টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগামীকাল শনিবার নিজেদের অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে পাকিস্তান। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে তারা। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই দলটির গ্রুপ পর্বের পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে ভারতের বিপক্ষে সম্ভাব্য ম্যাচ নিয়ে জটিলতা। তার ওপর টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগার হতাশা আরও বাড়িয়েছে। বিশ্বকাপ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পাকিস্তান অধিনায়ক স্পষ্ট আবেগে বলেন, ‘বাংলাদেশিরা আমাদের ভাই। পাকিস্তানের প্রতি তারা যে সমর্থন দেখিয়েছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা এবার এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছে না।’ ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলংকায় নির্ধারিত ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রসঙ্গে সালমান আলি আগা জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতেই রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত সরকার নেবে। বিষয়টি নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা আছে। তবে সরকার যে নির্দেশনা দেবে, আমরা সেটিই অনুসরণ করব।’ দলের অবস্থান পরিষ্কার করে পাকিস্তান অধিনায়ক আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যে সিদ্ধান্তই আসুক না কেন, খেলোয়াড়রা সেটিকে সম্মান জানাবে। মাঠের বাইরের বিষয় নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে ক্রিকেটেই মনোযোগ দিতে চান তারা। তবে এসব অনিশ্চয়তার মধ্যেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আশাবাদী সালমান আলি আগা। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান দলের উন্নতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগের কয়েকটি টুর্নামেন্টে আমরা সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। গত ছয় মাসে, বিশেষ করে এশিয়া কাপের পর থেকে আমরা ধারাবাহিক ভালো ক্রিকেট খেলছি।’ তিনি যোগ করেন, এই ধারাবাহিকতাই বিশ্বকাপে ভালো ফলের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে সালমান বলেন, দল এবার আত্মবিশ্বাসী এবং মাঠে তার প্রতিফলন দেখাতে মুখিয়ে আছে। ভারত থেকে ম্যাচ সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ আইসিসি প্রত্যাখ্যান করলে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। এর প্রতিবাদে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি খেলবে না পাকিস্তান। পাকিস্তানের এই অভূতপূর্ব সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ফেসবুক পোস্টে শাহবাজ শরীফকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি পাকিস্তানের এই অবস্থানকে বাংলাদেশের প্রতি গভীর ঐক্য প্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, খেলার মাঠে রাজনীতি না রাখার যে আহ্বান পাকিস্তান জানিয়েছে, তা অত্যন্ত উপযুক্ত। বাংলাদেশকে বাদ দেয়া এবং পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে আইসিসি বড় ধরনের ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হওয়া মানে কয়েক হাজার কোটি টাকার আর্থিক লোকসান, যা সামাল দেয়া আইসিসির জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।