংবাদিক বলে’। একজন সাংবাদিককে বেশ কিছু গুণের ধারক বাহক ও বিশেষ গুণের অধিকারী হতে হবে। সাধারণ একজন ব্যক্তি মিডিয়াকর্মী হতে পারে না। মিডিয়া কর্মীকে মানবীয় গুণাবলী, সাংগঠনিক এবং বুদ্ধি-জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাগত, সংবাদ লিখার যোগ্যতা, সাহসিকতা, সত্যবাদিতা, ধৈর্যশীলতা, শক্তিমত্তা, বিশ্বস্ততা, কৌতূহলী, দৃঢ ইচ্ছা-শক্তি, নিরপেক্ষতা সংবাদ বাছাই ক্ষমতা, জ্ঞানবান, উদারতা, শৃংখলাবোধ, ব্যক্তিত্ব, বিচক্ষণতা, কু-ধারণা থেকে বিরত থাকা, ছিদ্রান্বেষণ, গোপনীয়তা রক্ষা করা, মনোযোগ আকর্ষণ করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাবোধের অধিকারী হওয়া। হতে হবে একই বার্তার অসংখ্য রূপদান, চাহিদা, অবিকল উপাদান, তথ্য-ভাষা প্রচার প্রকাশের প্রসারতা, সহজ বহনযোগ্যতা, তাৎক্ষণিক প্রচারক্ষমতা, প্রতিবার্তা প্রাপ্তি, বাচনিক, অবাচনিক, নির্ভরশীলতা, গ্রাহক, বিজ্ঞাপনসহ আথিক বিষয়ে সাহায্য সহযোগিতার যোগ্য হওয়া।

আমাদেরকে জানতে হবে গণমাধ্যম সৃষ্টির ইতিহাস। কি ভাবে গণমাধ্যম সৃষ্টি হলো। গণমাধ্যম সৃষ্টি, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ মানুষ সৃষ্টির পর থেকে শুরু হয়েছে। সে হিসাবে সারা বিশ্বে এ সংস্কৃতি বিস্তার ঘটেছে। মহান আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে এ ধারা বিরাজমান রেখেছেন। মহান আল্লাহ এরশাদ করেন,‘তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষ। তিনিই তাকে শিখিয়েছেন ভাষা’। মানুষ ভাষার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করেন।

বান্দার জন্য বিরাট নিয়ামত। অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘ হে মানুষ! আমরা তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, এক মানুষ ও এক নারী হতে, আর তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অন্যের সাথে পরিচিত হতে পার’। সাংবাদিকতার প্রধান কাজ পরিচিতি বা সত্য উৎঘাটন করা। মহান আল্লাহ এরশাদ করেন, ‘হে ইমানদারগণ! যদি কোন ফাসিক তোমাদের কাছে কোন বার্তা নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখ, এ আশংকায় যে, অজ্ঞতাবশত তোমরা কোন সম্প্রদায়কে আক্রমণ করে বসবে, ফলে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদেরকে অনুতপ্ত হতে হবে’। আয়াতে কারীমা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে পরীক্ষা ছাড়া কোন সংবাদ বিশ্বাস করা যাবে না। ঘটনার সত্যতা বা মিথ্যাচার যাচাই বাছাই করার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদারঘণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক’। কথা ও কাজ উভয় ক্ষেত্রে সত্যবাদিতার ফলে মানুষ পরকালে মুক্তি পাবে। একজন সাংবাদিকের উচিত হলো বস্তুনিষ্ঠু সংবাদ যথাযথভাবে প্রকাশ করা। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করা। সংবাদ পরিবেশন করা মানে হলুদ সাংবাদিকতা নয়। সাংবাদিকের কাজ হলো তথ্য বহুল, সঠিক সংবাদ প্রকাশ করা।

যথাযথ সংবাদের মাধ্যমে ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ ও অপসংস্কৃতি থেকে মুসলিম বান্দাকে দূরে রাখা। সাংবাদিকের উচিত মিথ্যার পরিবর্তে সত্য ঘটনা লিখে সবার সামনে প্রকাশ করা। আজকে সারা বিশ্বে ইয়াহুদি, খ্রিস্টান ও বিধর্মীরা ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাছে। বিধর্মীরা সত্য ঘটনাকে মিথ্যার রং চাপিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে। তা থেকে জাতিকে রক্ষা করা মিডিয়ার কাজ। মোমিন বান্দার কলমই হলো বড় শক্তি। এ শক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

আমরা মুসলিম জাতি। আমাদের হৃদয়ে জ্বলছে ইসলামের প্রদীপ। প্রত্যেক মুসলমানের অন্তরে মহান আল্লাহ-রাসুলের ভালোবাসা বিরাজ করছে। যুগের প্রয়োজনে অনেক ইসলামী ব্যক্তি আজ ইসলামী মিডিয়ার কথা ভাবছেন। ইসলামী জ্ঞানের ধারক-বাহকরা বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ভাড়া নিয়ে ইসলামী অনুষ্ঠান চালু করেছেন। ইসলামী চিন্তা-চেতনা,ভাবধারায় মাসিক, পাক্ষিপ,সাপ্তাহিক, ম্যাগাজিন প্রকাশিত হচ্ছে। তবে কোনো ইসলামী দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে না। ইসলামী সংস্কৃতি, কৃষ্টি কালচার, সভ্যতা প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে ইসলামী মিডিয়ার প্রয়োজন। একজন সাংবাদিকের কাজ হলো ইসলামের স্বার্থে সঠিক তথ্য, সংবাদ জাতির সামনে তুরে ধরা। অমুসলিমদের হাত থেকে মুসলিম জাতিকে রক্ষা করা।