আসন্ন ‘ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন-২০২৬’ নিয়ে কিছু ভাবনা গত একমাস থেকে ভীষণভাবে ভাবিয়ে তুলছে। ১২ তারিখ আসা পর্যন্ত হয়তো প্রতিদিনই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ‘জুয়ারা নদী’র মতো বাঁক পরিবর্তন করবে। তফসিল ঘোষণা ও ওসমান হাদীর মৃত্যু দিয়ে শুরু হয়ে এর চূড়ান্ত ফয়সালা হয়তো নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরে আমরা বুঝতে পারবো।

তবে এই লেখা যার জন্য তা হচ্ছে স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব ও আমরা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশকে পরবর্তীতে গঠনের জন্য একটি খুঁটি হিসেবে কাজ করবে। এটি-ই ২০২৪ এর আন্দোলনের পর দেশের সাধারণ মানুষের আশা ছিল। তবে তা-নিয়ে আজ আলোচনা নয়। কথা হচ্ছে এই মুহূর্তে মুসলিমদের করণীয় কি।

তবে তার আগে একটি কথা, বর্তমান সময়ে আমরা জাতির ভেতরে তিনটি শ্রেণি দেখতে পাচ্ছি।

১) ভাঙার কাজে সরাসরি ও প্রখরভাবে নিয়োজিত একদল।

২)ভূখণ্ডের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা ভূ-রাজনীতি না বুঝে জোরপূর্বক ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করার দাবিদার।

৩)সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা,সুষ্ঠ-বিচার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি দূর করার মাধ্যমে একটি পাকাপোক্ত রাষ্ট্র গঠনে বদ্ধপরিকর এক শ্রেণির আলেম। যারা চায় ইসলাম এদেশে মজবুতভাবে তার গোড়া গেঁথে রাখবে যা ভয়ংকর ঝড় আসলেও যেন টিকে থাকতে পারে।

এই ‘বুলগাকপুরে’ আবহমান কাল ধরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র এবং এর সর্বশেষ স্তরে জীবন দিয়েছে অসংখ্য অগণিত মানুষ। তবে এই রক্ত যেন বৃথা হয়ে যায় কিছুকাল পরেই। এর স্থায়িত্ব কেন যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

ইতিহাসকে উদাহরণ হিসেবে রেখে আমরা চাই অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার এই শেষ লড়াইয়ে জিতে যেতে। সবাই বলে আমরা জীবন দিয়ে দেবো দেশের জন্য।তবে মন বলে গড়েপাতে জীবন দিয়ে দিলেই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে বিজয়ী হওয়া যায় না। সততা, সাহস ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে চিরস্থায়ীভাবে সার্বভৌমত্বক রক্ষা করা যায়। সিপাহী বিপ্লব এবং মিশরের মুরসীর সরকার আমাদের শিক্ষা নেয়ার একটি বড় উদাহরণ।

শহীদ ওসমান হাদী বলেছিলেন- যদি ইন্সাফ প্রতিষ্ঠা করা যায় তাহলে অর্ধেক ইসলাম তো এমনিতেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।মরে গিয়ে তিনি হয়তো বেঁচে গিয়েছেন। নয়তো তার সাংস্কৃতিক কার্যকলাপের জন্য কোনদিন ইসলামপন্থীরা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসতো।

যে দেশে শিক্ষিত সমাজের বেশিরভাগ সেকুলার। ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ যে দেশের মানুষকে কালচার হিসেবে শেখানো হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। সে জাতিকে কি করে একবারে শরীয়াহ আইনের আওতায় আনা যায়?কি করে তাদের বলা যায় যে- এখন দেশে মুসলিমদের পোশাক নির্ধারণ ছাড়া আর কোন পোশাক পড়া যাবে না। কি করে তাদের এসকল কিছুতে বাধ্য করা যায়!

আমরা কি আফগানিস্তানের মতো ৩০ বছর ধরে সরাসরি কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি? যে দেশে হঠাৎ করে ইসলাম কায়েম হবে?

এদেশের ভূ-রাজনীতি এটাই বলে, মনে-মগজে, আচার-আচরণে, রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থায় যখন আমরা ইসলামের সৌন্দর্য মানুষকে বুঝিয়ে উঠতে পারবো তখন মানুষ এদেশে শরিয়া আইন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করবে না। নয়তো আমাদের নিজেদের হাত আমাদের মুসলিম ভাইদের রক্তে রঞ্জিত হবে নিজেদের গোঁয়ার্তুমির জন্য। এদেশের মানুষ মুসলিম তবে প্রকৃত প্র্যাকটিসিং কম। পার্শ্ববর্তী দেশের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আমাদের ভয়ংকরভাবে গ্রাস করেছে। যার পরিবর্তন ব্যতীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পাকা-পোক্তভাবে ভিত্তি স্থাপন করতে পারবে না। আর সাংস্কৃতিক যুদ্ধ একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ।

সবশেষে বলতে চাই-দ্বীনকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বড় হতে সাহায্য করা বর্তমানে আমাদের মুসলিমদের প্রথম ও প্রধান করণীয়। জাতির এহেন সংকটাপন্ন সময়ে ঐক্য ও সঠিক পরামর্শ আমাদের ভবিষ্যতে উপহার দিতে পারে একটি চিরস্থায়ী ইসলামিক রাষ্ট্র।