আজ থেকে শুরু হচ্ছে কাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম ওয়ানডে। সিরিজ শুরুর আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আসেন টাইগার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। সেখানে বাংলাদেশ আসলে কেমন উইকেটে খেলতে চায় বা তাদের কাছে ট্রু উইকেট মানে কি; এ নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। তবে মিরাজ নিশ্চিত করলেন, দল যেহেতু ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেটা হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়াতে, সেক্ষেত্রে আগের সিরিজের উইকেটের পুনরাবৃত্তি হবে না। টাইগার অধিনায়ক বলেন,‘আমরা নিশ্চিতভাবেই ট্রু উইকেটে খেলবো। আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে যেটা করেছি প্রত্যেক দল ঘরের মাঠে করে আর কি! প্রত্যেক দলই ঘরের মাঠের সুবিধা নিতে চেষ্টা করে।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্পিন সহায়ক উইকেটে খেলার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মিরাজ, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুইজন স্পিনার ছিল। আমরা সেই মোতাবেক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমরা ট্রু উইকেটে মনোযোগ দিতে চাই যাতে করে ব্যাটাররা আত্মবিশ্বাসী হতে পারে।’ আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতেই এখন থেকে ট্রু উইকেটে খেলার অভ্যাস করতে চান টাইগার অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘ট্রু উইকেটের কনসেপ্টটা আসলে এমনÑবিশ্বকাপে সাধারণত অনেক ভালো উইকেট থাকে এবং আমরা এখন থেকেই সেই উইকেটে খেলার অভ্যাসটা গড়তে চাই। যেহেতু ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে আমাদের সামনে অনেকগুলো ওডিআই ম্যাচ আছে, তাই আমরা যদি সর্বোচ্চ সংখ্যক ম্যাচ ট্রু উইকেটে খেলতে পারি, তবে আমাদের অভিজ্ঞতা অনেক সমৃদ্ধ হবে।’ তবে বাংলাদেশের সামনে এখন আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে দলভেদে ঘরের মাঠে সুবিধাও নিতে চান মিরাজ, ‘একই সঙ্গে আমাদের সরাসরি কোয়ালিফাই করার বিষয়টাও মাথায় রাখতে হবে। তাই যেসব দলের বিপক্ষে হোম অ্যাডভান্টেজ নেওয়া সম্ভব, আমরা অবশ্যই সেই চেষ্টা করব। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে অধিকাংশ ম্যাচ যেন ভালো ও ট্রু উইকেটে খেলা যায়।’ তবে ঘরের মাঠের সুবিধা মানেই যে বাজে উইকেটে খেলা নয়, সেটাও জানেন মিরাজ। তিনি বলেন, ‘হোম কন্ডিশন মানেই এই নয় যে আমরা অনেক বাজে বা খারাপ উইকেটে খেলব। আমরা ভালো উইকেটই দেব, শুধু চেষ্টা থাকবে যেন সেখান থেকে কিছুটা বাড়তি সুবিধা আমরা পাই।’ জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স গড়পড়তা। প্রত্যাশা আকাশচুম্বি থাকলেও প্রতিফলন নেই। সাদামাটা পারফরম্যান্সের কারণে সমালোচিতও হচ্ছেন। কিন্তু নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে মিরাজের তেমন দুর্ভাবনা নেই। তবে দ্রুতই ফর্মে ফিরবেন আশাবাদী তিনি। মিরাজ বলেন, ‘আমি চিন্তিত নই। কারণ দেখুন, সবশেষ যে সিরিজগুলো আমরা খেলেছি, গত বিশ্বকাপের পরে আমরা কতগুলো ওয়ানডে খেলেছি... প্রায় ১৫টির মতো ওয়ানডে খেলেছি হয়তো, সেগুলো অনেক বিরতি দিয়ে খেলেছি। আমার মনে হয়, আমার কাছে সবার প্রত্যাশা যেমন যে আমি অনেক ম্যাচ জেতাব, মানুষের প্রত্যাশা যেটা, হয়তো সেটা হচ্ছে না, গড়পড়তা হচ্ছে। তবে অবশ্যই চেষ্টা করব দলকে ম্যাচ জেতাতে।’ গত বছর ১১ ওয়ানডে খেলে তার ফিফটি স্রেফ একটি। ব্যাটিং গড় ছিল ১৯.১০, স্ট্রাইক রেট ৭১.৮০। বোলিংয়ের অবস্থাও পড়তির দিতে। ১১ ম্যাচে ১১ উইকেট নিতে পেরেছেন ৪১.০৯ গড়ে। নিজে পারফর্ম না করলে বাকিদের থেকে পারফরম্যান্স আদায় করা কঠিন। মিরাজ সেই অনুভব করতে পারছেন বলেই মনে হলো,‘আমি নিজেকে নিয়ে কখনোই চিন্তা করিনি। সবসময় চেষ্টা করি দলের প্রয়োজনে যতটা ভালো খেলা যায় এবং দলকে কীভাবে জেতানো যায়। অবশ্যই প্রথম অগ্রাধিকার দলের ভালো ফলাফল। দিনশেষে আমার পারফরম্যান্সও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটিং-বোলিং দুইটাই আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমি যে পজিশনে ব্যাটিং করি এবং যেভাবে যেখানে বোলিং করি, দলের জন্য অনেক কাজে লাগে। ওখানে আমার পারফর্ম করাটা খুবই জরুরি। অবশ্যই সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব পারফর্ম করার জন্য এবং দলকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য।’ এদিকে মিরাজের অধিনায়কত্বের ভবিষ্যৎ সুতোয় ঝুলে আছে। বাংলাদেশের মতো দলে অধিনায়ক পারফর্ম করতে না পারলে দলে তাকে বেশি দিন বয়ে নেয়া কঠিন। আগামী জুন পর্যন্ত অধিনায়ক হিসেবে মেয়াদ আছে তার, মিরাজ আপাতত মনোযোগ রাখতে চান এটুকু পর্যন্তই। তার ভাষ্য, ‘ওটা তো আমার একার সিদ্ধান্ত নয়, ক্রিকেট বোর্ডে যারা আছে, তাদের সিদ্ধান্ত। তারা এখনও ওই ব্যাপারে আমার সঙ্গে আলোচনা করেননি।
কাছে মনে হয়, যেহেতু এই সিরিজটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সিরিজের পরে হয়তো আলোচনা করা হবে বা তাদের সঙ্গে কথা হবে।’ তবে জুনের পরও অধিনায়কত্ব চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে তার, ‘দেখুন অধিনায়কত্ব... দলের প্রয়োজনে একজন তো অধিনায়ক থাকবেই। আমার কাছে মনে হয় যে, অধিনায়কত্ব যাকে দেওয়া হোক না কেন, তাকে সময় দিলে জিনিসটা সুন্দরভাবে গড়া যায় দলকে।’ অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে মিরাজের যাত্রাটা তেমন সুখকর নয়। ১৩ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জয় পেয়েছেন মাত্র ৩টিতে, যার দুটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে। অধিনায়কত্বে টিকে থাকতে হলে এই সিরিজে ভালো ফল পেতেই হবে তাকে। তা নিজেও ভালোভাবে টের পাচ্ছেন, ‘এই সিরিজটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার জন্য নয়, বাংলাদেশ দলের জন্য, বাংলাদেশের জন্য। কারণ বাংলাদেশ সামনে বিশ্বকাপ খেলবে। বিশ্বকাপের জন্য যে অধিনায়ক থাকুক না কেন, প্রথম অগ্রাধিকার বাংলাদেশ দল এবং সামনে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই (সরাসরি) করাটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাকে যতদিনই জন্য এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, চেষ্টা করব যে দলটাকে একটা ভালো পজিশনে নিয়ে যাওয়ার জন্য।’