বাংলাদেশে একটি আদর্শ ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে চায় উল্লেখ করে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, রাজনীতি মানে জনগণের কল্যাণ। খেলাফত মজলিস সেই বিশ্বাসকে ধারণ করে কাজ করছে। আমরা অন্যায়, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। জনগণের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই, বাংলাদেশে একটি আদর্শ ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হোক। দৈনিক সংংগ্রাম শুধু সাংবাদিকতার নয়-এটি আদর্শ, নৈতিকতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতীক বলেও তিনি অভিহিত করেন।
সম্প্রতি দৈনিক সংগ্রামের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাতকারের বিস্তারিত নিন্মে তুলে ধরা হয়েছে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন দৈনিক সংগ্রাম এর সিনিয়র রিপোর্টার মিয়া হোসেন।
দৈনিক সংগ্রাম: দৈনিক সংগ্রাম ৫১ বছর পূর্ণ করলো। আপনি দৈনিক সংগ্রামের অবদান কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
ড. আহমদ আবদুল কাদের : দৈনিক সংগ্রাম বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতে একটি সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ নাম। ৫১ বছর ধরে সংগ্রাম যে ভূমিকা রেখেছে, তা শুধু সাংবাদিকতার নয়Ñএটি আদর্শ, নৈতিকতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতীক। বিশেষ করে ইসলামি মূল্যবোধ, জাতীয় স্বার্থ ও গণতন্ত্রের পক্ষে এর অবস্থান প্রশংসনীয়। আমি মনে করি, সংগ্রাম সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার এক উজ্জ্বল বাতিঘর।
দৈনিক সংগ্রাম: বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খেলাফত মজলিসের ভূমিকা কীভাবে তুলে ধরবেন?
ড. আহমদ আবদুল কাদের: আমরা বিশ্বাস করি, রাজনীতি মানে জনগণের কল্যাণ। খেলাফত মজলিস সেই বিশ্বাসকে ধারণ করে কাজ করছে। আমরা অন্যায়, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। জনগণের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই, বাংলাদেশে একটি আদর্শ ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হোক।
দৈনিক সংগ্রাম: আপনি কি মনে করেন, বাংলাদেশ এখন ফ্যাসিবাদ-উত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে?
ড. আহমদ আবদুল কাদের: দুঃখজনকভাবে বলতে হয়, বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদ-উত্তর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাÑসবকিছুই এখনও বাধাগ্রস্ত। জনগণের আন্দোলন ও সচেতনতা বাড়ছে, তবে কাক্সিক্ষত গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে আরও সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে।
দৈনিক সংগ্রাম: দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিক্ষা ও নৈতিক অবক্ষয়Ñএই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় খেলাফত মজলিসের-এর দৃষ্টিভঙ্গি কী?
ড. আহমদ আবদুল কাদের: আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামি আদর্শই পারে সমাজের এই চরম সংকটগুলো দূর করতে। দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করতে হলে উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, ন্যায়ভিত্তিক সম্পদ বণ্টন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনের দিকটি জোরদার করতে হবে। খেলাফত মজলিস এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
দৈনিক সংগ্রাম: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী, বিশেষ করে সীমান্ত সমস্যা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে?
ড. আহমদ আবদুল কাদের: প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা, নদীর বাঁধ কেটে দেওয়া, একতরফা পানি প্রত্যাহারÑএসব আচরণ বন্ধ করতে হবে। অর্থনৈতিক সহযোগিতাও হতে হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে, যেন বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমরা চাই, জাতীয় স্বার্থে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করা হোক।
দৈনিক সংগ্রাম: গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছেÑআপনার দৃষ্টিতে এর কারণ ও সমাধান কী?
ড. আহমদ আবদুল কাদের: গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার মূল কারণ হলো রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার। সত্য প্রকাশে বাধা দেওয়া মানে জনগণের অধিকার হরণ করা। এর সমাধান হলো-গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীন মত প্রকাশের পরিবেশ সৃষ্টি করা।
দৈনিক সংগ্রাম: আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে খেলাফত মজলিসের-এর পরিকল্পনা কী?
ড. আহমদ আবদুল কাদের: আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক, আত্মমর্যাদাশীল ও ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে শাসন হবে জবাবদিহিমূলক, শিক্ষা হবে নৈতিক, অর্থনীতি হবে ন্যায্য এবং সমাজ হবে শান্তিপূর্ণ। আমরা জনগণের অংশগ্রহণে একটি আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখি এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।
দৈনিক সংগ্রাম : দৈনিক সংগ্রামের পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?
ড. আহমদ আবদুল কাদের: আপনারা সত্য, ন্যায় ও ইসলামি মূল্যবোধের পক্ষে থাকুন। সাহসিকতা সততার সাথে যাতে সংগ্রাম পত্রিকা সংবাদ পরিবেশন করতে পারে তার জন্য পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীগণ তার প্রতি অব্যাহত সমথর্ন বহাল রাখুন।
আপনাদের অব্যাহত সমথর্ন এর মাধ্যমেই দৈনিক সংগ্রাম এগিয়ে যাবে এ আশা আমি করি। আমরা চাই, গণমাধ্যম হোক জনগণের প্রকৃত কন্ঠস্বর।