টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে পাকিস্তান এমনটাই মনে করছেন নাজাম শেঠি। তবে বৈশ্বিক আসর নিয়ে চলমান জটিল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার দায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইকে দিয়েছেন তিনি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক প্রধানের মতে, তাদের এবারের শক্ত অবস্থানের কারণে ভালো মানের আইসিসি পাওয়া যাবে। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু এই টানাপোড়েনের। ওই ঘটনায় তুমুল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক। নিরাপত্তা শঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি তোলে বিসিবি। দীর্ঘদিনের আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দাবি নাকচ করে দেয় আইসিসি। বাংলাদেশও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ফলে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা। এই সিদ্ধান্তকে দ্বিচারিতা বলে মন্তব্য করেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, যিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। শুরু থেকে বাংলাদেশকে সমর্থন জানানো পাকিস্তানের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নিয়ে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান, এমন আলোচনাও ওঠে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পাকিস্তান দলকে বিশ্বকাপে খেলার অনুমতি দেয় দেশটির সরকার। তবে ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটি বর্জনের ঘোষণা দেয় তারা। এরপর শুরু হয় নতুন উত্তেজনা।
সবার আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অবশ্য নাজাম শেঠি বলেছেন, ভারত-পাকিস্তানের লড়াই শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াবে বলে মনে হচ্ছে তার। ‘আমি পিসিবির মুখপাত্র নই, আমি আমার মতামত জানাচ্ছি। পিসিবি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেছে, এবং তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ম্যাচের আগে আরও ১০-১৫ দিন বাকি। আমার ধারণা, আলোচনা চলছে এবং আমি আশা করি, আলোচনা ফলপ্রসূ হবে।’ তবে বিসিসিআইয়ের কড়া সমালোচনা করতে ছাড়েননি নাজাম শেঠি। তুলে ধরেন অতীতে ক্রিকেটের আরেক বির্তর্কিত অধ্যায় ‘বিগ থ্রি’ নিয়ে তাদের অবস্থানের কথাও।’ বিসিসিআইয়ের আচরণের কারণেই এসব হচ্ছে, তাদের মনোভাবই মূল সমস্যা। তারা প্রতিটি পর্যায়ে অন্যদের অপমান করে আসছে। পাকিস্তানও এক সময় একঘরে হয়ে পড়েছিল; তখন আমরা ১০ সদস্য দেশের একটি ছিলাম, কিন্তু বাকিরা ভারতের পক্ষ নিত। অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে কোনো লাভ হয়নি। ‘বিগ থ্রি’ পরিকল্পনায় অংশ হওয়ার জন্য আমরাই শেষ দল ছিলাম, আমার সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। আমরা বলেছিলাম, না, আমরা ‘বিগ থ্রি’ পরিকল্পনার অংশ হতে চাই না।’ ‘নয়টি সদস্য দেশই এতে স্বাক্ষর করেছিল। এরপর শ্রীনিবাসন আমার কাছে এসে বলেছিলেন, ‘আপনারা কেন একা হতে চানÑএই কথা, সেই কথা। এতে আপনারা একঘরে হয়ে যাবে,’ ইত্যাদি। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তাতে অংশ না নেওয়ার এবং সেটাতেই সন্তুষ্ট থাকব, কারণ নীতিটাই ছিল অসম ও অন্যায্য। পরে তারা বলল, ঠিক আছেÑআমরা এটা সংশোধন করব, অন্য সদস্যদের শেয়ার বাড়াব, আমাদেরটাও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি আগের যে ক্ষতিগুলো আমাদের হয়েছিল, তা পুষিয়ে দিতে তারা আমাদের সঙ্গে একটি সিরিজ খেলতেও রাজি হয়েছিল।’ পাকিস্তানকে কীভাবে অপমান করেছিল ভারত, তাও কিছুটা তুলে ধরলেন নাজাম শেঠি। ‘চুক্তি ঠিকঠাকই ছিল, কিন্তু এক বছর পর, সিরিজের ঠিক আগে, বিসিসিআই কোনো কিছু না বলেই চুক্তি থেকে সরে আসে। আমি সেই বছরের অক্টোবরে মুম্বাই গিয়েছিলাম চুক্তিতে সই করতে এবং সবকিছুর সমাধান করতে। কিন্তু তারা এমনকি আমাদের সঙ্গে দেখা করতে হোটেলেও আসেনি। এর চেয়ে বড় অপমান কি হতে পারে?’ এবার বাংলাদেশের সঙ্গেও বাজে আচরণ করেছে আইসিসি। আর তাই দেশ দুটি একসঙ্গে এসব অনৈতিকতা রুখে দেওয়ার জন্য আওয়াজ তুলেছে বলে মনে করছেন নাজাম। ‘তারা আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছে। এখন বাংলাদেশকে এক অর্থে পুরোপুরি অবজ্ঞা করা হয়েছে। ৪০ কোটি মানুষ একদিকে আছে-আমরা সবাই একসঙ্গে দাঁড়াতে পারি। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এখন যে চিন্তাভাবনা চলছে তার পেছনের দর্শন হলো, এখন রুখে দাঁড়ানোর সময়।’ ‘আইসিসি যেভাবে অসম ও অন্যায্য অবস্থান নেয়, আইসিসিকে বিসিসিআই চালাচ্ছে বলেই সেটা সম্ভব হচ্ছে...এতে (পাকিস্তান-বাংলাদেশের অবস্থানে) সাময়িক কিছু ক্ষতি হতে পারে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা একটি আরও শ্রেয়তর সংস্কার হওয়া আইসিসি পাব।’