মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ক্রীড়াঙ্গনেও। ক্রিকেট দিয়ে শুরু হলেও সেই বৈরিতার ছায়া এখন ছড়িয়ে পড়ছে অন্যান্য খেলায়। দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ফেডারেশন ও খেলোয়াড় দুই পক্ষেই। এই পরিস্থিতিতে ভারতে নিয়মিত পেশাদার টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন গলফার আপাতত সে দেশে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শীর্ষ গলফার দুলাল হোসেন এ মৌসুমের বাছাই টুর্নামেন্ট খেলতে আহমেদাবাদে না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুলাল বলেন, আমি পিজিটিআই (প্রফেশনাল গলফ ট্যুর অব ইন্ডিয়া) থেকে আমন্ত্রণপত্র পেয়েছি, এমনকি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের চিঠিও আছে। কিন্তু এই মুহূর্তে আহমেদাবাদে গিয়ে খেলাটা নিরাপদ মনে হচ্ছে না। শুধু আমি নই সোহেল, সাইয়ুমসহ যাদের বাছাই টুর্নামেন্টে খেলার কথা ছিল, তাদের বেশির ভাগই নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। আমরা আপাতত ভিসার আবেদনই করছি না। তবে ভারতীয় ট্যুরে নিয়মিত অংশ নেয়া জামাল হোসেন এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। র‌্যাংকিংয়ের কারণে নতুন মৌসুমে সরাসরি খেলতে পারবেন তিনি।

জামালের ভাষ্য, এই মুহূর্তে আমার কোনো খেলা নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে এখনই ভাবছি না। সামনে কী হয়, সেটি দেখার বিষয়। মুস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতের অসহিষ্ণু আচরণের নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। যদিও আপাতত ফুটবলে ভারতগামী বা ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার কোনো সূচি না থাকায় সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে না বাফুফেকে। বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, আমাদের বয়সভিত্তিক দলগুলোর নিয়মিত খেলা থাকে। তবে সামনে যে অনূর্ধ্ব-১৭ সাফ মেয়েদের টুর্নামেন্টটি আছে, সেটি নেপালে হবে। এরপর ছেলেদের অনূর্ধ্ব-২০ দলের খেলা মালদ্বীপে, আরেকটি সাফ ভতানে। এই মুহূর্তে ভারতে কোনো খেলা নেই। সেপ্টেম্বরে সিনিয়র সাফ হওয়ার কথা, তবে কোথায় হবে তা এখনো চূড়ান্ত নয়। তত দিনে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সেটিই দেখার বিষয়। আর্চারিতেও এ বছর ভারতে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নেই।

এশিয়ান আর্চারির নতুন সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ভারতে আমাদের কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নেই। থাকলে হয়তো সেটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতো। ব্যাডমিন্টনেও আপাতত ভারতে কোনো উল্লেখযোগ্য সফর নেই। সাধারণ সম্পাদক রাসেল কবির সুমন জানান, এমন কোনো সফর থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দল পাঠানো হতো না। দাবার ক্ষেত্রেও একই চিত্র ভারতে নিয়মিত খেলা হলেও এই মুহূর্তে কোনো বাংলাদেশি দাবাড়– সেখানে যাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে, মুস্তাফিজুর রহমান ইস্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার প্রভাব ধীরে ধীরে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেক খেলাতেই সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন ও খেলোয়াড়রা।