প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে দেওয়া ২০ কোটি টাকার অনুদান বাতিল করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সংস্থার বর্তমান সভানেত্রী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। কোনো নোটিশ ছাড়াই এবং সংস্থাকে কিছু না জানিয়ে নারীদের ক্রীড়া উন্নয়নের এই অর্থ ফেরত নেওয়ায় দেশের গোটা নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।গতকাল শনিবার ধানমন্ডির রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার সভানেত্রী এই তীব্র ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার সাধারণ সম্পাদিকা ফিরোজা করিম নেলী ও কোষাধ্যক্ষ রওশন আখতার ছবিসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর এই জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহবান করেছিল বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২২ সালের এপ্রিলে এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দফায় ১০ কোটি করে মোট ২০ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছিল তারা।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে পাওয়া এই অর্থটি সোনালী ব্যাংকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় করপোরেট শাখায় এফডিআর (স্থায়ী আমানত) হিসেবে জমা রাখা হয়েছিল।সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের পর থেকে তারা আর ওই এফডিআরের কোনো লভ্যাংশ পাচ্ছিল না। লভ্যাংশ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে, গত ডিসেম্বরে সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট করপোরেট শাখায় লিখিত চিঠি পাঠান মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কোষাধ্যক্ষ। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো লিখিত জবাব কিংবা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ নীরবতার পর, অবশেষে গত ৬ মে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সংস্থাকে মৌখিকভাবে অবহিত করে যে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার এই ২০ কোটি টাকার অনুদানটি বাতিল করেছে এবং পুরো অর্থটি প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ফেরত নেওয়া হয়েছে।

অনুদান বাতিলের এই ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেন মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রফেসর ইউনূস নিজে দুই কন্যার পিতা। নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও ক্ষমতায়নের জন্য সারা জীবন কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। তার নোবেল পুরস্কারের অংশীদারও একজন নারী। অথচ তার শাসনামলে বাংলাদেশের মহিলাদের খেলাধুলার জন্য দেওয়া অনুদান কেড়ে নেওয়া হলো। এই ঘটনা আমাদের বিস্মিত, ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে।’ ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা আরও স্পষ্ট করেন, অনুদানের শর্তে এমন কোনো ধারা বা নিয়ম ছিল না, যার মাধ্যমে এই অর্থ এভাবে ফেরত নেওয়া যায়। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দেশের সামগ্রিক নারী সমাজের অগ্রযাত্রার ওপর একটি কঠিন আঘাত হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।