৫ই মার্চ ২০১৩, বিকাল ৪টা। স্কুল থেকে ফিরে ক্লান্ত শরীরটাকে একটু বিশ্রাম দিতে বিছানায় চোখ বন্ধ করতেই বালিসের পাশে রাখা মোবাইলটার চিৎকার একটু বিরক্তই লাগলো। আজ স্কুলে নিজের ৪টি ক্লাসসহ ছুটিতে থাকা জনৈক শিক্ষকের আরো ৩টি বদলী ক্লাস নিয়ে এসে চরম ক্লান্ত আমি। প্রথমবার মোবাইল রিসিভ করলাম না। দ্বিতীয় বার বাজতে ইয়েস করলাম। অপর প্রান্ত থেকে আমার সাংবাদিক বন্ধু হাসান আলী বললেন, শরীফ ভাই কিছু শুনেছেন? বললাম কোন বিষয়ে?

সে জানালো- গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায়ের দিন কুমারখালী শহরে জামায়াত-শিবিরের উদ্যোগে একটি মিছিল হয়েছিল, সেই মিছিল থেকে নাকি কথিত গণজাগরণ মঞ্চ ভাঙচুর ও গণমোড়ে জাতীয় পতাকায় আগুন দেয়া হয়।

আমি বললাম, তাই নাকি! বিক্ষোভ মিছিলের কথা শুনেছি, কিন্ত ভাঙচুর আর পতাকায় আগুন দেওয়ার মত কথাতো শুনিনি। বন্ধু হাসান আলী আবার বললেন- শুধু তাই নয়, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা হয়েছে। সেই মামলায় আপনি এবং আমীর এজাহারভুক্ত আসামী।

কথাগুলো শুনে আকাশ থেকে পড়লাম যেন। আমার নামে মামলা! আবার জাতীয় পতাকায় আগুন দেওয়ার অভিযোগে! বাহ চমৎকার বিষয়! যে পতাকার নিচে দাঁড়িয়ে স্কুলের ছাত্রীদের নিয়ে জাতীয় সংগীত গাই, সম্মান জানিয়ে সালাম জানাই, সেই পতাকায় আগুন দিয়ে পুড়িয়েছি আমি! মিথ্যা আর ষড়যন্ত্র কাকে বলে সেটা নতুন করে বুঝলাম। কেননা, ২৮ফেব্রুয়ারি সকাল পৌনে ১০টায় আমি স্কুলে হাজিরা করেছি। উল্লেখ্য, সকল শিক্ষকের আগে স্কুলে উপস্থিত হওয়ার রেকর্ড একমাত্র আমারই আছে, এটা আমি ধরে রাখতে চাই যতদিন এই মহান পেশায় আছি ততদিন। অথচ ২৮ফেব্রুয়ারি ‘১৩ সকাল সাড়ে ১০টায় আমি নাকি শহরে মিছিল করে ভাঙচুর আর পতাকা পুড়িয়েছি! হয়তো কুমারখালীতে মিছিলের সময় ঐ দিনও আমি আমার জোতমোড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে নিয়মিত সমাবেশে জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানাচ্ছিলাম।

২০০৫ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেওয়ার আগে ১৯৯৭ সাল থেকে সাংবাদিকতা করেছি। এখনও সাংবাদিকতায় আছি তবে পেশাটি একটু কলুষিত হওয়ায় আগের সেই তুলনায় কিছুটা নিজেই ঝিঁমিয়ে পড়েছি বলা যায়। সে সময় দলমত নির্বিশেষে সবার সংবাদ পরিবেশন করাই ছিল আমার একমাত্র ব্রত। কুমারখালীর বিভিন্ন সমস্যা সম্ভাবনা উন্নয়ন ইতিহাস সংস্কৃতি শিক্ষা রাজনীতি ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভৃতি বিষয় পত্রিকায় তুলে ধরার কারণে তখন কুমারখালীর সংবাদ কর্মীদের মধ্যে সত্য আর বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে আমার থেকে বেশি গ্রহণযোগ্যতা আর কেউ অর্জন করতে সক্ষম ছিল না। বিএনপি তথা চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আ’লীগের যখন চরম দুরবস্থা, অধিকাংশ স্থানীয় সাংবাদিকরা আ’লীগের নেতাকর্মীর নিউজ কভারেজ করা থেকে যখন দূরে দূরে। তখন তাদের নিউজ কভারেজ করার ক্ষেত্রে আমি নিরপেক্ষতা বজায়ে রেখেছিলাম। যদিও দৈনিক সংগ্রাম আর দৈনিক বজ্রপাত পত্রিকা বিএনপি-জামায়াত জোটের কাগজ তথাপিও কুমারখালীর আ’লীগের নেতাদের নিউজ এই দুই পত্রিকায় পরিবেশন করে আমি তাদের ভালবাসা-সম্মান আর স্নেহের একজন সাংবাদিক হতে সক্ষম হই। তারা তখন আমাকে বিশেষ ভাবে মূল্যায়নও করত।

যেহেতু আমি কোন প্রকারের সুবিধা না নিয়েই আ’লীগের নেতাদের নিউজ সুস্থ সাংবাদিকতা বা একজন দায়িত্ববান সংবাদকর্মী হিসেবে পরিবেশন করেছি, সেহেতু তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করবে এবং সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা-ষড়যন্ত্রমূলক মামলা হবে এটা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিলো। শেষ পর্যন্ত উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আর সেক্রেটারিকে ফোন দিতে সিদ্ধান্ত নিলাম। বর্তমান সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান কুমারখালীর ত্যাগী নেতা আব্দুল মান্নান খান ও সেক্রেটারি মেয়র শামসুজ্জামান অরুনকে ফোন দিলাম। খান সাহেব কুশল বিনিময় করলেন পূর্বের মতই। আমি মামলার বিষয়ে জানতে চাইলাম। তিনি বললেন- আমি ভারতে গিয়েছিলাম, এরই মাঝে মামলাটি হয়েছে, কোন চিন্তার কারণ নেই চার্জসিটের সময় নাম বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।

মেয়র মহোদয় জানালেন- আমি কয়েকদিন ঢাকায় ছিলাম, মামলার কথা শুনেছি। এই মামলায় আমাদের দলের কিছু ব্যক্তির পূর্ব শত্রুতা যাদের সাথে আছে, এই সুযোগে তাদেরকে আসামী করা হয়েছে। হয়তো আমাদের মতালম্বী কোন সাংবাদিকের সাথে হিচিং থাকার জন্য আপনাকে মামলায় আসামী করা হতে পারে! মেয়র সাহেবও অভয় দিলেন খান সাহেবের মতই। মেয়রের কথা ‘আমাদের মতালম্বী কোন সাংবাদিকের সাথে হিচিং থাকার জন্য মামলায় আসামী করা হতে পারে‘! কথাটি শুনে আমার স্মরণ হলো- হাঁ তোমাদের মতালম্বী এক সাংবাদিকের সাথে তো আমার বিরোধ আছেই। যে নাস্তিক জোয়ার্দার আজও কুমারখালীর ইতিহাসে প্রেসক্লাব এর একমাত্র ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত আমার সভাপতির পদ জোর করে দখলে নিয়েছ। জোর কেন বলছি? তার প্রমাণ আর উত্তর কুমারখালীর বিদগ্ধ সাংবাদিকদের কাছেই জানা যাবে বৈকি! আমাকে আসামী করার ক্ষেত্রে প্রেসক্লাবের পদ দখলকারি চাচারুপি ঐ সাংবাদিকের হাত ছিল কি-না সেটা না জানতে পারলেও ১৪ দলের আরো যাদের হাত ছিল, তাদের অনেকের নিউজই লিখেছি যার প্রমাণ পত্রিকার পাতা।

মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলার ২৬নং আসামী হয়ে ঘুরছিলাম। পালানোর ইচ্ছা বা প্রয়োজন বোধ তেমন একটা করলাম না। কারণ, আমার নতুন স্থাপিত বাড়িটি একটু ফাঁকা জায়গায়। স্ত্রী হাসিনা খাতুন, দুই ছেলে হাসান আল মাহমুদ (৮) ও হোসাইন আল মাহমুদ (৫) ছাড়া বাড়িতে আর কোন মানুষ নেই। সাংবাদিকতার সুবাদে পুলিশের সাথে সখ্যতা থাকায় তারাও আমাকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে না দেখা, না পাওয়ার ভান করলো। কেটে গেল ৪ মাস।

এরই মাঝে মামলার তদন্তকারী অফিসার বদলী হলো। দায়িত্ব পেল এক নতুন অফিসার। মানুষ নয়, পুলিশ সে! তাকে দিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালের ১০জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করালো আওয়ামী কুচক্রীরা। আমার বাড়িটি থাকলো অরক্ষিত। অবোধ-অবুঝ শিশু দুই সন্তান ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকলো শুধু। তাদের শিশু মনে রেখাপাত করলো পুলিশ খুবই খারাপ! কিন্ত আমার মনে হলো- না, সব পুলিশ নয়! শুধু আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী। কোন ভদ্রলোক আওয়ামী লীগ করে না। করলে নিশ্চয় অকৃতজ্ঞ হয়ে আমার নামে মিথ্যা মামলা দিতোনা, পুলিশ পাঠাতো না।

কারণ, আমি তাদের কোন ক্ষতি করিনি, বরং সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে শুধু উপকারই করেছি ভেতর থেকে দায়িত্বশীল প্রকৃত জবাবদিহিধর্মী একজন সাংবাদিক হিসেবে। গ্রামের লোকেরা বলে- ‘কারোর উপকার করলে সে ক্ষতি করবেই-এই কথাটি কি তাহলে সত্যি হলো? বাঁকি রাতটুকু কাটলো কুমারখালী থানা হাজতে। শুরু হলো নতুন অভিজ্ঞতার। সকালে ওসি সাহেব এসে বললেন- শরীফ ভাই, স্যরি! আসলে আমার কিছুই করার ছিল না। উপরের চাপে আপনার বাড়িতে অফিসার পাঠাতে বাধ্য হয়েছি....

এরই মাঝে কয়েকটি টিভি চ্যানেল তাদের স্ক্রল নিউজে আমাকে গ্রেফতারের বিষয় খবর দিচ্ছে বলে পাহারারত পুলিশরা জানালো। শুনে ভালোই বোধ হলো- যাক আমার মত ক্ষুদ্র একজন সাংবাদিক- যে আজ মহান পেশা শিক্ষকতা করছি, আজ আমি নিজেই সংবাদ হলাম। অবশ্য এনটিভিতে আমাকে সাংবাদিকের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় রুকন বলেও নাকি প্রচার করা হয়েছিল। আসলে রুকন হওয়ার মত কোন যোগ্যতা যদিও আমার নেই। শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলামীর মালিকানাধীন পত্রিকা দৈনিক সংগ্রামের একজন কুমারখালী উপজেলা প্রতিনিধি হওয়া এটাই আমার ওদের কাছে অপরাধ।

বেলা ১১টার দিকে আমাকে থানা থেকে কোর্টে নিয়ে যাওয়া হলো। সন্ধায় নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রবেশ করলাম জেলখানায়। এক্কেবারে নতুন অনুভূতি, উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ, শংকা আমার মাঝে বিরাজ করছিল। জেলকোড অনুযায়ী স্থান হলো সম্ভবত ৭নং ব্যারাক আমদানিতে। বন্ধু আরিফ খান সেখানে ৩মাস আগের থেকেই বসত গেড়েছে। কিভাবে যেন আমার কথা জানতে পেরে সে রাতের খাবার মাছ ভাত রেখে দিয়েছিল। খেলাম। আমার সাথে আসা নতুনদের দেখলাম জেলখানার লাল পায়েশ খেতে। এই খাবারটার মান নাকি খুবই খারাপ। মনে মনে ধন্যবাদ জানালাম আরিফকে।

রাতে ঘুম তেমনটি হলো না। পরদিন ফজরের নামাযের পর থেকেই বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে বেলা ১২টা বেজে গেল। এরই মাঝে অনেকের সাথেই দেখা-সাক্ষাৎ হয়ে গেছে। যারা আমার মামলা ছাড়াও বিভিন্ন মামলার আসামী হয়ে বন্দী জীবন কাটাচ্ছে। ওরা বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা আর অভয় দিলো। সন্ধায় আমাকে স্থানান্তর করা হলো ১২নং দোতলা ব্যারাকে। ইতিমধ্যে জেলখানার সম্বল থালা বাটি আর তিনটি কম্বল পেয়েছি। বাড়ি থেকে দেওয়া চাদর বিছিয়ে বিছানা পাততে সাহায্য করলো একই মামলায় আটক হওয়া থানা আমীরের ছেলে তুহিন। ভালো জায়গায় বিছানার ব্যবস্থা, নিজস্ব নাস্তা-খাবার-সরবরাহ করা, জেলের বিভিন্ন নিয়মকানুন সম্পর্কে জানানোর জন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ।

সংসারের আয় রোজগার করার একমাত্র ব্যক্তি আমি। ফসল ফলানোর মত শূন্য শতাংশ জমিও নেই আমার বা আমার পিতার। অন্যের জমি চাষ করে পিতা আব্দুল বারী সংসার কষ্টে চালায়। আমি নতুন প্রতিষ্ঠিত স্কুলে ৭বছর ফ্রি শিক্ষকতার পর অবশেষে ২০১২ সালে এমপিওভুক্ত হয়েছি। চাকরিতে নিয়োগ, বেতন বের করা, নতুন বাড়ি তৈরি, সংসার চালানো প্রভৃতি কাজ করতে যেয়ে আড়াই লক্ষাধিক টাকা দেনা হয়েছি, যা এখনো পরিশোধ করতে সব পারিনি। পাঠক বুঝতেই পারছেন এমন পরিস্থিতিতে আমার সংসারের কি অবস্থা হতে পারে ! হাঁড়িতে চাল তুলে দেবে কে? দুই শিশু সন্তানের অসুখের চিকিৎসা হবে কিভাবে? কেশবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনির ফাস্ট ছাত্র বড় ছেলে আর একই শ্রেনিতে পড়ুয়া ছোট ছেলের লেখা পড়ার কী হবে? স্ত্রী কার কাছে কোথায় দাঁড়াবে?

অপরদিকে আমার জামিনের জন্য উকিল-আদালতে কে আছে ছুটবে? কে এই অসহায় মুহূর্তে সাহায্যের হাত বাড়াবে? কে আছে শান্ত্বনা জানাবার? আবার আমার স্কুলের প্রিয় ছাত্রীদের ৭টি বইয়ের ক্লাস কে নেবে? শুধু ৪০ দিনের এই বিষয়গুলোর প্রশ্নের উচিত ও গ্রহণীয় জবাব কী কুমারখালীর আ’লীগের নেতৃবৃন্দ দিবেন? বন্দিদশার দিনগুলোতে পরিবারের বিভিন্ন বিষয়ে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কামরুজ্জামান ভাই, সাদ ভাই, মালেক ভাই, কুষ্টিয়া পৌর আমীর হাফেজ রফিক উদ্দিন আহমাদ, সাংবাদিক বন্ধু খালিদ হাসান সিপাই, আমার স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ বিশেষ ভাবে রেজাউল হক ও আঃ রহমানকে ধন্যবাদ। আরো ধন্যবাদ জানাই আমার আত্মীয়-স্বজন কে বিপদে পাশে এসে দাঁড়াবার জন্য।

অন্যদিকে জেলখানার ভেতরে ১০জুন থেকে ১১জুলাই ২০১৩ যারা বিভিন্ন ভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, যাদের কথা আজও ভুলিনি, ভুলবোনা কখনো। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান আঃ গফুরের সাথে মিথ্যা মামলায় আটক মিরপুরের নিমতলা বাজারের ব্যবসায়ী একজন ভালো মনের মানুষ- পিতার একমাত্র ছেলে জাহাঙ্গির হোসেন, কুমারখালীর বন্ধু শাহীন, কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সাজ্জাদ রানা প্রমুখের কাছে চিরদিন কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ থাকবো।

এদিকে মামলার ফাইনাল সার্জসীট দেওয়া হয়ে গেছে। মাসে ২/৩ বার কোর্টে হাজিরা দিচ্ছি। মান্নান খান ও অরুন সার্জসীট থেকে আমার নাম বাদ দিতে চেষ্টা করেনি, তারা আমাকে দেওয়া কথা রাখেনি কারণ- আওয়ামী লীগের নেতা যে!

জেলখানায় ৪০ দিনের হাজত বাসের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা লিখতে গেলে নিবন্ধর কলেবর অনেক বড় হয়ে যাবে, পাঠকদের ধৈর্যচ্যুতিও হতে পারে। তাই যেটুকু বা যাদের কথা না বললেই নয় সেটুকু লিখেই ইতি করছি।

লেখাটি শেষ করার আগে বলতে চাই, ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা আর জেলখানায় ঢুকিয়ে আওয়ামী জুলুমবাজরা আমার অনেক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। অপরদিকে মামলায় আমাকে হয়রানির এই অন্যায় কাজের জন্য আমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে যারা আজীবন আওয়ামী লীগ করতো তারা এখন জামায়াত-বিএনপির সমর্থক হয়ে গেছে। তাই জোর গলায় বলতে ইচ্ছে করছে- জেল যুলুম মামলা নির্যাতন যত বাড়বে, আওয়ামী লীগের আয়ুস্কাল (ক্ষমতা) ততই কমবে। গণ গ্রেফতার, জঘন্য সব হত্যাকাণ্ড, গুম, গ্রেফতারের পর রিমান্ডের নামে নিষ্ঠুর বর্বর অমানবিক নিষ্পেষণ এবং নির্যাতন চালিয়ে পঙ্গু করে দিয়েও ক্ষমতার মসনদে বেশিদিন বসে থাকা যাবে না, ইতিহাসে প্রমাণ- অতীতেও টিকে থাকা যায়নি কোনদিন-কোনকালে।

বিরোধী মতাবলম্বী নেতাকর্মীদের আইনশৃংখলা বাহিনীর দ্বারা বিভিন্ন ভাবে দমন নিপীড়ন করার পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাঙচুর লুটপাট চালিয়ে বাস্তহারা করা, আবার চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দিয়ে বেকার বানানো কোন কিছুই ক্ষমতার শক্তিকে দীর্ঘায়িত করতে পারেনি। কারণ মারমুখী ফ্যাসিস্ট এই সরকারের অন্যায় যুলুম অত্যাচার দুঃশাসন আর অত্যন্ত ন্যক্কারজনক দাপট-অহমিকা বন্ধ হয়েছে। শহীদদের রক্ত আর মজলুমের ফরিয়াদ বৃথা যাবে না মহান আল্লাাহ অবশ্যই সেই ফরিয়াদ শুনেছেন, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। অন্যায় অবিচার এবং পৈচাষিক নৃশংসতা আর ক্ষমতার মিথ্যা অহংকার তাদের ধবংস ডেকে আনবেই। অতএব আল কুরআনের বাণীÑ “ইন্নাল্লাহা মা’য়াছ ছাবেরীন। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন“। জ্ঞানীরা বলেন, ধৈর্যে মেওয়া ফলে!