আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে। রেকর্ড ৪৮টি দল এবং লক্ষ লক্ষ সমর্থক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। তিনটি দেশের যৌথ আয়োজনে এটিই প্রথম বিশ্বকাপ। আকার ও আয়োজনের দিক থেকে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বৃহৎ বিশ্বকাপ।

বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হবে। সহ-আয়োজক মেক্সিকো স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ও বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে। প্রায় ছয় সপ্তাহব্যাপী এই বিশাল আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘটবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ৮২,৫০০ আসনবিশিষ্ট মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মাধ্যমে।

এবারের আসরে দলসংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করায় গ্রুপ পর্বের প্রতিযোগিতামূলক উত্তেজনা কিছুটা কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রথম রাউন্ডে মোট ৭২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, অথচ বাদ পড়বে মাত্র ১২টি দল। নকআউট পর্বে উঠবে ৩২টি দল- প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল।

এই বিশ্বকাপে আরও বেশ কিছু নতুনত্ব দেখা যাবে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতিটি ম্যাচে দুই অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে কুলিং ব্রেক থাকবে, যাতে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার প্রভাব কমানো যায়।

খেলোয়াড় ও রেফারিদের বেশ কিছু নতুন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। এর মধ্যে একটি হলো- সময় নষ্ট ঠেকাতে দলগুলোকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে বদলি সম্পন্ন করতে হবে।

বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় কোনো খেলোয়াড় যদি হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন, তাহলে তিনি লাল কার্ড দেখার ঝুঁকিতে থাকবেন।

আগামী মাসের ফাইনাল ম্যাচটি ইতিহাসের দীর্ঘতম ফাইনালগুলোর একটি হতে পারে। কারণ এতে সুপার বোল-ধাঁচের হাফটাইম শো আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে ম্যাডোনা, শাকিরা ও বিটিএস প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন। এর ফলে প্রচলিত ১৫ মিনিটের বিরতির পরিবর্তে হাফটাইম বিরতি প্রায় ২৫ মিনিট দীর্ঘ হবে।