বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অস্থির সময় পার করছেন নারী শুটাররা। একদিকে মাঠের পারফরম্যান্সে সাফল্য, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও শোষণের অভিযোগ-এই দ্বৈত বাস্তবতায় লড়াই করতে হচ্ছে তাদের। সম্প্রতি শুটিং ফেডারেশনের সিদ্ধান্তে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হওয়া দেশসেরা নারী শুটার কামরুন্নাহার কলির একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে। নিজের স্ট্যাটাসে কলি ক্রিকেটার জাহানারা আলমের ঘটনার সঙ্গে নিজের পরিস্থিতির তুলনা টেনে ক্রীড়া প্রশাসনের দ্বিমুখী অবস্থানের প্রশ্ন তুলেছেন। ২০১৯ সালে জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কলি প্রশ্ন তুলেছেন, একজন জাহানারার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, কিন্তু শুটিংয়ে ৫-৬ জন নারী শুটারের অভিযোগের পরও কেন অভিযুক্ত ব্যক্তি শাস্তির মুখে পড়ছেন না? নাকি অভিযোগকারীরাই বহিষ্কৃত থেকে যাবেন?
কলির অভিযোগ, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) দেড় মাস তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা স্থগিত করা হয়েছে। এরপর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার শঙ্কা, এই সময়ক্ষেপণ মূল অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা কিনা। তিনি লিখেছেন, একটি সুস্থ তদন্ত প্রতিবেদন কেন স্থগিত করা হলো, আর নতুন প্রতিবেদনে কী অপেক্ষা করছেÑতা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।সম্প্রতি শুটিং ফেডারেশন ‘শৃঙ্খলাভঙ্গ’-এর অভিযোগে কলিকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। অথচ কলি ও তার কয়েকজন সতীর্থ ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক জি এম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার ঘটনাকে অনেক ক্রীড়া বিশ্লেষক প্রতিহিংসামূলক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অভিযোগ তদন্তের বদলে অভিযোগকারীকে নিষিদ্ধ করা হলে তা ভবিষ্যতে অন্যদেরও নিরুৎসাহিত করবে। কলির স্ট্যাটাস প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একাধিক নারী অ্যাথলেট যখন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন, তখন কেন বিষয়টি দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এখন নজর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও নতুন প্রতিমন্ত্রীর দিকে। কলির অভিযোগের পর কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।