জাহেলী বর্বর রীতিনীতি নিষিদ্ধ করে ইসলাম নারীকে দিয়েছে অসীম সন্মান ও অধিকার। নারী জাতির প্রতি সকল অবমাননা, অবহেলা ও নিপীড়নের পথ রুদ্ধ করে ইসলাম নারীকে মর্যাদার সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

🔲 ইসলামে নারীর মর্যাদাঃ

সকল মত-পথ, রীতিনীতি এড়িয়ে একমাত্র ইসলামী বিধান ই নারীর যথাযথ মর্যাদা ও অধিকার সুনিশ্চিত করেছে। ইসলামী বিধানে নারী জীবনের প্রতিটি ধাপেই নারী বিশেষভাবে সম্মানিত। যেমনঃ

➡কন্যা হিসেবে নারীর সম্মানিতঃ

ইসলামী আবির্ভাবের আগে জাহেলি সমাজে নারীদের প্রতি অমানবিক আচরণ করা হতো। কন্যা শিশুর জন্ম হলে, পিতা-মাতা বিষণ্ন হতো। রাসুল সা. ঘোষণা দিয়েছেন, “কন্যা সন্তানের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করে তাদের প্রতি সদাচরণ করলে তা তার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হবে”। ( বুখারী)

মানবতার মুক্তিদূত প্রিয় নবী রাসূল সা.আরো বলেছেনঃ” যে ব্যক্তি দুটি কন্যা বা বোন প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত লালন পালন করবে এবং পুত্রদেরকে তাদের উপর প্রাধান্য দিবে না সেই ব্যক্তি এবং আমি কিয়ামতের দিন এমন ভাবে থাকবো যেমন আমার দু আংগুল পাশাপাশি রয়েছে”। (মুসলিম)

➡স্ত্রী হিসেবে নারী সম্মানিতঃ

আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, “আর তার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য হতে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সংগীনিদিগকে যেনো তোমরা উহাদের নিকট শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক দয়া ও ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন “।

(সূরা রুম:২১)

আল্লাহ তা’আলা নির্দেশ দিয়েছেন,” তাদের (স্ত্রী) সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন করবে”।( সূরা নিসা: ১৯)

রাসূল সা. বলেছেন,” তোমাদের অসীয়ত করা হলো স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার।( বুখারী:৪৮০৭)। রাসূল সা.আরো বলেছেনঃ “ তোমাদের মধ্যে উত্তম হলো তারা, যারা তাদের স্ত্রীদের কাছে উত্তম”। ( ইবনে মাজাহঃ১৯৭৮,তিরমিজিঃ ১১৬০)

➡মা হিসেবে নারীর সম্মানিতঃ

‘পুরুষ’পরিবারের কর্তা হওয়ায় সমস্ত সন্মান, অধিকার কেবল পুরুষের ই বা পিতার ই নয় বরং ইসলাম মা কে অনেক গুরুত্ব দিয়েছে। মায়ের সন্মান অধিকার বাবার চেয়ে তিনগুণ বেশি। আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন, “আমিতো মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি।”

(সূরা লুকমানঃ২৪)

🔲 ইসলামে নারীর অধিকারঃ

নারীর যথাযথ মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম অতুলনীয়, অবিস্মরণীয় যুগান্তকারী বিধান প্রণয়ন করেছে।

➡️সামাজিক অধিকারঃ

ইসলাম নারীকেও জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করেছে।তাই জ্ঞান অর্জন ও ইসলামী বিধান পালনের সুযোগ সুবিধা পাওয়া নারীর অধিকার।পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রে পর্দা মেনে চলার স্বাধীনতা ও পূর্ণ নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে নারীর।

➡অর্থনৈতিক অধিকারঃ ইসলাম নারীকে পারিবারিক অর্থনৈতিক প্রয়োজন পূরণে বাধ্য করেনি, কারণ এটা পুরুষের দায়িত্ব। মহান আল্লাহ বলেছেন,

“এবং পুরুষের কর্তব্য যথারীতি তাদের (স্ত্রী-সন্তান) ভরণ পোষণ করা”। (সূরা বাকারাঃ২৩৩)তবে নারী সম্পদশালী হলে নিজ ইচ্ছায় পরিবার পরিজনদের জন্য কিছু খরচ করতে পারে। এমন কি পারিবারিক বা সামাজিক প্রয়োজনে মহিলা ডাক্তার/ মহিলা শিক্ষিকা হয়ে নারী স্বতন্ত্র কর্ম ক্ষেত্রে কাজ করতে পারবে।

➡ মোহরানাঃ যৌতুক প্রথা নিষিদ্ধ মোহরানার বিধান ফরজ করে ইসলাম নারীর মর্যাদাকে উন্নীত করেছে। আল্লাহ তা’য়ালা স্বামীদের নির্দেশ দিয়েছেন,” তোমরা স্ত্রীদের মোহর আনন্দ চিত্তে দিয়ে দাও”।

( সূরা নিসাঃ ১৪)

➡ উত্তরাধিকার প্রাপ্তির অধিকারঃ

আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে “বাবা-মা আত্মীয়-স্বজনের রেখে যাওয়া অর্থ-সম্পদে পুরুষ ( ওয়ারিশদের) অংশ রয়েছে আর বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের রেখে যাওয়া অর্থসম্পদে নারী (ওয়ারিশদের) ও অংশ রয়েছে।তা কম ই হোক কিংবা বেশি (উভয়ের) প্রাপ্য নির্ধারিত ও বিধিবদ্ধ”। (সূরা নিসা:৭)

আল-কুরআনে আরো বলা হয়েছে,” তোমাদের সন্তান না থাকলে তাদের (স্ত্রী) জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের (স্ত্রী) জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক অষ্টমাংশ”।( সুরা নিসা : ১২)এ

অতএব, বাবা-মা ও স্বামীর সম্পদে নারী ওয়ারিশ হিসেবে অধিকার পাচ্ছে।

নারীর কর্তব্য

ইসলাম নারীদেরকে অপরিসীম মর্যাদা ও অধিকার দিয়েছে। তাই ইসলাম প্রচার প্রসারেও নারীদের কিছু কর্তব্য রয়েছে। আমরা আল্লাহর প্রতিনিধি। আল্লাহ প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ জীবন ব্যবস্থা ইসলাম কে প্রতিষ্ঠা করা আমাদের মূল দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পুরুষদের উপর যেমন ফরজ তেমনি নারীদের উপর ও ফরজ। তবে কর্মক্ষেত্র, কর্মপন্থা এবং কাজের গতিতে কিছু পার্থক্য রয়েছে। সন্তান প্রতিপালন, সাংসারিক কাজ কর্ম, পরিবার, আত্মীয়, ও প্রতিবেশীদের প্রতি নারীগণ যথেষ্ট দায়িত্বশীল। তাই মজবুত ঈমান এবং যথার্থ দীনি চেতনা থেকে ইসলামী বিপ্লবের চেষ্টা করতে হবে।এজন্য নারীগণ কে সর্বপ্রথম নিজ জীবনে ই ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে নিজ বাসার পরিবেশ ইসলামী আদর্শে গড়ে তোলার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে ইসলামের প্রচার-প্রসারে চেষ্টা করতে হবে। দৃঢ়তার সাথে ইসলামের সকল বিধান মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে এবং কোন ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন করা যাবে না এমনকি কোনো অজুহাতে অনৈসলামিক কাজ যেমন বিদআত, অপচয়, অবৈধ আয়,অশ্লীলতা ও অপসংস্কৃতির চর্চা প্রভৃতি কে সমর্থন করা যাবে না।

পরিশেষে বলব ইসলামই একমাত্র ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা যেখানে নারীদের পূর্ণ মর্যাদা ও অধিকার সুনিশ্চিত হয়েছে। এখন প্রয়োজন ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ। তাই সকল উদ্বিগ্নতা ও বাড়াবাড়ি পরিহার করে ইসলামী বিধান সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক। কারণ ইসলামের আদেশ নিষেধ মেনে চলার মাধ্যমেই সুখী-সমৃদ্ধ শান্তিপূর্ণ জীবন গঠন সম্ভব।