বিপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে বেশ ফুরফুরে ছিল ঢাকা ক্যাপিটালস শিবির। উজ্জিবীত দল অপেক্ষায় ছিল ভালো একটা সূচনার। কিন্তু হঠাৎ ঢাকা শিবিরে শোকের ছায়া। খেলার মাঝেই ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জ্যাকি মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে যায়। রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও ঢাকা ক্যাপিটালসের ক্রিকেটাররা মাঠের দুই প্রান্তে ওয়ার্ম আপ করছিলেন। এর মধ্যেই মাঠে লুটিয়ে পড়েন ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জ্যাকি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সিপিআর দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। একটু পর জানা যায়, জ্যাকি আর নেই! তার আগে ঢাকা ক্যাপিটালস টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নামে। কোচ হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে বোলিংয়ে দুর্দান্ত করে ঢাকা।

রাজশাহী ৮ উইকেটে ১৩২ রানের বেশি করতে পারেনি। জবাব দিতে নেমে ঢাকা ম্যাচ জিতেছে ৫ উইকেটে, ৭ বল হাতে রেখে। আর নিজেদের প্রথম ম্যাচে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ৮ উইকেটে জয় দিয়ে বিপিএল শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে হোঁচট খেল রাজশাহী। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই উইকেট হারায় রাজশাহী। ঢাকার স্পিনার ইমাদ ওয়াসিমের বলে সাজঘরে ফিরেন শাহিবজাদা ফারহান। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ হাসানের সাথে ৩৯ ও ইয়াসির আলিকে নিয়ে ৩০ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তানজিদ ২০ ও ইয়াসির ১৩ রানে ফেরার পর সাজঘরের পথ ধরেন গতকাল সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে অপরাজিত ১০১ রান করা শান্ত। ২টি করে চার-ছক্কায় ২৮ বলে ৩৭ রান করেন তিনি।

দলীয় ৭৮ রানে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে শান্ত ফেরার পর আর কোন বড় জুটি না হওয়ায় ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩২ রানের মামুলি সংগ্রহ পায় রাজশাহী। পরের দিকে মুশফিকুর রহিম ২৪ ও মোহাম্মদ নাওয়াজ অপরাজিত ২৬ রান করেন। ইমাদ ৩টি ও নাসির হোসেন ২টি উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে শুরুতে উইকেট হারায় ঢাকা। ১ রান করে রাজশাহীর পেসার তানজিম হাসান সাকিবের শিকার হন ওপেনার সাইফ হাসান। পাওয়ার প্লেতে বিদায় নেন ঢাকার আরেক ওপেনার উসমান খানও। ১৮ রান করেন তিনি। চার নম্বরে নেমে ব্যক্তিগত ১২ রানে আউট হন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। এক প্রান্ত আগলে দলের রানের চাকা সচল রেখেছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। হাফ-সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৪৫ রানে আউট হন তিনি। তার ৩৯ বলের ইনিংসে ৪টি চার ও ১টি ছক্কা ছিল।

১৯ রান করে নাসির হোসেন আউট হলে চাপে পড়ে ঢাকা। ৯৮ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় তারা। তবে ষষ্ঠ উইকেটে ৩৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ঢাকার জয় নিশ্চিত করেন শামিম হোসেন ও সাব্বির রহমান। ১৩ বলে শামিম ১৭ এবং সাব্বির ১০ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ঝড়ো ২১ রান তুলে অপরাজিত থাকেন। নাওয়াজ ৪ ওভারে ২১ রানে ৩ উইকেট নেন। ৪ ওভারে ১৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন ইমাদ।