ক্ষমতা রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার জন্য অপরিহার্য। তবে এই ক্ষমতা যখন নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ববোধের বাইরে চলে যায়, তখন তা জনকল্যাণের পরিবর্তে জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষমতার অপব্যবহার হলো কর্তৃত্বের পদে থেকে ব্যক্তিগত বা অনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য ক্ষমতার অপপ্রয়োগ যার পরিণতি তে সমাজে দুর্নীতি, শোষণ, হয়রানি বাড়ে এবং ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অবিশ্বাস ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। যা শেষ পর্যন্ত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ভয়াবহ শাস্তির কারণ হয়। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মানসিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা বাড়ে এবং সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়। যেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে সাধারণ অফিস সর্বত্র এর প্রভাব পড়ে।
রাজনীতি ও জনপ্রশাসন এই সমস্যার সবচেয়ে স্পর্শকাতর ক্ষেত্র। সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার ঘাটতি, নিয়োগ ও বদলিতে পক্ষপাত, উন্নয়ন কার্যক্রমে অনিয়ম এইসবই ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র। আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থায় যখন ক্ষমতার প্রভাব পড়ে তখন ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হয়। শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে প্রভাব ও সুপারিশের সংস্কৃতি মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে বড় বাধা সৃষ্টি করে। ক্ষমতার অপব্যবহার এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে জবাবদিহিতার অভাব, দুর্বল প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ। পাশাপাশি স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ এই প্রবণতা আরও শক্তিশালী করে তোলে। অনেক ক্ষেত্রে ভয়, অনিশ্চয়তার কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না ফলে অন্যায় অব্যাহত থাকে।
ক্ষমতার অপব্যবহারের পরিণতি দীর্ঘস্থায়ী ও বহুমাত্রিক। ন্যায় বিচারের ওপর মানুষের আস্থা কমে যায়, দুর্নীতি বিস্তার লাভ করে এবং সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি পায়। গণতান্ত্রিক পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়ে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকোচিত হয়, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা দেয়। সাধারণ মানুষের জীবনে এই অপব্যবহারের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। ন্যায্য অধিকার আদায়ে বাধা, প্রশাসনিক হয়রানি এবং দীর্ঘসূত্রতা মানুষকে হতাশ করে তোলে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন কার্যকর ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ। আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সচ্ছতা বাড়ানো, স্বাধীন গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষমতা কে জনসেবার দায়িত্ব হিসাবে দেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজের সুষ্ঠু বিকাশ নিশ্চিত করতে ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার ও জবাবদিহিতার বিকল্প নেই।