গতকাল বিপএিলে দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় সিলেট টাইটানস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ম্যাচে ৪ ওভার বল করে মাত্র ৭ রান খরচ করেন নাসুম আহমেদ। উইকেট নিয়েছেন পাঁচটি। বিপিএলে স্পিনারদের মধ্যে এটাই সেরা বোলিং ফিগার। তাতেই এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। পেছনে ফেলেছেন দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। এর আগে স্পিনার হিসেবে সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ডটি ছিল সাকিব আল হাসানের। ৩.৫ ওভার বল করে ৫ উইকেটে নিতে সাকিব খরচ করেছিলেন ১৬ রান। ২০১৭ সালের বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসের জার্সিতে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়েছিলেন সাকিব। অবশ্য এত ভালো বল করেও দলকে জেতাতে পারেননি সাকিব। রংপুরের কাছ ৩ রানে হেরেছিল ঢাকা। এদিকে বিপিএলর ইতিহাসে সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ডটি পেসার তাসকিন আহমেদের দখলের। বিপিএলের গত আসরে রাজশাহীর হয়ে ঢাকার বিপক্ষে মাত্র ১৯ রান খরচ করে একাই সাতটি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তালিকার দুই নম্বরে অবস্থান মোহাম্মদ আমিরের ১৭ রানের খরচায় তিনি নেন ছয়টি উইকেট। সেই সাথে নোয়াখালী ওয়ারিয়র্সকে লজ্জার রেকর্ডে ফেলে দুই ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেয়েছে সিলেট টাইটানস। এবারই প্রথম অংশ নিয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। কিন্তু নিজেদের প্রথম আসরে সুবিধা করতে পারছে না ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। হায়দার আলী নেতৃত্বাধীন দলটি হারল টানা চতুর্থ ম্যাচে। এদিকে নোয়াখালীকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারানোর মাধ্যমে জয়ে ফিরল সিলেট টাইটানস। ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬১ রান করে নোয়াখালী। জবাবে ৬৮ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে সিলেট। মামুলি লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় সিলেট। ৫ বল খেলে মাত্র ১ রান করে আউট হন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৫৩ রান। তৌফিক খান আউট হন ৩২ রানে। পরের উইকেটে নেমে আফিফ হোসেন করেন মাত্র ২ রান। আর জাকির হাসান ফিরেছেন ২৪ রান করে। পঞ্চম উইকেটে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও মঈন আলী মিলে জয় নিশ্চিত করেন। ১ রানে মঈন ও ০ রানে ওমরজাই অপরাজিত থাকেন। এর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নামে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। কিন্তু নাসুম আহমেদের ঘূর্ণিই সামলাতে পারেননি নোয়াখালীর ব্যাটাররা। ৪ ওভার বল করে মাত্র ৭ রানের খরচায় ৫ উইকেট উইকেটে নেন নাসুম। এটাই তার বিপিএলের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। সেই সঙ্গে বিপিএলে যেকোনো স্পিনারের সেরা বোলিং ফিগারও এটি। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে সর্বোচ্চ ২৫ রানের ইনিংসটি উইকেটরক্ষক ব্যাটার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের। এছাড়া ১৮ রান করেন ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান। বাকি ব্যাটারদের কেউই দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ১৪.২ ওভারে ৬১ (সোহান ১৮, সৌম্য ৬, মুমিম ৪, নাবি ১, মাহিদুল ২৫, হায়দার ৫, হাসান ০, রানা ০, জাহির ০, বিলাল ০, আবু জায়েদ ১*; আমির ২.২-০-১৫-১, খালেদ ২-০-১১-১, নাসুম ৪-০-৭-৫, ওমারজাই ৩-০-১৩-১, মইন ২-০-৬-০, মিরাজ ১-০-৯-১)।
সিলেট টাইটান্স: ৮.৪ ওভারে ৬২/৪ (পারভেজ ১, তৌফিক ৩২, জাকির ২৪, আফিফ ২, মইন ১*, ওমারজাই ০*; হাসান ২-০-৯-০, বিলাল ২-০-১৪-১, আবু জায়েদ ১-০-১৭-০, রানা ১-০-১১-০, জাহির ১.৪-০-৮-৩, নাবি ১-০-৩-০)।
ফল: সিলেট টাইটান্স ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: নাসুম আহমেদ।