দীর্ঘ ৫১ বছরের বন্ধুর পথ পেরিয়ে ৫২ বছরে পদার্পণ করেছে সত্য ও ন্যায়ের নির্ভীক কণ্ঠস্বর ‘দৈনিক সংগ্রাম’। এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় পত্রিকাটি যেমন চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে, তেমনি নতুন প্রজন্মের কাছে হয়ে উঠেছে সাহসিকতার প্রতীক। দৈনিক সংগ্রামের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নবনির্বাচিত ভিপি রিয়াজুল ইসলাম-এর মুখোমুখি হয়েছিল দৈনিক সংগ্রাম। সাক্ষাতকার নিয়েছেন দৈনিক সংগ্রামের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্টার মো: সামিউল ইসলাম।
দৈনিক সংগ্রাম: দৈনিক সংগ্রাম ৫১ বছর পূর্ণ করলো। একজন তরুণ ছাত্রনেতা হিসেবে আপনি এই পত্রিকার অবদান কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
রিয়াজুল ইসলাম: দৈনিক সংগ্রামের ৫১ বছরের পথচলা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে নানা বাধা, নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও পত্রিকাটি যে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে, তা নিঃসন্দেহে সাহসিকতার উদাহরণ। এই পত্রিকা চালু রাখতে যারা জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। একজন তরুণ হিসেবে আমি মনে করি, দৈনিক সংগ্রাম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তার অগ্রযাত্রা থামায়নি, যা আমাদের অনুপ্রাণিত করে।
দৈনিক সংগ্রাম: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করতে ভিপি হিসেবে আপনার অগ্রাধিকার কী হবে?
রিয়াজুল ইসলাম: আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হবে শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকারসমূহ যেমনÑনিরাপদ ক্যাম্পাস, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুন্দর একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। জকসুকে কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল করতে নিয়মিত আলোচনা, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করাই হবে আমাদের নীতি।
দৈনিক সংগ্রাম: বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে তরুণদের ভূমিকা আপনি কীভাবে দেখছেন? বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গনে তাদের দায়িত্ব কী?
রিয়াজুল ইসলাম: তরুণরাই যেকোনো পরিবর্তনের প্রধান শক্তি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সফল করতে তরুণদের ভূমিকা ছিল সর্বাগ্রে। শিক্ষাঙ্গনে বিভিন্ন মত ও দল থাকবে, তবে রাজনৈতিক সহাবস্থান যাতে নিশ্চিত থাকে সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। তরুণদের মধ্যে সহনশীলতা, যুক্তিবোধ ও গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখা জরুরি। ছাত্র রাজনীতিতে পেশিশক্তি বা সহিংসতার বদলে চিন্তা ও আদর্শের লড়াই গড়ে তুলতে হবে।
দৈনিক সংগ্রাম: শিক্ষা, বেকারত্ব ও নৈতিক অবক্ষয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে?
রিয়াজুল ইসলাম: এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি নৈতিক অবক্ষয় রোধে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।
দৈনিক সংগ্রাম: দৈনিক সংগ্রামের পাঠক ও তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?
রিয়াজুল ইসলাম: দৈনিক সংগ্রামের পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাই। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে আমার আহ্বানÑসত্যকে জানুন, প্রশ্ন করুন এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ান। দৈনিক সংগ্রাম যেমন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে টিকে আছে, তেমনি আমাদেরও আদর্শ ও সততার পথে অবিচল থাকতে হবে।