নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত দলে কোনো চমক নেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবশেষ সিরিজের দলে থাকা সব ক্রিকেটারই আছেন কিউই সিরিজের স্কোয়াডে। ফলে কারও বাদ পড়া কিংবা নতুন করে যুক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। পাকিস্তান সিরিজে ভালো করতে না পারলেও আফিফ হোসেন, সাইফ হাসানদের রেখে কিউই সিরিজের স্কোয়াড সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া যথারীতি নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাসরাও আছেন দলে। দুই ফরম্যাটে সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল আগামীকাল বাংলাদেশ সফরে আসছে। সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডে হবে মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে। সেই ম্যাচের জন্য গতকাল স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন বিসিবির নির্বাচক প্যানেল।

তিন ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলতে আগামীকাল ১৩ এপ্রিল নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল ঢাকায় পৌঁছাবে। ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচগুলো মিরপুরে ১৭, ২০ এবং চট্টগ্রামে ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ (২৭ ও ২৯ এপ্রিল) চট্টগ্রামে এবং শেষ ম্যাচ হবে মিরপুরে (২ মে)। ওয়ানডে দিয়ে শুরু হবে দুই দলের এই লড়াই। ৫০ ওভারের ম্যাচগুলো প্রথমে বিকেল ৩টায় শুরুর কথা থাকলেও, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নতুন সময় (বেলা ১১টা থেকে শুরু) চূড়ান্ত করা হয়েছে। একইভাবে ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের তিনটি ম্যাচ সন্ধ্যা ৬টায় শুরুর কথা থাকলেও, পরিবর্তিত সূচিতে তা বিকেল ৩টা করা হয়েছে। বিসিবির নবগঠিত নির্বাচক প্যানেল প্রথম দুই ওয়ানডের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। অপরিবর্তিত স্কোয়াড নিয়ে তাদের ব্যাখ্যা-দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের আরও সুযোগ দিতে চান।

মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘আমরা যখন দলটা দেখেছি, মনে হয়েছে সর্বশেষ সিরিজ তো সফল ছিল। বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছে এবং সেখানে কিছু খেলোয়াড় হয়তো সুযোগ পায়নি একাদশে। কিছু খেলোয়াড় নতুন এসেছে। আমাদের নীতি হলো, যখন কেউ আসবে, তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। যারা খেলেছে তারা খারাপ খেলেনি।

আমরা সুযোগ দেয়ায় বিশ্বাস করতে চাই, সে কারণে আমরা এই সিরিজে দল পরিবর্তন করিনি।’ এক বছর পরই ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এর আগে বড় পরিবর্তন নয়, ম্যাচ জেতার দিকেই মূল নজর নির্বাচকদের। দুটো বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধান নির্বাচক জানান, ‘আমরা বিশ্বকাপের আগে কোনও বড় পরিবর্তন করতে চাই না। যদি কাউকে দেখতে হয়, তবে আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে দেখে নেব। বাংলাদেশ দলের প্রথম প্রাধান্য হলো ম্যাচ জেতা। জেতার জন্য আমরা সেরা দলটাই বানাব। এর মধ্যে আমরা বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। তবে জেতার মানসিকতা ত্যাগ করে নয়।’ এ ছাড়া পেসার ও বিভিন্ন পজিশনের ব্যাটারদের রোটেশন নীতি নিয়ে বাশার বলেন, ‘পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টে আমাদের অনেক অপশন আছে। এখানে রোটেশন করলে আমরা খুব একটা কিছু মিস করছি না। ইনজুরি ম্যানেজমেন্টের জন্য আমরা পেসারদের রোটেট করে খেলাব। কিন্তু টপ অর্ডার এবং মিডল অর্ডারে আমাদের সেটেল হওয়া দরকার। সেখানে আমাদের কাজ করার আছে।’

সাকিবকে দলে ফেরানো নিয়ে সুমন বলেন, ‘আমার সঙ্গে সাকিবের একবার কথা হয়েছে। জিজ্ঞেস করেছিলাম প্রস্তুত আছে কি না, যেহেতু ও যেখানে আছে সেখানে নিয়মিত ক্রিকেট হয় না বা ট্রেনিংয়ের সুযোগ নেই। ফিটনেস নিয়ে কাজ হতে পারে, তবে সেখানে ক্রিকেট নিয়মিত হয় না। যদিও সে ক্রিকেট খেলছে।’ যথারীতি সাবেক এই অধিনায়কও সাকিবকে লম্বা সময়ের জন্য পাওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছেন, ‘সব যদি ঠিকঠাক থাকে সাকিবকে লম্বা সময়ের জন্যই চাই। এটাই আলাপ হয়েছে যে সে কতখানি প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক কিছু লাগে, এরমধ্যে প্রস্তুতি খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রথম দুই ওয়ানডেতে বাংলাদেশের স্কোয়াড : মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।